Home | বিবিধ | স্বাস্থ্য | ত্বকের যত্নে কাঠবাদামের উপকারিতা

ত্বকের যত্নে কাঠবাদামের উপকারিতা

Kathbadamস্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্য ও ত্বকের যত্নে কাঠবাদামের উপকারিতা সীমাহীন। এটাকে ঠিক বাদাম বলা যাবে না, এটা এক ধরনের খাদ্য বীজ। ভালো মানের কাঠবাদাম পাওয়া যায় উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়াতে। কাঠবাদাম ভিটামিন এবং মিনারেলে ভরপুর। তাছাড়া কাঠবাদামে আছে ডায়েট ফাইবার যেটা হার্ট কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কাঠবাদাম শরীরের কলেস্ট্রল কমায়, ক্যানসার রোধ করে, শক্তি সঞ্চার করে, ত্বক কে উজ্জ্বল রাখে। জেনে নিন ত্বক, চুল এবং স্বাস্থের জন্য কাঠবাদামের উপকারিতা –

ত্বকের যত্নে কাঠবাদাম:
– কাঠবাদামে আছে ভারী ময়েশ্চারাইজার। ভারী হলেও এটি মুখের ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক এ যারা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারে না, তাদের জন্য অনেক উপকারী।

– কাঠবাদামে আছে ভিটামিন-ই। তাই এটি ত্বকের উজ্জলতা বাড়ায়। ত্বকে এ নিয়মিত তেল দ্বারা মাসাজ করলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বারে, তাতে করে ত্বক সুস্থ থাকে।

– কাঠবাদামে আছে ভিটামিন-ডি। ছোট শিশুদের এই তেল দিয়ে পুরা দেহ মাসাজ করলে, হাড় মজবুত হয়।

– কাঠবাদামে ভিটামিন-ই আছে। ভিটামিন-ই ত্বকের জন্য অতান্ত কার্যকারী। এটি সূর্যের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে ড্যামেজ হওয়া থেকে রক্ষা করে। যাদের ত্বকে সান বার্ন আছে, তারা এটি থেকে পরিত্রাণ পেতে কাঠবাদাম তেল ব্যবহার করতে পারেন।

– কাঠবাদাম তেল খুব তাড়াতাড়ি শরীর শুষে নেয়। তাই যেকোনো মৌসুমে কাঠবাদাম তেল শরীরে লোশনের পরিবর্তে দেওয়া যাবে।

– কাঠবাদাম তেল হলো প্রাকৃতিক ময়েশচারাইজার। এতে কোন কেমিক্যাল বা প্রিজেরভেটিভ নেই। তাই এই তেল কে সিরাম হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখ পরিষ্কার করে চোখ সহ, পুরা মুখ ঘড়ির কাটার উলটো দিকে মাসাজ করুন। ফলাফল সরূপ নমনীয় এবং তুলতুলে ত্বক পাবেন। তা ছাড়া এটি মুখের লোমগ্রন্থি বন্ধ করে না। তাই ব্রণ হবারও ভয় থাকে না।

– কাঠবাদাম তেলে আছে ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই এটি স্কিন এর যেকোনো চর্ম সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

– কাঠবাদাম তেল চোখের নীচে কালো দাগ দূর করে। তা ছাড়া কাঠবাদাম বেটে, ওই পেষ্ট রাতে ঘুমানোর সময় চোখে দিয়ে ঘুমালে, চোখের নীচের কালো দাগ চলে যায়। চোখের বলিরেখা, চোখ ফুলা ভাবও কমে যায়। কাঠবাদাম চোখের নীচের দাগ দূর করতে যেকোনো ভালো আই ক্রিম এর থেকে ভালো।

– কাঠবাদাম ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কাঠবাদামের তেল দিয়ে ত্বক মাসাজ করলে, ত্বকের বলি রেখা কমবে। তাছাড়া মধু, লেবু, কাঠবাদাম তেল মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে উঠবে দীপ্তিময় এবং মুখের বয়সের ছাপ কমে যাবে।

– কাঠবাদাম স্ক্রাব হিসেবেও কাজ করে। কাঠ বাদাম দানা দানা রেখে গুড়ি করে, তার সঙ্গে মধু ও টক দই দিয়ে মুখ আলতো আলতো করে মাসাজ করলে স্ক্রাব এর কাজ হয়ে যাবে।

– ভারী মেকাপ তুলতে কাঠবাদাম তেল সামান্য একটু নিয়ে পুরা মেকাপ পরিষ্কার করা যাবে।

স্বাস্থ্যের যত্নে কাঠবাদাম তেল:
প্রতিদিন ১০ গ্রাম কাঠবাদাম খেলে, আমরা অনেক অসুখ থেকেই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারি।

– কাঠবাদামে আছে মনসেচুরেটেড ফ্যাট। এটি শরীরে কলেস্ট্রল এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কাঠ বাদাম খেলে শরীরে ভালো কলেস্ট্রল বাড়াতে সাহায্য করে। একটি রিসার্চ এ দেখা গিয়েছে যারা প্রতিদিন ১ টি করে কাঠবাদাম খেয়েছে তাদের কলেস্ট্রল ৪.৪% কমেছে এবং যারা প্রতিদিন দুটি করে খেয়েছে তাদের কমেছে ৯.৪% ।

– কাঠবাদামে এমন ফাইবার আছে যেটি কলন ক্যানসার রোধে সহায়ক। তাছাড়া কাঠ বাদামে ভিটামিন-ই,Phytochemicals এবংflavonoi আছে যেটি ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে সহায়তা করে।

– কাঠবাদাম শরীরে ব্লাড সুগার এর ব্যালেন্স রাখে। তাই ডায়বেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী।

– কাঠবাদাম তেল শরীরের শক্তি সঞ্চালন করে। এতে আছে রিবফ্লাবিন, ফসফরাস, কপার, যেটা শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

– কাঠবাদামে আছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-ডি। এটি শরীরে হাড় এবং দাঁত মসবুত করে। তা ছাড়া যাদের হাড় ক্ষয়, আরথাইটিস রোগ আছে, তাদের জন্য কাঠবাদাম তেলের মালিশ অনেক ভালো।

– এছাড়াও কাঠবাদাম এনিমিয়া, জন্ম গত ত্রুটি, মস্তিষ্ক এর শক্তি বাড়াতে সহায়ক।

চুলের যত্নে কাঠবাদামঃ

– কাঠবাদামে রয়েছে চুল বান্ধব মনো ফ্যাটি অ্যাসিড, তার সঙ্গে ভিটামিন-এ, ডি, ই, বি১, বি২ এবং বি৬। এরা চুল কে পুষ্টি দেয়, চুলকে শক্ত করে। ফ্যাটি অ্যাসিড চুল কে সফট, সোজা এবং সিল্কি রাখে।

– কাঠবাদামে রয়েছে উচ্চ পরিমাণের ফসফরাস। যেটি ভালো চুল গজাতে সাহায্য করে। তা ছাড়া চুল পড়ে প্রধানত ফসফরাসের অভাবে। প্রতিদিন কাঠবাদাম খেলে ফসফরাসের অভাব মিটবে। শরীর এর ফাংশন থেকে শুরু করে চুলও প্রোটিন পাবে।

– যারা চুলের খুশকি নিয়ে চিন্তিত, তারা ১:১ অনুপাতে কাঠবাদাম তেল + নিম তেল মিশিয়ে চুলে লাগান। সারারাত রেখে দিন। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে ফেলেন। আশা করি খুশকির সমস্যা থাকবে না।

– কাঠবাদাম তেলের সঙ্গে রস্মারি এবং ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে মাথার তালু মাসাজ করলে চুল পড়া কমবে।

– কাঠবাদাম তেল, মেথি গুঁড়া, ক্যাস্টর অয়েল, নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে লাগালে চুল এর আগা শক্ত হবে, চুল পড়া কমবে, চুল তাড়াতাড়ি বাড়বে।

কাঠ বাদাম নিজে ভাঙ্গিয়ে তেল করে নিলে অনেক ভালো হয়। কোন কেমিক্যাল থাকে না। তাছাড়া অনলাইন পেজ রুফরযধৎ ১০০% খাটি কাঠ বাদাম তেল বিক্তি করে। দাম ১০০ গ্রাম ৪০০ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে ওয়েলস এর কাঠ বাদাম তেল, দাম ১৪০-১৬০। চুলের জন্য ডাবার কাঠবাদাম তেল অনেক ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গরমের নানা রোগ

বিডিটুডে ডেস্ক : গরম মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, ...

তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা ; বন্ধ এক্সরে মেশিন, নৌ এম্বুলেন্স

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা ...