ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | তাহিরপুরে ৩টি বৃহত্তর বোর ফসলি হাওর জিওটেক্সটাইল ব্যবহার না করায় ঝুকিঁর মুখে

তাহিরপুরে ৩টি বৃহত্তর বোর ফসলি হাওর জিওটেক্সটাইল ব্যবহার না করায় ঝুকিঁর মুখে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ ৩হাওরের ১০ক্লোজার বাঁেধর একটিতেও এখনো প্যালাসাইটিং এর কাজ শেষ হয়নি। দু’একটি ক্লোজার বাঁধে নাম মাত্র বস্তা-বাঁশ দিয়ে কাজ শুরু হলেও বাঁেধ জিওটেক্সটাইল ব্যবহার না করায় হাওরের গুরুত্বপূর্ন বাঁধ গুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,তাহিরপুর উপজেলা পার্শ্ববর্তী উপজেলা জামালগঞ্জ। সে উপজেলার হালি হাওর,পাগনা হাওর সহ সবকটি হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের প্রকল্প কর্মকর্তারা তাদের বাঁধ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলায় ২৩টি ছোট বড় বোর ফসলি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে শনি,মাটিয়ান ও মহালিয়া বৃহৎ বোর ফসলি হাওর। উপজেলার ২৩হাওরে ২০হাজার হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদ হলেও এ তিন হাওরে বোর ধান চাষাবদ হয় প্রায় ১৪হাজার হেক্টর। আর এ তিন হাওরে কমপক্ষে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে শনির হাওরে রয়েছে সাহেব নগর,রামজীবনপুর গ্রামের সামনে নতুন বাঁধ,লালুর গোয়ালা ক্লোজার বাঁধসহ ৩টি। মাটিয়ান হাওরে রয়েছে মেশিন বাড়ি,আলম খালী,বনুয়া,নানদিয়া,গুঙ্গিয়ার খাল ক্লোজার বাঁধসহ ৫টি ক্লোজার বাঁধ এবং মহালিয়া হাওরে রয়েছে পাইকরতলা,গুরমা ক্লোজার বাঁধ সহ ২টি ক্লোজার বাঁধ। এই বাঁধ গুলোতে কোনটির প্রকল্প কর্মকতারা বাঁধে সামান্য বাঁশ-বস্তা দিয়ে প্যালাসাইটিং এর কাজ শুরু করছেন। এখনো কোন একটি বাঁধের কাজ পরিপূর্ণ ভাবে শেষ করতে পারেনি কোন পিআইসি। তাছাড়া ১০বাঁধের মধ্যে কোন একটি বাঁধে জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করতে দেখা যায় নি। সেই সাথে কাজে ধীর গতিতো রয়েছেই। এ ভাবে ধীর গতিতে বাঁধের কাজ করলে আগামী পনের দিনের মধ্যে প্রকল্প পিআইসিরা বাঁধে কাজ শেষ করতে পারবে না। অথচ ২৮ফেব্রুয়ারীর মধ্যে সকল বাঁধের কাজ সমাপ্ত করার কথা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ বৃষ্টি বাদল শুরু হওয়ার আগে বাঁধের কাজ সমাপ্ত না করতে পারলে তা দিন দিন আরও হুমখিতে পড়বে।
শনির হাওর উপ-প্রকল্প রামজীবনপুর গ্রামের সামনে নতুন ক্লোজার বাঁধ প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য মিয়া হোসনে বলেন,আমারা বাঁশ-বস্তা দিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমাদের বাঁধে জিওটেক্সটাইল ধরা নেই তবে জিওটেক্সটাইল দিলে ভাল হত তিনি জানান।

শনির হাওর পার জয়নগর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,জেলার বোর ফসল উৎপাদনের দিক দিয়ে শনির হাওর সম্ভবত প্রথম কিন্তু এ হাওরে কোন ক্লোজর বাঁেধ জিওটেক্সটাইল ব্যবহার হচ্ছে না। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ উপজেলায় অনেক ছোট-ছোট হাওরের ক্লোজার বাঁধে জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করে প্যালাসাইটং এর কাজ করছেন প্রকল্প পিআইসিরা।
মাটিয়ান হাওর পার রতনশ্রী গ্রামের কৃষক রবি মিয়া বলেন,হাওরের গুরুত্বপূর্ন ক্লোজার বাঁধগুলোতে বেশী করে বাঁশ-বস্তা দিয়ে কাজ করা দরকার। না হলে মেঘ বৃষ্টির দিনে বাঁধ থেকে মাটি সরে যাবে। এতে বাঁধ আরও হুমকিতে পড়বে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগীয় উপ প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস এর সাথে কথা হলে তিনি জানান,তাহিরপুরে কোন হাওরে ক্লোজার বাঁধে জিওটেক্সটাইল ধরা নেই। বাঁধের ম্যাজারমেন্ট করার সময় জামালগঞ্জ উপজেলার কিছু গুরুত্বপূর্ন বাঁধে জিওটেক্সটাইল ধরা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সভাপতি পূর্নেন্দু দেব জানান,আমি বিষয়টি শুনেছি,এ নিয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলবো।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রকল্প মনিটরিং কমিটির উপদেষ্ঠা কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,শুধু জামালগঞ্জ নয় সব হাওরের ক্লোজার বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। তাই আমি মনে করি সব হাওরের ক্লোজার বাঁধে প্যালাসাইটিং এ জিওটেক্সটাইল দেয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য,চলতি বছর তাহিরপুর উপজেলায় শনি,মাটিয়ান,মহালিয়া সমসা,চুনখলা হাওর সহ ২৩টি ছোট বড় হাওরে ৯৭টি বাধে ২২কোটি ৬০লাখ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে। গত মাসের ২৮ফ্রেবুয়ারীর মধ্যে সবগুলো বাঁেধর কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু মার্চ মাসের ১৮দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোন একটি বাঁধের কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি কোন প্রকল্প পিআইসি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার, বিপাকে সালাহ

ক্রীড়া ডেস্ক : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২০১৮-১৯ মৌসুম দারুণভাবে শুরু করেছে লিভারপুল। ...

শুকরের ছবি সম্বলিত ডাকটিকিটে অবমুক্ত করাকে কেন্দ্র করে চীনে তোলপাড়

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : শুকরের ছবি সম্বলিত স্মারক ডাকটিকিটে অবমুক্ত করাকে কেন্দ্র করে ...