ব্রেকিং নিউজ
Home | শেয়ার বাজার | তালিকাভুক্তির ১ম বছরেই আয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিবে

তালিকাভুক্তির ১ম বছরেই আয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিবে

appollo-ispat-logo-mmস্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন শুরু হওয়া এ্যাপোলো ইস্পাত বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্টান্ডার্ড (বিএএস) পরিপালন করছে না। কোম্পানির হিসাবেডেফার্ড গণনা না করে আয়ের পরিমাণ বেশি দেখানো হয়েছে। ডেফার্ড ট্যাক্স গণনা করা হলে তালিকাভুক্তির প্রথম বছরের আয়েই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিবে।

এ্যাপোলো ইস্পাতি আয়ের পরিমাণ বেশি করে দেখাতেদীর্ঘদিন থেকেই আন্তজাতিক ও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্টান্ডার্ড পরিপালন করছে না। আয়ের পরিমাণ বেশি করে কোম্পানিটি ডেফার্ড ট্যাক্স গণনা থেকে বিরত রয়েছে। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানিটি ২০১২-১৩ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির হিসাব পর্যন্ত ডেফার্ড ট্যাক্স গণনা করেনি। কেবল শেয়ার বাজার থেকে টাকা উত্তোলনের করতে শুধুমাত্র ২০১১-১২ অর্থবছরের হিসাবে ডেফার্ট ট্যাক্স গণনা করা হয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি, ২০১১-১২ অর্থবছর ব্যতিত ২০১২-১৩ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনসহ এর আগের বছরগুলোতে কোম্পানিটিতে যে পরিমান আয় দেখানো হয়েছে তা প্রকৃত আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ ওই বছরগুলোতেডেফার্ড ট্যাক্স গণনা করা হলে আয়ের পরিমান কমে আসতো। এমনকি কোম্পানিটি হয়তো লোকসানেও থাকতো ।

শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ্যাপোলো ইস্পাতের তালিকাভুক্তির ১ম অর্থবছর হচ্ছে ২০১২-১৩। এই অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ প্রদান করা হবে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসের যে আর্থিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তাতে ‘বিএএস’ পরিপালন না করার পরও কোম্পানিটির আয় নিম্নমুখী রয়েছে। আর যদি ‘বিএএস’ অনুযায়িডেফার্ড ট্যাক্স গণনা করে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরী করা হতো, তাহলে কোম্পানিটির আয়ের পরিমান অনেক কমে যেতো। এমনকি কোম্পানিটি হয়তো লোকসানেও থাকতো।

দেখা যাচ্ছে, ২০১১-১২ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ১.৭০ টাকা। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় কমে হয়েছে ১.৫৯ টাকা।ডেফার্ড ট্যাক্স গণনা করা হলে আয় অনেক কমে যেতো। এছাড়া, আইন অনুযায়ি শ্রমিক ফান্ড গঠণ করা হলে আয় আরো কমে যেতো।
পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের কারনে এ্যাপোলো ইস্পাতের মূলধনের পরিমাণ ১৫০ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ২৫০ কোটি টাকায়। আর শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটির থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ কোটিতে। এমতাবস্থায়, বৃহদ মূলধনী এ কোম্পানি ভবিষ্যতে যদি ডিভিডেন্ড হিসাবে বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে তাহলে কোম্পানির আকার আরো অনেক বৃদ্ধি পাবে। ফলে আয়ের উপর আরো চাপ বাড়বে।
এ্যাপোলো ইস্পাত ‘বিএএস’ পরিপালন করছে না বলে স্বীকার করেছেন কোম্পানির অর্থ বিভাগের ম্যানেজার মো: আবিদ হোসেন। তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে অ্যাকাউন্টিং বেসিস ও ট্যাক্স বেসিস হিসাবে খুব একটা পার্থক্য ছিল না। তাইডেফার্ড ট্যাক্স গণনা করা হয়নি। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদনেডেফার্ড ট্যাক্স গণনা না করাও ঠিক হয়নি বলে তিনি জানান। তবে বছর শেষে চূড়ান্ত আর্থিক প্রতিবেদনেডেফার্ড ট্যাক্স গণনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পুঁজিবাজারে লেনদেনের সূচক ঊর্ধ্বমুখী

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর ...

সূচক পতনে লেনদেন

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন ...