Home | বিবিধ | স্বাস্থ্য | দিনাজপুরের ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্বেচ্চাচারীতার রাহুগ্রাসে জিম্মি

দিনাজপুরের ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্বেচ্চাচারীতার রাহুগ্রাসে জিম্মি

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ অনিয়ম,দূর্নীতি ও স্বেচ্চাচারীতার রাহুগ্রাসে জিম্মি হয়ে পড়েছে,দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ইউএইচএফপিও) ডা.আজমল হোসেন রাম রাজত্বে পরিনত হরেছে এই সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানটি। তিনি যা ইচ্ছা,তাই করছেন। যখন খুশি,তখন থাকছেন। বাকি অধিকাংশ সময় কাটাচ্ছেন বেসরকারী স্বাস্থ্য ক্লিনিক-হাসপাতালে। সপ্তাহে দু’ তিনদিন অফিস করেন না তিনি। যেটুকু সময় অফিস করেন,সে সময়টুকু অনিময় আর দূর্নীতি’র রামরাজত্ব চালান।
স্বাস্থ্য সেবার নামে রোগিরা প্রতিনিয়ত এ হাসপাতালে হয়রানী ও প্রতারনার শিকার হচ্ছেন।এমন অভিযোগ এলাকার বেশ কয়েকজন মানুষের। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ইউএইচএফপিও) ডা.আজমল হোসেনের সব অপকর্মের সহযোগি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও)ডা.মর্তূজা মামুন,স্টোর কিপার আব্দুল হাই,জরুরী বিভাগের ইনচার্জ ভক্কা চন্দ্র পাল,অফিস সহকারী মঞ্জুর,সুজা,নৈশ্য প্রহরী সিরাজুল ইসলাম,ডায়েট কন্ট্রলার মানু,ইপিআই টেবনেশিয়ান খবির উদ্দিন রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা কেউ কেউ তা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ইউএইচএফপিও)ডা.আজমল হোসেন আমাদের জিম্মি করে রেখেছেন। ডা. আজমল প্রতি বৃহস্পতিবার পীরগঞ্জ এবং লালমনির হাটে চেম্বার করেন। এছাড়াও অনেক সময় তিনি বিভিন্ন কার্য দিবসে না আসলেও অফিসের লোকজন তার দোসরদের মাধ্যমে জানান,তিনি ট্রেনিং বা ছুঁটিতে আছেন। বাইরে মিটিং এ আছেন,ইত্যাদি বলে কাটিয়ে দেন। দায়িত্ব দিয়ে যান ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও)ডা.মর্তূজা মামুনকে। তিনি আবার ইনডোরে রোগি’র সংখ্যা ৬/৭ জন হলে তা কাগজ-কলমে দেখান ২৫/২৭ জন। এসবের ডায়েটের টাকা ভাগাভাগি করে নেন তারা। এমন অভিযোগ উঠছে প্রতিনিত। এছাড়ও রোগিদের পরিবেশন করেন নিম্মমানের খাবার। খাসির মাংসের পরিবর্তে ছোট পচাঁ মাছ,মোটা চালের ভার,পঁচা গমের আটার রুটি,আঙ্গুল আকৃতি সাগর কলা,পঁচা ডিম, বাসি পাউরুটি। এসবের কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে(ভর্তি রোগি) বের করে দেযা হয়। পাঠিয়ে দেয়া হয় তাদের নির্দিষ্ট বেসরকারী ক্লিনিকে। পরীক্ষা-নীরিক্ষাও করা হয় বাইরের পছন্দের ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারে।
সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ইউএইচএফপিও)ডা.আজমল হোসেন ছুঁটিতে বাইরে রয়েছেন। তার পদস্থলে দায়িত্বে রয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও)ডা.মর্তূজা মামুন। সেদিন দুপুরে কাগজ-কলমে আবাসিক(ভর্তি) রোগিদের জন্য খাসির মাংস বরাদ্দ থাকলেও হান্ডিখানা( রান্নাঘর) গিয়ে দেখা যায়, রান্নœা হয়েছে,নিম্মসানের মাছ। তবে এ বিষয়টি স্বচোখে দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও)ডা.মর্তূজা মামুন দেখে জানান,কেনো এমন হলো এজন্য তিনি ডায়েট বরাদ্দকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। ইনডোরে রোগির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন,চিরিরবন্দরের লোকজন কেমন তা সবাই জানেন। তারা বিশেষ বিশেষ দিনে ভালো খাবারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। খাবার নিয়ে পালিয়ে যান। আর সরকারি হাসপাতালে কি হয় তা সবাই জানেন। এসব বলে লাভ নাই।
তবে,তার এ কথার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় আসিউর রহমান বলেন, “ডাক্তার মামুন সাহেব চিরিরবন্দরে চাকুরী করে,চিরিরবন্দরবাসী’র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে, শাক-দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য। আসলে তারা দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। যা চিরিরবন্দরবাসী’র জন্য অপবাদ ও লজ্জাকর ব্যাপার।আমি ডাক্তার সাহেবের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও)ডা.মর্তূজা মামুন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ইউএইচএফপিও) ডা.আজমল হোসেন খুব ভালো মানুষ। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর হাসপাতালের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়নে ফুলের বাগানও লাগানো হয়েছে হাসপাতাল চত্বরে।
এসময় তিনি তার মুঠোফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(ইউএইচএফপিও) ডা.আজমল হোসেনের সাথে কথা বলিয়ে দেন। ডা.আজমল হোসেন বলেন,তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বানোয়াট। একটি বিশেষ মহল ঈর্ষানীত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়াচ্ছে,ফায়দা হাসিলের জন্য।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে,বিভিন্ন ট্রেনিং এর বরাদ্দকৃত সম্মানি ভাতা আত্মসাৎ করেন ডা.আজমল হোসেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের ডাক্তারদের ৩ হাজার ৩৫ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ৭ হাজার ৫’শ করে টাকার ভাউচারে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছেন। এ অভিযোগ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মওলা বক্স চৌধুরী’র কাছেও গিয়েছে বলে তিনি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। অফিসের কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় আপাততঃ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
বরাদ্দকৃত ওষুধ নিয়েও চলছে তুঘলকি কারবার। ওষুধের হিসাব-নিকাশেরও হদিস নেই হাসপাতালে। ওষুধ আসলে যায় কোথায় ? তা নিয়েও সন্ধিহান খোদ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। রোগি বহনে এ্যাম্বুলেন্সের হিসেব-নিকেশও রয়েছে প্রচুর গড় মিল। মজার বিষয় এ্যাস্বুলেন্স নির্দিষ্ট চালক না চালিয়ে হাসপাতালের নৈশ্য প্রহরী সিরাজুল ইসলাম চালান। এ টাকা তাদের মধ্যেই ভাগাভাগি হয়ে যায়। অদক্ষ একজন নৈশ্য প্রহরীকে দিয়ে রোগির এ্যাম্বুলেন্স চালানোর সময় যে কোন ধরনের বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে বলে এলাকার সচেতন মহল অভিযোগ তুলেছেন।
সরকার যেখানে স্বাস্থ্য সেবার জন্য কোটি কোটি টাকা ভূর্তুকি দিচ্ছে। সেখানে দূর্নীতিবাজদের কারণে সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে। দূর্নীতিবাজ চিকিসৎকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ বিষয়ে উধবর্তন কর্তৃপক্ষের একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মাদারীপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাাস ক্যাম্পেইনের প্রেস ব্রিফিং

মাদারীপুর প্রতিনিধি :-ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ান, শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি কমান এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে ...

ফুলবাড়ী পৌরসভায় জাতীয় ভিটামিন এ’প্লাস ক্যাম্পেইন

মো. আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভা সভাকক্ষে জাতীয় ...