ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | তৃণমূলে যাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা

তৃণমূলে যাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পর তৃণমূলের কর্মীরা যেন হতোদ্যম না হয়ে পড়ে, সে জন্য তাদের কাছে যাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। যে কোনো মূল্যে দলের ঐক্য অটুট থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করবেন নেতারা।

দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলায় যাওয়ার জন্য নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ সফর শুরুও করেছেন।

সফরে গিয়ে নেতারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করবেন। পাশাপাশি আন্দোলন সংগ্রামে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ ও কারবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজখবর নেবেন তারা।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের জেলাতেই যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এতে নির্বাচনের আগে প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও শেষ হবে বলে আশা করছে বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কারাবন্দী নেতাকর্মীদের পরিবারকে সহানুভূতি জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা যাবেন। এজন্য এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে সফর শুরু করেছেন।’

খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের আগেই বিএনপিতে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। রায়ের পাঁচ দিন আগে দলের নির্বাহী কমিটির সভায় খালেদা জিয়াও সতর্ক করেছেন দলের ‘বেইমানদের’। যারা দুই নৌকায় পা রাখছেন তাদের ওপর নজরদারি চলছে বলেও সেদিন জানান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর একাধিক বৈঠকে দলের ঐক্য ও সংহতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সেই সঙ্গে চেয়ারপারসনের মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিতর্ক তৈরি হয় এমন কোনো বক্তব্য না দিয়ে সবাইকে এক ধরনের বক্তব্য দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

লন্ডনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নিয়মিত দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। দিচ্ছেন দিক নির্দেশনা। এসব নির্দেশনার আলোকেই বিএনপি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান  বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজখবর ও তাদের আইনি সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা সফর করবেন।’

তারেক রহমান ছাড়াও বিএনপিপন্থী পেশাজীবী নেতা ও বুদ্ধিজীবীরাও খালেদা জিয়ার ‍মুক্তির আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে জেলা সফরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিএনপি নেতাদের জনমত তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বুদ্ধিজীবীরা। সেই সঙ্গে অহিংস কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। বিশেষ করে তারা রাজপথে সভা সমাবেশ করার কথা বলছেন।

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী শনিবার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রয়োজনে অসুস্থ নেতাদের হুইল চেয়ারে করে কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন এতে জনগণের সহানুভূতি আরও বাড়বে।

যারা যাচ্ছেন তৃণমূলে

৭৮টি সাংগঠনিক জেলা শাখা সফরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে দল গঠন করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইলে মাহমুদুল হাসান, মানিকগঞ্জে আবদুস সালাম, মুন্সীগঞ্জে আবদুল হাই, ঢাকা জেলায় আবদুল মান্নান, নারায়ণগঞ্জ মহানগরে জয়নুল আবেদিন ফারুক, নারায়ণগঞ্জ জেলায় তৈমুর আলম খন্দকার ও নরসিংদীতে আবদুল মঈন খান।

চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালীতে মোহাম্মদ শাহজাহান, ফেনীতে আবদুল আউয়াল মিন্টু, চট্টগ্রাম মহানগরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তরে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণে মাহবুবুর রহমান শামিম, লক্ষ্মীপুরে বরকতউল্লাহ বুলু, কক্সবাজারে মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, রাঙ্গামাটিতে মেজর রুহুল আলম চৌধুরী, বান্দরবানে সুকমল বড়ুয়া ও খাগড়াছড়িতে গোলাম আকবর খোন্দকার।

পঞ্চগড়ে জমিরউদ্দিন সরকার, দিনাজপুরে মাহবুবুর রহমান, বগুড়ায় আমিনুল হক, রাজশাহীতে মিজানুর রহমান মিনু, পাবনায় হাবিবুর রহমান হাবিব ও খুলনায় এম এ মাজেদ।

এছাড়া যশোরে তরিকুল ইসলাম, পটুয়াখালীতে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরিশাল মহানগর ও দক্ষিণ জেলায় মজিবুর রহমান সরোয়ার ও বরিশাল উত্তরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেলিমা রহমানকে।

দলের জ্যেষ্ঠ পাঁচ নেতাকে ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা হলেন: স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান।

বাকি সাংগঠনিক জেলায়ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। সবগুলোর দলের সমন্বয় করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এরই মধ্যে ময়মনসিংহ অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘কারাবন্দী নেতাকর্মীরা যেন দ্রুত জামিন পান, সে ব্যাপারে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন নেতারা।

বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন  বলেন, ‘শনিবার কেন্দ্রের নির্দেশের পর আজ  রবিবার পিরোজপুর জেলা সফরে আসলাম। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আন্দোলনে নিহত একজন কর্মীর বাড়িতে গিয়ে কবর জিয়ারত করলাম, পরিবারের খোঁজ নিলাম। মঙ্গলবার দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য জেলা বরগুনাতে যাব।’

চেয়াপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক তার নির্ধারিত এলাকা নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্মারকলিপি দিয়ে এসেছি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ একদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি। আওয়ামী লীগ করছে আমরাও শুরু করেছি। এটা নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবে। তাদের মনে সাহস যোগাবে বলে বিশ্বাস করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফুলবাড়ীতে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে মীনা দিবস পালিত

মো: আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের ...

তাহিরপুরে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের আহবায়ক কমিটির আলোচনা ও পরিচিতি সভা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগের আহবায়ক কমিটির আলোচনা ও পরিচিতি ...