Home | সারা দেশ | দধি-মিষ্টি তৈরী করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ময়রা ও কারিগররা : আগৈলঝাড়ার দধি-মিষ্টির চাহিদা এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে আগৈলঝাড়াঃ মিষ্টির দোকানে তৈরীকৃত দধি-মিষ্টি।

দধি-মিষ্টি তৈরী করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ময়রা ও কারিগররা : আগৈলঝাড়ার দধি-মিষ্টির চাহিদা এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে আগৈলঝাড়াঃ মিষ্টির দোকানে তৈরীকৃত দধি-মিষ্টি।

Agailjhara Map অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রসিদ্ধ ময়রা ও সুদক্ষ কারিগররা জীবন-জীবিকার তাগিদে দধি-মিষ্টি তৈরী করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন তারা। দেশের ঐতিহ্যবাহী আগৈলঝাড়ায় তৈরি দধি-মিষ্টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেছে। ভোজন বিলাসী মানুষের কাছে এ উপজেলার দধি-মিষ্টি ছাড়া রসনা অপূর্ণ থেকে যায়। ঐতিহ্যগত কারণেই ক্রেতা সাধারণের কাছে দধি-মিষ্টি লোভনীয় সামগ্রী। চাহিদার সাথে সাথে কিছু অসাধু ময়রা অধিক মুনাফার লোভে গুণগত মান খারাপ করে থাকে। তারই মধ্যে সুনামকে ধরে রাখতে মুনাফার কথা চিন্তা না করে ঐতিহ্যগতভাবে দধি-মিষ্টি তৈরী করে আসছে অনেক ব্যবসায়ী। বর্তমানে ভাল জিনিস তৈরি করা খুবই কষ্টকর। এসব কথা জানান দীর্ঘদিন যাবৎ দধি-মিষ্টি তৈরির পেশায় নিয়োজিত আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের শান্তিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক পরিমল চন্দ্র কর, মন্ডল মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক ও প্রসিদ্ধ ময়রা আশুতোষ মন্ডল, সাহেবেরহাটের খ্যাতনামা ময়রা গোকুল মন্ডল, জগদীশ সরকার, গৈলা বাজারের শ্রীদূর্গা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক গোঁসাই দাস।
আগৈলঝাড়ার ঐতিহ্যবাহী দধি, মিষ্টি ও ঘি’য়ের সুনাম শুধু বাংলাদেশেই নয় বহির্বিশ্বেও এর সমান কদর রয়েছে। বহুকাল আগে থেকে দধি,মিষ্টি, ঘি’য়ের জন্য এ এলাকা বিখ্যাত। সারাদেশে আগৈলঝাড়ার দধি, মিষ্টি, ঘি’য়ের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিবাহ অনুষ্ঠান, বৌভাত, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দধি-মিষ্টির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা আসেন। প্রতিদিন কয়েকশ’ মন দধি-মিষ্টি এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনা, মাদারীপুর, সিলেটসহ বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হয়। দেশের বাইরেও আগৈলঝাড়ার দধি-মিষ্টি ও ঘি’য়ের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। আগৈলঝাড়ার দধির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ১০-১৫ দিনেও যেকোন আবহাওয়ায় নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা নেই। যেকোন যানবাহনে সহজে বহনযোগ্য শুকনো মিষ্টি একমাসেও নষ্ট হয়না। এখানকার ঘি’য়ের চাহিদাও ব্যাপক যা একবছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ১৫ প্রকারের মিষ্টিজাত দ্রব্য তৈরী করা হয়। বর্তমানে ১৫ প্রকারের মিষ্টান্ন দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে দধি, চমচম, কালোজাম, শুকনো মিষ্টি, বড় রসগোল্ল¬া, রসমালাই, ছানার সন্দেশ, ক্ষিরপুরী, মেওয়া, ছানার জিলাপী উল্লেখযোগ্য। তারা আরও জানান, সরকারী বা বেসরকারীভাবে কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না দধি-মিষ্টি প্রস্তুতকারীরা। চড়াদামে বাজার থেকে দুধ ক্রয় করতে হচ্ছে। তাছাড়া ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাকড়ি ক্রয়, কর্মচারীদের বেতন, মাটির ভাঁড়সহ বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয় করে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের এ ব্যবসায় এখন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আগৈলঝাড়ার ঐতিহ্যবাহী দধি, মিষ্টি, ঘি’য়ের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ বিতরণ, দুধের পাইকারি বাজার ও ডেইরী ফার্ম স্থাপন এখন জরুরী হয়ে পরেছে। এজন্য তারা সরকারের উর্ধতন মহলের পদক্ষেপ কামণা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে অনিয়মের তদন্ত, কালিয়াকৈরে সহকারী দুই শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

গাজীপুর প্রতিনিধি ॥ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সেওড়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ...

গাইবান্ধায় আমার বাংলা বিদ্যাপীঠে অগ্নিকান্ডে ৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

সুমন কুমার বর্মন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার বাংলা ...