Home | রাজনীতি | দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কুষ্টিয়ার চারটি আসন ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ: ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপি

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কুষ্টিয়ার চারটি আসন ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ: ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপি

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : আগামী দশদ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে কুষ্টিয়ার চারটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা। আগামী নির্বাচনে আসন ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলই মরিয়া হয়ে উঠেছে। জেলায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সংসদ নির্বাচন নিয়ে কুষ্টিয়া জেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও দলের টিকেট পেতে দৌড়ঝাঁপ ও দেনদরবারে তৎপর হয়ে উঠেছেন। মতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে গ্রুপিং রয়েছে। কোন কোন সম্ভাব্য প্রার্থী ইতিমধ্যেই মনোনয়ন যুদ্ধে জিততে জোরালোভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। কুষ্টিয়া জেলায় ৪টি সংসদীয় আসন রয়েছে। কুষ্টিয়া-১ আসনে (দৌলতপুর উপজেলা ) মতাসীন আওয়ামী লীগে গ্রুপিং তীব্র হয়েছে। উপজেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাড. আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশাকে। বর্তমান সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন এতে ুব্ধ হয়েছেন। আফাজ উদ্দিন ও সরোয়ার জাহান বাদশা দু’জনই মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ মোল্লা বাচ্চু ও আলতাফ হোসেনের মধ্যে তীব্র গ্রুপিং চলছে। গত নির্বাচনে আলতাফ হোসেন দলীয় মনোনয়ন পান। এ ছাড়াও অ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন, রেজাউল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, নাসির গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসির বিশ্বাস এবং উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক নূর কুতুবুল আলম এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী। কুষ্টিয়া-২ আসনে (মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা) মহাজোট থেকে জাসদ সভাপতি তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মনোনয়ন পেয়ে গত সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। এবারও তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি নিয়মিত এলাকায় আসছেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরীর ছেলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর মহিলা দল নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন। তারা সকলেই তৎপর হয়ে উঠেছেন। নানাভাবে কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। ১৮ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াহেদও মনোনয়ন চাইবেন বলে দলটির একাধিক সুত্র জানায়। কুষ্টিয়া-৩ আসনে (সদর উপজেলা) আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি ইদানিং কুষ্টিয়া সফর বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলি বলেন, দলের হাই কমান্ড থেকে গ্রীন সিগনাল পেলে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম মাঠে নামবেন। দলীয় কর্মীদের সাথে তিনি যোগাযোগ রাখেন। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, হানিফ কুষ্টিয়া-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এ আসনে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্য সোহরাব উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিনহাজুর রহমান আলো, সদর থানা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক শিল্পপতি প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। কুষ্টিয়া-৪ আসনে (কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা) আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্য সুলতানা তরুন, আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান ও আব্দুর রউফ। সুলতানা তরুন ও সদর খানের মধ্যে সম্পর্ক খুবই খারাপ। দলের তৃণমূল কর্মীরাও দু’ শিবিরে বিভক্ত। দু’জনই মাঠ পর্যায়ে তৎপর রয়েছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা সভাপতি সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা আহমেদ শরীফ, বিএনপি নেতা আনসার আলি প্রামাণিক ও খোকসা পৌর মেয়র আনোয়ার আহমেদ তাতারি। জামায়াতের মাওলানা শামসুদ্দিনও মনোনয়ন চাইবেন ১৮ দলীয় জোটের কাছে। এদিকে, জাতীয় পার্টি কুষ্টিয়া-১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী কোরবান আলি, কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে মো. বদরুদ্দোজা গামা ও কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে মিয়া মহম্মদ রেজাউল হক নির্বাচন করবেন। দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিয়া মহম্মদ রেজাউল হক বলেন, অনেক আগেই তাদের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলি বলেন, এ জেলায় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়নি। সরকারের সফলতাগুলো জনসমে তুলে ধরা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পরে শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা করে সংগঠনের কর্মীদের চাঙ্গা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি দাবি করেন আগামী নির্বাচনে তারা জয়ী হবেন। বিএনপি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্য সোহরাব উদ্দিন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা হচ্ছে। বড় দলে গ্রুপিং থাকতে পারে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে নেতাকর্মীরা তার জন্য কাজ করবে। তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন হলে ৪টি আসনে তারা জয়ী হবেন বলে তিনি দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক : রওশন এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার :  জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, আমাদের ...

নয়াপল্টন থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৭ নেতা আটক

স্টাফ রিপোর্টার :  রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের ...