ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | দুর্নীতির মামলাসহ দুইটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

দুর্নীতির মামলাসহ দুইটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাসহ দুইটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

পরোয়ানা জারি হওয়া অপর মামলাটি হলো যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মানহানির মামলা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এই পরোয়ানা জারি করেন।

এদিন আদালত বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার পক্ষের সময় আবেদন নামঞ্জুর করেন যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এরপর মামলাটিতে দীর্ঘদিন সাবেক এ প্রধানমস্ত্রী আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ শুনানির বক্তব্য না দিয়ে মামলার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করার অভিযোগে পরোয়ানা জারি করে।

একই মামলায় এদিন আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

একই আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার মামলায় একটি মানহানির মামলায় বৃহস্পতিবার সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নুর নবী।

মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়াকে কয়েকটি ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করার পরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় এই পরোয়ানা জারি করে আদালত।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ মামলার বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকীর পরোয়ানা জারির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ অক্টোবর সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। ওই দিন তিনি আত্মসমর্পণে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আদেশে বলা হয়। কিন্তু গত ৫ আক্টোবরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় আগামী ১২ অক্টোবর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের শেষ সুযোগ করে আদালত।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাদী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা মানহানি ঘটানোর অভিযোগে সিএমএম আদালতে এই মানহানির মামলা করেন। ওইদিন  আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

চলতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলাটিতে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যা গত ২২ মার্চ তা আমলে নিয়ে আসামি খালেদা জিয়াকে ১১ জুন আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছিল আদালত। ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন বাদী।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বাবান। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তন্মধ্যে খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিত্বপ্রাপ্ত মহিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মুত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রিত্ব দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশ প্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলণ্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হলো।’

মামলায় বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর কলঙ্কিত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক সরকারের দায়িত্ব দখল করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তাকে হুমকি তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন নাই। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর রাজাকারদের হাতে মন্ত্রিত্ব তুলে দেয়। যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা মানহানি ঘটিয়েছেন।

অন্যদিকে অন্যদিকে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেকসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

এ মামলার আসামি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

উভয় মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ...

আবারও এক ডজন সুপারস্টার নায়িকার সঙ্গে নাচছেন শাহরুখ

বিনোদন ডেস্ক :  ছবিতে অনেকগুলো নায়িকার সঙ্গে নাচছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। ...