Home | শেয়ার বাজার | দরপতন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা

দরপতন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা

dse photoস্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নানা প্রণোদনা আর পদক্ষেপের পরও দরপতন ঠেকাতে বা বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে পারেনি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বরং বাজার আরো নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। বর্তমানেও পতনের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আবারো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এদিকে ২০১০ সালের ধসে পুঁজিহারা বিনিয়োগকারীর পরিবার-পরিজন বিগত বছরগুলোতে ঈদ করাও ভুলে গেছেন। কোরমা-পোলাও দূরে থাক, অনেকের ভাগ্যে জোটেনি সামান্য শেমাই। সমাগত আরেকটি ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। এসব বিনিয়োগকারীর কুরবানি দেয়া তো পরের কথা, অধিকাংশের কপালে জুটবে না সামান্য মাংসও। বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন- শেয়ারবাজারে আর কত কুরবানি দিতে হবে তাদের, প্রধানমন্ত্রী কী পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেন না?

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে স্টেক হোল্ডাররা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি। অথচ ২০১০ সালের শেষদিকে ভয়াবহ ধসে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এমনকি বিনিয়োগকারীরা বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজপথে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরেও থামেনি দরপতন বা বাজার ফেরেনি স্থিতিশীলতায়। পরে বিনিয়োগকারীদের আন্দোলন ও ব্যাপক দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজার স্থিতিশীলকরার লক্ষ্যে বাজার সংশ্লিষ্ট সব স্টেক হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর গণভবনে বৈঠক করেন। সে সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দীর্ঘ বৈঠকে স্টেক হোল্ডাররা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে অনুযায়ী তারা কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেনি। বাজার সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডাররা বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগের বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ছিল শুধু লোক দেখানো কার্যক্রম। অন্যদিকে তাদের নানা প্রতিশ্রুতিতে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী বাজারের সাথে যুক্ত হলে তারাও লোকসানে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এ প্রসঙ্গে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে যে বৈঠক করেছিল, তা বাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু ওই সময় বাজার এক সপ্তাহ ভালো থাকলেও পরে আবার নেতিবাচক ধারায় চলে যায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে একটু-আধটু ভালো থাকলেও অধিকাংশ সময়ে নেতিবাচক অবস্থায় ছিল বাজার। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও সরকারের ইজেম রক্ষায় বাজার ও বিনিয়োগকারীদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর খোঁজ নেয়া প্রয়োজন বলে হাউজ কর্মকর্তারা মনে করেন।

উল্লেখ্য, বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গত ২০১১ সালে ১৬ নভেম্বর বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএএমসি)।
এদিকে শেয়ারবাজার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে নেয়া বৈঠকের দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজার ৯৮৭ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। এরপর চলতি বছর ২৭ জানুয়ারি যখন নতুন সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট ধরে চালু করা হয়, তখন ডিএসই সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজার ১৭১ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। পরবর্র্তীতে ৩১ জুলাই যখন সাধারণ সূচক তুলে দেয়া হয়, তখন সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজার ৩৪২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৩ হাজার ৯৪০ পয়েন্ট। ওই সময় বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। বর্তমানে ডিএসইএক্স সূচক ৩ হাজার ৮২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ডিএসইতে সূচকের উত্থান, সিএসইতে পতন

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার উত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ...

পুঁজিবাজারে বেড়েছে লেনদেন ও শেয়ারের দর

স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ মে) বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ...