ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | পরিবেশ | দিনাজপুরের ইট ভাটায় ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি : উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকীর মুখে

দিনাজপুরের ইট ভাটায় ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি : উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকীর মুখে

Top Soil -01_0004শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যততত্র গড়ে  উঠেছে ইটভাটা। ফসলি জমি ধ্বংস করে এসব ইটভাটায় ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর ও সারযুক্ত উপরিভাগের মাটি। এতে করে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। জমি হারিয়ে ফেলছে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা। এমনিতেই বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় দিনে দিনে কমে যাচ্ছে আবাদী জমি। তার উপর অবশিষ্ট আবাদী জমির উর্বর এই মাটি কেটে নেয়া হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। অন্যদিকে এসব ইট ভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ঘটছে পরিবেশ বিপর্যয়, কমে যাচ্ছে বনাঞ্চল ও ফসলী জমি।  এমটাই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিনাজপুরে ঘন বসতি ও ফসলী জমিতে গড়ে উঠেছে ইট ভাটা।ছোট বড় দিলে প্রায় ১৬০টি ইটভাটা রয়েছে এ জেলায়। আর এসব ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর পাশাপাশি আবাদি জমির পলী মাটি থেকে তৈরি করা হচ্ছে ইট। ইট তৈরীর জন্য কাটা হচ্ছে জমির উপরিভাগের মাটি। শ্রমিকেরা এসব মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে পার্শ্ববর্তী ইট ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। যেগুলো মাটি পোড়ানোর মাধ্যমে তৈরী করা হচেছ ইট। জমির মালিকরা মাত্র ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ভাটার নিকট জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন।
আর জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে জমির উপরিভাগে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চির মধ্যে থাকা জমির খাদ্যকণা ও জৈব উপাদান নষ্ট হচ্ছে। ফলে ওইসব জমিতে যে ফসল আবাদ হয় তার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও জমির উপরিভাগ কাটার ফলে জমি নিচু হয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ওইসব জমিতে ধান রোপন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। জমির মাটি কাটলে আবাদ একটু কমে যাওযার কথা স্বীকার করে জমির মালিকরা।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম, জানয়েছেন, এসব ইট ভাটার ফলে এক দিকে যেমন আবাদি জমির উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে অপরদিকে উজার হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের ।জমির মালিকরা বলছেন, এভাবে জমির উপরিভাগ কাটা হলে কি ক্ষতি হয় তা তারা তেমন জানেন না। তবে কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে-এমন কথা স্বীকার করে তারা বলেন, অনিচ্ছা সত্বেও বাধ্য হয়ে তারা জমির মাটি বিক্রি করছেন। কারন, পাশ্ববর্তী জমি কেটে ফেললে জমিতে পানি ধরের রাখার স্বার্থেই তাদের জমি কেটে সমান করতে হচ্ছে।
বেসরকারী এক হিসেব অনুযায়ী গড়ে ্প্রতিটি ইটভাটা এক মৌসুমে ৩০ লাখ ইট উৎপাদন করে থাকে।১শ ২০ ফুট চিমনি বা নতুন নিয়মে জিগজ্যাগ চিমনির কোনটাই নেই দিনাজপুরের অধিকাংশ ইট ভাটায়। গড়ে ১ ফুট গভীরতায় মাটি কাটা হলে একটি ভাটার জন্য বছরে মাটির প্রয়োজন হয় ১৫ থেকে ১২ একর জমির। সেই হিসেবে অনুযায়ী দিনাজপুরে ১৬০টি ইটভাটার কাজে ব্যবহারের জন্য বছরে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার একর জমির মাটি কাটা হয়। দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্রিকা বিখাগের প্রফেসর ড. মোঃ শাহাদৎ হোসেন খান বলছেন, মাটির উপরিভাগে যে গুরুত্বপূর্ণ জৈব পদার্থ থাকে তা নীচের মাটিতে থাকে না। জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলা হলে আগামী ২০ বছরেও সেই জমির প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থের ঘাটতি পুরন হবে না।  এ জন্য আবাদী জমির মাটি ব্যবহার না করে ইটভাটায় পতিত জমি কিংবা পুকুর কেটে মাটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এভাবে ফসলি জমির মাটির উপরি অংশ কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমির ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকাংশে কমে যাবে। এক পর্যায়ে এসব জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে হুমকীর মুখে পড়বে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ই্ট ভাটার আগ্রাসনে বিনষ্ট হচ্ছে তিন ফসলী জমি। বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের। এসব অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ ও ইট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সেন্টমার্টিন দ্বীপ : বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দ্বীপের জীব-বৈচিত্র

সেন্টমার্টিন দ্বীপের চেহারা দিন দিন বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। পর্যটকের পরিমাণও দিন দিন ...

রাজবাড়ীতে জলবায়ু পরিবর্তনে কৌশল পত্র ও কর্মপরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রুরেলুর রহমান, রাজবাড়ী : ”জন অংশ গ্রহন, বাস্তবায়ন ও সমন্বয়” এই স্লোগানকে ...