Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | দিনাজপুরের বিরলে পুলিশের নেতৃত্বে এক ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ৫২ হাজার টাকা, বিবাহ বিচ্ছেদ

দিনাজপুরের বিরলে পুলিশের নেতৃত্বে এক ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ৫২ হাজার টাকা, বিবাহ বিচ্ছেদ

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এক হিন্দু গৃহবধূর ইজ্জতের মুল্য ৫২ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে থানা চত্বরে শালিশী বৈঠক। বৈঠক শেষে ধর্ষিতাকে তার স্বামী বিবাহ বিচ্ছেদ করায় ধর্ষিতার ঠাই মিলেছে তার পিতৃগৃহে। অন্যদিকে ২০ ঘন্টা আটক রেখে ধর্ষককেও হাজত থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিরাজ করছে উত্তেজন।

বিরল থানা চত্বরে শুক্রবার দুপুরে পুলিশের নেতৃত্বে শালিস বৈঠকে প্রকাশ্যে এক হিন্দু গৃহবধূর ইজ্জতের মুল্য ৫২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক শেষে ২০ ঘন্টা পর ধর্ষককে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। বৈঠকে বিরল উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা বেগম সোনা, ইউপি সদস্য রাজা দশরথসহ আওয়ামীলীগনেতা কয়েকজন নেতা এবং পুলিশ উপস্থিত ছিলো। শালিশী বৈঠকে ধর্ষিতাকে তার স্বামী কুথার চন্দ্র এফিডেফিটের মাধ্যমে বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করায় ধর্ষিতা গৃহবধু পিতার বাড়ীতে অংশ নিয়েছে।

গত বুধবার রাত ৮ টার দিকে উপজেলার রাণীপুকুর ইউপি’র বরাহ নগর গ্রামের আব্দুস ছালামের বখাটে ছেলে মহিদুর (১৮) একই ইউপি’র হালজায় গ্রামের এক হিন্দু গৃহবধূ (২০)’র ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতার চিৎকারে ধর্ষিতার স্বামীসহ এলাকার লোকজন ছুটে এসে ধর্ষক মহিদুরকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করলে গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার দিকে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ একটি স্বার্থন্বেষী মহল বিষয়টি এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় বিরল থানার এসআই আশরাফুল সঙ্গীয়ফোর্স পিকআপ ভ্যাননিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্ষক ও ধর্ষিতাকে থানায় নিয়ে আসে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এব্যপারে থানায় কোন মামলা হয়নি। শুক্রবার দুপুরে এসআই আশরাফুলের নের্তৃত্বে বিরল থানা চত্বরে একটি শালিশ বৈঠক বসানো হলে গৃহবধূ ধর্ষিতার ইজ্জতের মুল্য ৫২ হাজার টাকা নির্ধারন করে প্রায় ২০ ঘন্টা পর ধর্ষক মহিদুলকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে ধর্ষিতাকেও ২০ ঘন্টা ধরে থানায় রাখা হলেও তার কাছ থেকে কোন মামলা নেয়া হয়নি এবং তাকে কোন ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়নি বলে ধর্ষিতার পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টির ব্যাপারে এসআই আশরাফুল সব জানেন। এসআই আশরাফুল জানান, থানায় শালিস বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষকের পক্ষ থেকে ধর্ষিতাকে নগদ ৫২ হাজার টাকা নিয়ে দিয়ে ধর্ষককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে ধর্ষক ছাড়া পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শালিস বৈঠকে সাথে সাথে ধর্ষিতার স্বামী কুথার চন্দ্র এফিডেফিটের মাধ্যমে ধর্ষিতাকে ডিফোর্স দেয়ার ঘোষণা দিলে তার কাছ থেকেও ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় এবং ধর্ষিতাকে রাঙ্গণ গ্রামের তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ আইন জানেনা না-কি আইনের ব্যবহার জানেনা। যদি আইন জেনে থাকে তা হলে একটি ধর্ষণ ঘটনায় আসামীকে ২০ ঘন্টা থানা হাজতে আটক রাখার পর টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হলো কেন? আর যদি ঘটনা মিথ্যা হয় তাহলে শালিস বৈঠকে প্রকাশ্য ওই গৃহবধূর ইজ্জতের মুল্য ৫২ হাজার টাকা নেয়া হলো কেন?  প্রশ্ন এ নিয়ে বিরাজ করছে চরম উক্তেজনা।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে,ধর্ষককে রক্ষার দায়িতে থাকা পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা এক লাখ টাকা  উৎকোচ  নিয়েছে ধর্ষকের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও দুই মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :   বকেয়া পরিশোধ না করায় ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা ও বাংলাদেশের একমাত্র ...

‘সংবিধান অনুযায়ী সব করতে দেয়া হলে এত দুর্নীতি হতো না’

স্টাফ রিপোর্টার :  প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা বলেছেন, সংবিধান এবং ...