Home | জাতীয় | দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

abdul hamid president of bangladeshস্টাফ রিপোর্টার : রাজনীতিবিদদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি।শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। আমাদের দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির চর্চার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান ও অর্থবহ করা।”দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, “রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য থাকলেও রাজনীতিবিদদের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখার জন্য আমি আজীবন চেষ্টা করেছি। এর ফলে কিশোরগঞ্জে পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স কখনও হয়নি।“বরং দেশের ক্রান্তিকালে সবাই একে অন্যের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই সহমর্মিতাবোধ অব্যাহত রাখতে হবে।”ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে সাতবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়া এবং নবম সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা কিশোরগঞ্জের সন্তান আবদুল হামিদকে সংবর্ধনা দিতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিশোরগঞ্জ সমিতি।প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এর জন্য দরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা।”সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে ব্যক্তি,সামাজিক সংগঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রয়াস যুক্ত হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলেও তিনি মত দেন।“উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া।সরকারে দায়িত্ব হচ্ছে উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোসহ উন্নয়নবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। আর জনগণের দায়িত্ব হচ্ছে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা কার্যকর করা।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি সবার দায়বদ্ধতা রয়েছে।এ দায় ঘোচাতে প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করা।মিলনায়তনে উপস্থিত কিশোরগঞ্জ সমিতির সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবদুল হামিদ বলেন, “আমি হাওরের সন্তান,হাওরের জল বাতাসে আমি বড় হয়েছি।“ঢাকায় সুরক্ষিত প্রাসাদে বসে থাকলেও হাওরের বৈরী পরিবেশ, বর্ষাকালে ঢেউয়ের মাতম, বাড়িঘর রক্ষার জন্য হাওরের মানুষের প্রাণান্তকর চেষ্টা, শুকনো মৌসুমে রাস্তাঘাটের অভাবে মানুষের হাঁটাচলার কষ্ট আমি ঠিক অনুভব করতে পারি।”গতবছর মার্চে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান মারা যাওয়ার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। এর আগ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।কিশোরগঞ্জে হাওরের মানুষের মাঝেই রাজনৈতিক জীবন শুরু হওয়ার স্মরণ করে হামিদ বলেন, সংসদ সদস্য ও স্পিকার থাকাকালে এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমত চেষ্টা করার  পরও এলাকার মানুষের অনেক দাবিই অপূর্ণ রয়ে গেছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েও তার মন পড়ে থাকে কিশোরগঞ্জে।“রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর আমি আর কোনো একটি এলাকার প্রতিনিধি নই। তারপরও আপনাদের আমন্ত্রণে এসেছি। এখানে এলে আপনাদের সাথে দেখা হবে, দুটো কথা বলতে পারব, যা আমার জন্য কম নয়।”এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইউসুফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

একসঙ্গে সম্মাননা পাচ্ছেন আলমগীর-রুনা লায়লা

বিনোদন ডেস্ক :  দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আলমগীর অভিনেতা হিসেবে এবং রুনা লায়লা কণ্ঠশিল্পী ...

উৎসবের পর্বটা আপাতত তুলে রেখেছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: শততম টেস্টে অবিস্মরণীয় জয়ের পরও উঠেছিল এ কথা, ‘আচ্ছা এমন ...