ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | তিন পার্বত্য জেলায় জুমের ফসল পাহাড়ে বুনতে এখন ব্যস্ত চাষীরা

তিন পার্বত্য জেলায় জুমের ফসল পাহাড়ে বুনতে এখন ব্যস্ত চাষীরা

khagrachariখাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,০২-০৪-২০১৪ঃ খাগড়াছড়ি রাগামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় জুমের ফসল পাহাড়ের বুনতে এখন ব্যস্ত প্রত্যেক আদিবাসী প্রান্তীক চাষীরা। জুম চাষ প্রস্তুত রাখা ভালো ফলনের আশায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে পাহাড়ে জুমিয়াদের সময় কাটছে খুশিতে। এবার অনুকুল আবহাওয়ায় জুমের ফসল ভালো ফলন হওয়ার আশা করছে জুমিয়ারা। দেড়িতে বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ে পাহাড়ে শুধু সোনালী রংঙের পাকা ধানের ছড়াছড়ি হবে বলে অনেকে মনে করেন। পুরানো বছর ফেলে নতুন বছর গ্রহন মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ বা বৈ-সা-বি অর্থাৎ বৈসু সাংগ্রাইং বিজু পর পরই নিজের কষ্টের ফসল তুলতে ব্যস্ত হযে উঠবে আদিবাসী জুমিয়া পরিবার নারী-পুরুষ সবাই। এখন আদিবাসী জুমিয়া পরিবারে নতুন ফসলের গন্ধে মৌ মৌ করলেও যেন বাড়ির আঙিনায় অথবা এর পাশ্বৃবর্তী ৩৬টি ধরনের ফসল রোপন করতে ব্যস্ত সকলেই। তাদের মধ্যে ধান, হলুদ, উল কচু.সাম্য কচু, শঃ কচু, তিল, গজ্যা, কলা, না গজ্যা, তুলা, মারফা, কুমড়া, সিন্ডারা, মিষ্ঠি কুদু. মিষ্টি কুমড়া, সেমাই আলু, জুড়া আলো, পিলা আলো, কালা আলো, ফুজি শাক, আমবু শাক,পুই শাক, টিটা করলা, বান্দর মামড়া, আদা, জুমো বেগুন, আমলি পাতা, কাকড়া গুলো, শিম, নাড়া কাবা শিম, ঢেড়স, বিন্নি ধান, কবরক ধান, আমে ধান, শুরি ধান, রুই ধান, এড়া কচু সহ বিভিন্ন প্রকারের জুম চাষ করে থাকে । এবার চাষ বেড়েই যাওয়ায় জুমিয়া পরিবারে  শুধু বইছে খুশি আর আনন্দের বন্যা। জীবন প্রকৃতি ও সংস্কৃতি’র সাথে মিশে থাকা এই জুমচাষ দূর্গম পাহাড়ী পল্লীর দরিদ্র পাহাড়ীদের কাছে আজো তাদের খাদ্য নিরাপত্তা অন্যতম অবলম্বন। সাধারনত: বৈশাখ মাসে পাহাড়ে জুমচাষ শুরু করে ভাদ্র মাসে ফসল তোলা হয় ঘরে। খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যুগযুগ ধরে জুমচাষ করে আসছে আদিবাসীরা। জুমের মধ্যে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসল ও শাক সবজি চাষ করে থাকে। এ বছর খাগড়াছড়িতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুম চাষ করেছে জুমিয়ারা। কিন্তু এই প্রথম খাগড়াছড়িতে আধুনিক পদ্ধতিতে জুমচাষের মাধ্যমে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী চাষের টেকসই প্রক্রিয়া উদ্ভাবনে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে গবেষনার কাজ শুরু করেছে। ইউএনডিপির অর্থায়নে পার্বত্য জেলা পরিষদ ব্যবস্থাপনায় পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্র আধুনিক জুমচাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে।৩৬নং সাজেক ইউনিয়ন এলাকার ৮নং গ্রামে জুম চাষী খুলরাম কার্বারী জানান, ভালো ফলন হবে আশায় এবারে জুম চাষীর সংখ্যাা বেড়েছে। তবে পানি অভাব দেখা দিয়েছে । বৃষ্টি দেড়িতে হলেও গত বছর চাইতে এই বছর বেশী ধান ঘরে তুলতে পারবো। এই বছর ভালো আবহাওয়া পেলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি । সরকার সহযোগীতার হাত বাড়ালে আরো উৎসাহ বাড়বে বলে জানান ।খাগড়াছড়ি পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ মহব্বত উল্লাহ জানান, পাহাড়ে জুম চাষীদের জন্য উপযোগী ধান উদ্ভাবন করেছে ও আধুনিক টেকসই চাষ পদ্ধতি চাষীদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে চাষীদের সব ধরনের সহযোগীতার হাত অব্যাহত রয়েছে।খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা জানান, জুম চাষীদের নিয়ে সমিতি গঠন করে তাদের পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ে টেকসই প্রশিক্ষন প্রদান করলে জুমচাষীরা আরো উপকৃত হবে একই সাথে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশেরও ভারসাম্য বজায় থাকবে। তিনি আরো বলেন এ বিষয়ে সরকারের কৃষি বিভাগের বিশেষ নজর ও গুরুত্ব দেয়া অতীব প্রয়োজন।   বিগত বছরে জুমের ইঁদুর বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ জুমিয়ারা এবার ভালো ফলনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে এবছরই আশাবাদী সবাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ...

বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন, বাজারে আগুন

বগুড়া জেলা প্রতিবেদক : এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে ভালো ...