ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | দুর্গোৎসব উপলক্ষে মূর্তি তৈরী ও রং করা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বরিশালের প্রতিমা শিল্পীরা

দুর্গোৎসব উপলক্ষে মূর্তি তৈরী ও রং করা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বরিশালের প্রতিমা শিল্পীরা

Photo- Barisalঅপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : সারাদেশের সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। কাশ ও শিউলীফুল ফোটা শরতে দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে বরিশাল শহর ও আশেপাশের উপজেলাতে মন্দিরে মন্দিরে চলছে দেবীমূর্তি তৈরীসহ ব্যাপক প্রস্তুতি। তাই আসন্ন দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্যস্থান থেকে আগত ও স্থানীয় প্রতিমা শিল্পীরা।
ফরিদপুর থেকে আসা মৃৎশিল্পী নিতাই পাল, নিমাই পাল ও আগৈলঝাড়ার জীবন পাল, মহাদেব পাল, তরণীকান্ত পাল জানান, আগামী মাসের ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এরপূর্বে ৪ অক্টোবর শুভ মহালয়া। খড়কুটো, পাট-সুতা, বাঁশ ও মাটি দিয়ে কাঠামো তৈরির মধ্যে দিয়েই প্রথম প্রকাশ হয় শিল্পীর প্রতিমা তৈরির দতা ও শিল্পীত রূপ। দুর্গোৎসবের বাকি মাত্র ২০দিন থাকায় এখন প্রতিমার দো-মাটির কাজ চলছে। সঠিক সময়ে প্রতিমা তৈরী সম্পন্ন করার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
তারা আরো জানান, এবছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে ৪০টি প্রতিমা তৈরীর অর্ডার নিয়েছেন তারা। সবথেকে ব্যয়বহুল প্রতিমা তৈরী করা হবে নগরীর সদর রোড জগন্নাথ দেবের মন্দির ও ফলপট্টি কালী মন্দিরে। আধুনিক এ প্রতিমা তৈরী করতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে। বিভিন্ন ডিজাইন ও কারুকাজ বসিয়ে প্রতিমা তৈরী করতে সময় লাগে দেড়মাস। অপরদিকে রাজধানী ঢাকা থেকে আগত মৃৎশিল্পী বলাই পাল জানান, শতাধিক বছরেরও বেশী সময় ধরে বংশপরম্পরায় এ শিল্পের সাথে জড়িত তাদের পরিবার। দেশের বিভিন্নস্থানে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রতিমা তৈরী করে থাকেন। তারা বছরের বেশির ভাগ সময় প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। এবছর বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্নস্থানে মোট ১৮টি প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন বলাই পাল। যথাসময়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা কারিগররা।
এবিষয়ে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দীলিপ ঘোষ আজ জানান, অশুভ বা অসুর শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ সুরশক্তির প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। উচু-নীচু বিভেদ ভুলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করে মহাসম্মেলন ঘটানো হয় বলে এ পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন দুর্গাপূজা বা বড়পূজা। বাংলাদেশ হচ্ছে সম্প্রীতির দেশ। এখানে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সকল ধরণের পূজা উদ্যাপন করতে পারছি। এজন্য তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাধুবাদ জানান।
তিনি আরো জানান, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে এবছর শারদীয় দুর্গাপূজার ব্যয়ভার একটু বেশি। তাছাড়া সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসছে। তাই এবছর মনোনয়ন প্রত্যাশী বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি।
এব্যাপারে বরিশাল-১ আসনের সাংসদ তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, বাংলাদেশ হলো সম্প্রীতির মেলবন্ধনের দেশ। আমরা চাই সকল ধর্ম-বর্ণ মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ঐতিহ্য ধরে রেখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে  নিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে মাছ শিকার

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী বাজারের পাশে ...

মদনে অবৈধভাবে চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণা মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও ...