ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | ড্র জয়ের সমান

ড্র জয়ের সমান

ক্রীড়া প্রতিনিধি, ১৩ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাঠে নেমে এল পুরো বাংলাদেশ দল। শ্রীলঙ্কা দলের মাত্র তিনজন। অধিনায়ক বলে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে তো থাকতেই হতো। সঙ্গে শুধু কুমার সাঙ্গাকারা ও তিলকরত্নে দিলশান।
সাঙ্গাকারা-দিলশানও আসতেন না। আসতে হয়েছে অদ্ভুত এক কারণে। টেস্ট ইতিহাসে যে সম্ভবত এই প্রথমবারের মতো দ্রুততম ফিফটি ও সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার পুরস্কার ছিল! কিমাশ্চর্যম, টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুত রান করা আর ছক্কা মারা আবার কবে থেকে বিশেষ স্বীকৃতির দাবিদার হলো! টি-টোয়েন্টির আছর টেস্ট ক্রিকেটেও ভালোই পড়তে শুরু করেছে। স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, আপনি কি কবরে এপাশ-ওপাশ করছেন!
শুরুতেই এই পুরস্কার দুটি নিয়ে ফিরে গেলেন ওই দুজন। পুরস্কার বিতরণীর বাকি অংশের জন্য অপেক্ষাও করলেন না। একদিকে বাংলাদেশের পুরো দল, অন্যদিকে শুধু অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। এটির একটা প্রতীকী অর্থ চাইলেই খুঁজে নিতে পারেন। ড্র করেও যে এই টেস্টে ‘জয়ী’ বাংলাদেশ। যে ড্র শ্রীলঙ্কার জন্য পরাজয়।
৭৬ টেস্টের ৬৫টিতেই পরাজয়। তিন জয়ের পাশে এটি মাত্র অষ্টম ড্র। কিন্তু মহিমায় বোধহয় আগের সব কটিকে ছাড়িয়ে। এর আগে এই শ্রীলঙ্কায় এসে শুধু পরাজয়ের কালিমাই নয়, অপমানের ছোঁয়াও গায়ে লেগেছে কখনো কখনো। ড্রেসিংরুমে বসে শ্রীলঙ্কা দলের ব্যাটিং কোচের নিশ্চয়ই মনে পড়ছিল, এই বাংলাদেশের বিপক্ষেই ডাবল সেঞ্চুরি করার পর তিনি ইচ্ছা করে মাঠ ছেড়ে এসেছিলেন। শুধু মারভান আতাপাত্তুই নন, ২০০১ সালে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেই ম্যাচে মাহেলা জয়াবর্ধনের নামের পাশেও লেখা হয়েছিল ‘রিটায়ার্ড আউট!’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগের ১২টি টেস্টেই হেরেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায় খেলা আট টেস্টের কোনোটি তো পঞ্চম দিনের মুখই দেখেনি। সেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ‘শ্রীলঙ্কার দুর্গ’ বলে পরিচিত গলে সমানে-সমানে লড়ে ড্র তো জয়ের মতো উদ্যাপনই দাবি করে।
পঞ্চম দিনের খেলাটা ছিল নিছকই আনুষ্ঠানিকতা। টেস্টের গায়ে ‘ড্র’ সিল পড়ে গিয়েছিল আগেই। সামান্যতম অনিশ্চয়তা যদি থেকেও থাকে, সেটি গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের স্মৃতি এখনো টাটকা বলে। যেখানে শুধু ড্র নয়, বাংলাদেশের সামনে ছিল জয়ের হাতছানিও। যেটিকে গতির তোড়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন টিনো বেস্ট।
মুশফিকুর রহিম তা ভোলেননি। কাল মাঠে নামার আগে মনে করিয়ে দিয়েছেন দলকেও। এই উইকেট অবশ্য এমন ছিল যে, নিজেরা চাইলেও বোধহয় হারা কঠিন। চা-বিরতির মিনিট বিশেক আগে শ্রীলঙ্কা যখন দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করল, মাঝখানের বিরতিতে পুরস্কার বিতরণীটা সেরে নিলেও তাই সমস্যা ছিল না।
খেলা বাকি ৩৭ ওভার, টার্গেট ২৬৮ রান। এমন অর্থহীন ইনিংস বোধহয় টেস্ট ক্রিকেটে খুব বেশি হয়নি। যেখানে দুই দলই জানে, এ শুধু খেলার জন্যই খেলা। বাংলাদেশ জানে, ২৬৮ করা সম্ভব নয়। শ্রীলঙ্কাও জানে, ১০ উইকেট নেওয়া অসম্ভব। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসও স্বীকার করলেন, ইনিংস ঘোষণাটা করার জন্যই করা, ‘ম্যাচটা কোনো দিকেই যাচ্ছিল না, তাই একটু আগ্রহোদ্দীপক করার চেষ্টা করলাম আর কি!’ তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই সমাপ্তি টানা হলো ম্যাচের।
কুমার সাঙ্গাকারা অবশ্য এর আগেই ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেললেন। এই টেস্টের আগে ৩০টি সেঞ্চুরি ছিল। তবে জোড়া সেঞ্চুরি এই প্রথম। এটা এমন এক উইকেট, যেখানে শূন্য রানে আউট হওয়ার পরও ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপে পুড়বেন। দিলশান সেই আক্ষেপ মেটালেন দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে।
আরেকটি রেকর্ডও হয়ে গেল তাতে। এক টেস্টে আটটি সেঞ্চুরি। এর আগে যা মাত্র একবারই হয়েছে। ২০০৫ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলেরই চারটি করে সেঞ্চুরি ছিল। ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন বলে ক্রিস গেইলের ওই টেস্টটি খুব মনে আছে। মনে আছে মার্ক বাউচারেরও। আট সেঞ্চুরিয়ানের মধ্যে এই উইকেটকিপার ছিলেন না। তবে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো বোলিং করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং করেই যাচ্ছে দেখে ডি ভিলিয়ার্সকে গ্লাভস দিয়ে ১.২ ওভার বোলিং করে একটি উইকেটও পেয়ে যান বাউচার। টেস্ট ক্রিকেটে ১১ জনেরই বোলিং করার চতুর্থ ঘটনাটিও ঘটে।
এই টেস্ট অতটা প্রহসনে রূপ নেয়নি কখনোই। তবে ব্যাটসম্যানরা পারলে বিছানা-বালিশ নিয়ে চলে যান, এমন উইকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো হচ্ছেই। মুরালি চলে যাওয়ার পরও গলের টেস্ট ম্যাচে তিনটি জিনিস মোটামুটি কমন ছিল। মাহেলা জয়াবর্ধনের সেঞ্চুরি, রঙ্গনা হেরাথের উইকেটের ঝুলি আর শ্রীলঙ্কার জয়। জয়াবর্ধনে তো এবার নেই-ই, বাকি দুটি ঘটনাও ঘটল না। যে মাঠে সর্বশেষ চার টেস্টে হেরাথের ৩৬ উইকেট, সেখানে এবার ২ উইকেট নিতে হেরাথকে গুনতে হলো ১৭৬ রান।
ডাবল সেঞ্চুরি করে মুশফিকুর রহিম ম্যান অব দ্য ম্যাচের স্বীকৃতি পেলেন। তবে স্বীকৃতিটা জয়ানন্দ বর্ণবীরার পাওয়া উচিত ছিল কি না, রসিকতা হলো এ নিয়ে। তিনিই তো গলের স্পিন-স্বর্গ উইকেটকে এমনই কংক্রিটের রাজপথ বানিয়ে ফেলেছেন যে, পাঁচ দিনের খেলা শেষেও এখানে অনায়াসে আরেকটি টেস্ট ম্যাচ শুরু করে দেওয়া যেত।
প্যাভিলিয়ন ভবনে সুসজ্জিত অফিসে বসে বর্ণবীরা অবশ্য কোনো কিছুতে ভ্রুক্ষেপ না করে আয়েশে সিগারেট টানছিলেন। কথাবার্তাতেও কোনো রাখঢাক নেই, ‘আমার সামনে এসে কেউ কিছু বলুক না দেখি! আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম, তখন কেউ শোনেনি, এখন বোঝো মজা!’ দলে তরুণ ব্যাটসম্যানের ভিড় বলে নতুন প্রধান নির্বাচক সনাৎ জয়াসুরিয়াই নাকি তাঁকে ব্যাটিং উইকেট বানাতে বলেছিলেন। এই বাংলাদেশকেও যে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের বাংলাদেশই ভেবেছিলেন!
শ্রীলঙ্কা: ৫৭০/৪ ডি. ও ৩৩৫/৪ ডি.
বাংলাদেশ: ৬৩৮ ও ৭০/১

x

Check Also

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...