ব্রেকিং নিউজ
Home | রাজনীতি | ‘তারেকের বক্তব্যে মহাজোটে আগুন’

‘তারেকের বক্তব্যে মহাজোটে আগুন’

fakrulস্টাফ রিপোর্টার : লন্ডনে তারেক রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে মহাজোট সরকারের ঘরে আগুন লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলে হোটেল পূর্বানী ইন্টারন্যাশনালে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) আয়োজিত ‘তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিন্তা প্রসূত আগামীর বাংলাদেশ এবং উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছিল তারাই এসব করছে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ব্যাতিক্রমী ধারা শুরু করেছেন, যা প্রতিহিংসা বা অতীতমুখী নয়। তিনি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রাজনীতি করছেন।’
ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। ভেতরে ভেতরে মানুষ জেগে উঠেছে। দেশের মানুষ স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায় রয়েছে কখন জ্বলে উঠবে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘একজন প্রতিহিংসা নিয়ে আসছেন  জনগণকে বাণী দিচ্ছেন।’
দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে এমন বক্তব্য যারা দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সরকারি দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে। আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে তবে দলীয় সরকারের অধীনে নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া জনগণ নির্বাচন হতে দেবে না।’
রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সরকারের কঠোরতার সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘আমরা সভা-সমাবেশ করতে পারছি না। আগে পল্টন, মুক্তাঙ্গন ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে পারতাম এখন সেখানে করতে দেয়া হচ্ছে না। সভা-সমাবেশের জন্য আইন করা হচ্ছে। মিছিল-সমাবেশ করতে হলে ১০ দিন আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। দুইটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে, দুইটি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এটা কোন গণতন্ত্র?’
মহাজোট সরকারের শাসনব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। লুটের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে কোনো জনশক্তি রপ্তানি হয়নি। তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা চলছে। একজন মন্ত্রী নৈরাজ্যে উস্কানি দিচ্ছেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানকে আমাদের মধ্যে প্রয়োজন। এ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানকে দেশে আনতে হবে। রাজনৈতিকভাবে তারেক রহমানকে প্রতিহত করতে না পেরে সরকার তার চরিত্র হননের চেষ্টা করছে।’
অধ্যাপক মাহাবুব উল্লাহ বলেন, ‘উচিত কথা শুনলে মানুষ বিরক্ত হয়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পঁচে গেছে। আমাদের দেশে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। দেশের উন্নয়নে রাজনীতি অগ্রগামী। তারেক রহমান রাজনীতির জন্য ইতিবাচক।’
অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘তারেক রহমান যেদিন বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবেন সেদিন থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’
অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, ‘কোনো স্বার্থের জন্য জাতীয়তাবাদী দলের ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। যারা জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে তাদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। নতুন ধারার রাজনীতির কান্ডারী তিনি। এর প্রমাণ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে যান শ্রদ্ধা জানাতে।’
অনুষ্ঠানের অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহিদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি এম এ মালেক, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম বাবুল ও আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা’

স্টাফ রিপোর্টার :  বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে ...

বিএনপি এ হামলার দায় আওয়ামী লীগের উপর চাপিয়ে গণতন্ত্রের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে:খালিদ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি নিজের মত করে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিচ্ছে বলে মন্তব্য ...