ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার সরকারের কার্যক্রম শুরু

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার সরকারের কার্যক্রম শুরু

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থার সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বুধবার। এদিন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে এবং প্রসিডেন্ট ব্যবস্থার সরকারের ডিক্রি জারি করা হয়। এর মাধ্যমে ১৯২৪ সালে আধুনিক তুরস্কের জনক খ্যাত কামাল আতাতুর্কের সময় থেকে বলবৎ থাকা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যত বিলুপ্তি ঘটেছে। নতুন পদ্ধতিতে দেশটির নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন এরদোয়ান।

এই পরিবর্তনের ফলে ক্ষমতা হারাচ্ছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। বিলুপ্ত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা। সকল মন্ত্রী এবং মন্ত্রনালয় থাকবে প্রেসিডেন্টের অধীনে।

ডিক্রি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদটি বিলুপ্ত হবে। প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নির্বাচিত করবেন এবং তিনিই সভাপতিত্ব করবেন। পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই মন্ত্রীদের নির্বাচন করা কিংবা ক্ষমতাচ্যুত করা, সরকারি চাকরিতে বেসামরিক নাগরিকদের বাদ দেয়ার ক্ষমতাও পাবেন প্রেসিডেন্ট। খবর আনাদুলু এজেন্সির।

আগামী ৯ জুলাই বিকেল চারটায় তুরস্কের রাজধানী আংকারায় নিজ বাসভবনে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে এরদোয়ানের। ধারণা করা হচ্ছে, এদিন শপথ গ্রহণ শেষে নিজের নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন এরদোয়ান।

এছাড়া বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে তুরস্কের নির্বাচন কমিশন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ান ৫৩ ভাগ ভোট পেয়েছেন। পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল একে পার্টি ৪৩ ভাগ ভোট পেয়েছে। একে পার্টির সঙ্গী এমএইচপি পেয়েছে ১১ ভাগ ভোট। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে এমপিদের শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জুন গত ২৪ জুন দেশটিতে একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি ফলাফলে ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং তার দল একে পার্টি। এর আগে গত বছর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুষ্ঠিত এক গণভোটেও বিশাল জয় পেয়েছিলেন এরদোয়ান।

ভোটে জয়ের পর এটিকে গণতন্ত্রে জয় আখ্যা দেন এরদোয়ান। এসময় তিনি বিশ্বের বুকে তুরস্ককে একটি উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও সমৃদ্ধশালী, সম্মানজনক এবং প্রভাবশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার করেন।

দেশটিতে পরবর্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০১৯ সালের নভেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের বছরখানেক আগেই নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন এরদোয়ান। নির্বাহি ক্ষমতা হাতে নিতেই তিনি অগ্রিম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

অবস্থানগত কারণে বৈশ্বিক গুরুত্ব রয়েছে তুরস্কের। কারণ তার একদিকে ইউরোপ, অন্য দিকে ইরাক আর সিরিয়ার সীমান্ত। এরমধ্যে বৃহৎ মুসলিম বিশ্বের এক নেতৃস্থানীয় দেশ তুরস্ক পশ্চিমা বিশ্বেরও এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ন্যাটো জোটের সদস্য। তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও সদস্য পদপ্রার্থী।

তুরস্কের সেনাবাহিনী ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাহিনী। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, কুর্দি সমস্যা, ইরাক-সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই, অভিবাসী সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইদলিব এখন তুরস্কের ‘বড় দুশ্চিন্তা’

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সিরিয়ায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ প্রদেশ ইদলিব পুনর্দখল করতে বড় আকারের ...

ইরানের সঙ্গে কেরির বৈঠকের কড়া সমালোচনা ট্রাম্পের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বৈঠকের সমালোচনা ...