ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | দক্ষিণ চট্টগ্রামে ঈদ ও পূজাকে টার্গেট করে জাল টাকার নোটের ছড়াছড়ি

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ঈদ ও পূজাকে টার্গেট করে জাল টাকার নোটের ছড়াছড়ি

Nakol Takaলোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : সামনে ঈদ-উল-আযহা ও দূর্গ পূজাকে টার্গেট করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাট বাজারে এখন জাল টাকার নোটের ব্যাপক ছড়াছড়ি। নোটগুলো দেখতে প্রায় হুবহু একই রকম হওয়ায় কোনটি আসল আর কোনটি নকল সাধারণ চোখে দেখে বোঝার কোন উপায় নেই। আসল আর নকলের এই দ্বন্দিকতায় প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী যার কাছে জাল টাকা পাওয়া যাবে তিনিই অপরাধী বলে বিবেচিত হবে। এই নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

একাধিক বিশ্বস্থ সূত্র জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা ও বোয়ালখালী উপজেলার হাট বাজারগুলোতে জাল টাকার নোট ছড়িয়ে পড়েছে। তাই কেনাকাটার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ঈদ বাজার উপলক্ষে কেনাকাটার ঝামেলার মধ্যে জাল নোটের সাথে জড়িতরা কৌশলে এসব নোট চালিয়ে যাচ্ছে।  ব্যাংক, বীমা থেকে শুরু করে গ্রামীন হাট বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সুকৌশলে এসব জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিন এলাকার হাট-বাজার গুলোতে কোথাও না কোথাও ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত জাল নোট সনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জাল নোটের খপ্পরে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাল নোটের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হওয়া একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, প্রচলিত ১০০ টাকার নোটের সাথে জাল ১০০ টাকার নোটের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। গভর্ণর কর্তৃক স্বাক্ষর, স্বাক্ষরের বামপাশে বিশেষ ফিতায় বাংলাদেশ লেখা, নম্বরযুক্ত সাদা অংশের মধ্যে বাঘের মাথা ও ব্যাংকের মনোগ্রামের জলছাপ প্রায় হুবহু একই রকমের। আবার ১০০ টাকার নোটের স্মৃতি সৌধ চিত্র সম্বলিত পিটের জলছাপের সাদা অংশের বামপাশে চিকন বর্ডারের চতুর্ভূজের মাঝে গাঢ় নীল ও আকাশী রঙের সমন্বয়ে ইংরেজীতে বি অক্ষরের ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। লোহাগাড়ার জনৈক ব্যবসায়ী জানান, ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে গিয়ে টাকা বান্ডিলের মধ্যে জাল নোট পাওয়া গেছে। অপরদিকে, আরেক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিবেশী একজনের কাছ থেকে সম্প্রতি পাওনা টাকা নিতে গিয়ে দেখি ১০ হাজার টাকার বান্ডিলের মধ্যে দুইটি জাল পাঁচশ টাকার নোট। তিনি আরো জানান, বেচাকেনার ঝামেলার মধ্যে অনেক সময় আসল আর নকল নোট চিহ্নিত করা যায়না। ফলে ক্রেতাদের দেয়া টাকার মধ্যে জাল নোট পড়ে যাচ্ছে। অপর এক ব্যবসায়ী জানান, ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে বাজারে জাল নোট সরবরাহকারীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সারাদিন কেনাকাটা শেষে টাকা হিসাবের সময় প্রায়ই প্রতিদিনই জাল নোট পড়ছে। আবার অনেকেই বলেছেন, আমাদের হাতে জাল নোট পড়লে আমরা বেশি টাকার বান্ডিলের মধ্যে দিয়ে চালিয়ে দিই। ব্যাংক কর্মকর্তারা জাল নোটের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন তাদের যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও মাঝে মধ্যে বিভিন্ন গ্রাহকের জমাদানকৃত টাকার মধ্যে জাল নোট ঢুকে যাচ্ছে। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সিএনজি অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণা মদন উপজেলায় মিশুক, সিএনজি, অটো রিক্সা ...

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...