Home | অর্থনীতি | ব্যবসা ও বাণিজ্য | দিলকুশা থেকে শেরে বাংলা নগরে স্থানান্তরিত হচ্ছে এসইসি’র কার্যালয়

দিলকুশা থেকে শেরে বাংলা নগরে স্থানান্তরিত হচ্ছে এসইসি’র কার্যালয়

sec bangladeshস্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কার্যালয় মতিঝিলের দিলকুশা থেকে শেরে বাংলা নগরে স্থানান্তরিত হচ্ছে। শেরে বাংলানগরে নিজস্ব সম্পত্তিতে বিএসইসি’র নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর জন্য ব্যয় হবে ৪৪ কোটি টাকা। বিএসইসি’র নিজস্ব অর্থায়নে কমিশনের অফিস ভবন নির্মানের জন্য তৈরি প্রস্তাব নিয়ে গত বুধবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলমের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে বিএসইসি কর্তৃক প্রণীত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্লান্ট (ডিপিপি) সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন করে তা অনুমোদন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএসইসি’র নিজস্ব অফিস ভবন নির্মানের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ১৩ জুন শেরে বাংলা নগরের প্লট নং ই-৬ এর দশমিক .৩৩ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করে। বরাদ্দ পত্রের শর্তানুযায়ী জমির মূল্য বাবদ ৬০ লাখ টাকা বিএসইসি ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে। ফলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে বিএসইসি’র কাছে জমিটি ইজারা দলিল রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। পরবর্তীতে কমিশনের নামে নাম জারি করা হয়, সেই সঙ্গে ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা হয়েছে।

বরাদ্দ পত্রের শর্তানুযায়ী স্থাপত্য অধিদফতর নকশা তৈরি করে। গণপূর্ত অধিদফতর সেই নকশা অনুযায়ী ২০১১ সালের তফশীল সিডিউল অনুযায়ী একটি খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে বিএসইসি’কে প্রদান করে। গণপূর্ত অধিদফতরের খসড়া ডিপিপি এর আলোকে বিএসইসি নতুন ডিপিপি তৈরি করে তা সরকারের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করে। এরপর পরিকল্পনা বিভাগের ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট অর্থ বিভাগ বিএসইসি’র অনুকূলে কয়েকটি শর্তে লিকিউডিটি সার্টিফিকেট প্রদান করে।

প্রসঙ্গত, ২০১০-১১ সালে পুঁজিবাজারের ধ্বস নামার পর সরকার বিএসইসি’কে পুর্নগঠন করে। পুর্নগঠিত কমিশন বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়। আইন-কানুনের সংশোধন, সংযোজন করে। নতুনভাবে কাজ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। গত ২ বছরে যেসব ইতিবাচক কাজ করেছে সেসব তালিকা তৈরি করে কমিশন। এ সব বিষয় তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। কমিশনের ইচ্ছা ছিল এসব পদক্ষেপের বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে। একই সঙ্গে নিজস্ব ভবন নির্মাণের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। কমিশনের ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে ভবনের উদ্বোধন করানোর। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের পরামর্শে সেখান থেকে সরে আসে।

তবে ভবন নির্মাণে আশা ছাড়েনি বিএসইসি। এ বিষয়ে গত বুধবার অর্থমন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে নিজস্ব অর্থায়নে ভবন নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়ন সচিব, অর্থবিভাগ সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিএসইসির চেয়ারম্যান, স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিশ্বের শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্যা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনের (আইওএসসিও) ‘এ’ এপ্রেনডিক্স ক্যাটাগরির সাধারণ সদস্য পদ লাভ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

উল্লেখ্য, বর্তমানে এসইসি সাধারণ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত সদস্য।

জানা গেছে, যেসব নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতামূলক বাজার ব্যবস্থা প্রবর্তণ করতে পেরেছে, কেবল তারাই ‘এ’ ক্যাটাগরি সাধারণ সদস্য পদ পায়। আগামী ডিসেম্বরে সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন পেতে পারে। আইওএসসিও বিশ্বের সকল শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়ন করে থাকে। সদস্য সংস্থাগুলোকে ওই নীতি অনুসরণ করতে হয়।

জানা গেছে, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ার জন্য আইওএসসিও বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তিনটি শর্ত দিয়েছিল। ইতিমধ্যে শর্তগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। সরকারও এক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে বলে বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, আইওএসসিও এর পক্ষ থেকে এ ক্যাটাগরির সাধারণ সদস্য পদ পাওয়ার জন্য এসইসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার শর্ত দেয়। এসইসি আইনের মাধ্যমে এখনই একটি স্বায়ত্বশাষিত সংস্থা। তবে এর বাজেট ও জনবল নিয়োগ সরকারের অনুমোদন ব্যতিত হয় না। এসইসি আইনের সংশোধন করে এ ক্ষমতাও এসইসির কাছেই আনতে যাচ্ছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা আইনের সংশোধনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

এছাড়া শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিস্পত্তির জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের শর্ত দিয়েছিল। এটি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ চলছে। শিগগিরই জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসইসি এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হলে বিদেশে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ভাবমুর্তি বাড়বে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও এ বাজারে বিনিয়োগে উৎসাহি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কেজিপ্রতি আদার দাম বেড়েছে ৭০ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বড় কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজার। এখানে পাইকারি ও খুচরা- দু’ভাবে শাক-সবজি ...

ঈদে আখাউড়া স্থলবন্দরে ৬ দিনের ছুটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রফতানিমুখী ...