ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | ডেডলাইন ২৫ অক্টোবর: উদ্বেগ ও ভয়াল আতঙ্ক

ডেডলাইন ২৫ অক্টোবর: উদ্বেগ ও ভয়াল আতঙ্ক

Bnpস্টাফ রিপোর্টর: আগামী ২৫ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী এক আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরী করছে সরকার। সর্বত্রই একই প্রশ্ন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে জনগনের রায় বানচালে সরকারই দেশকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একগুয়েমীতে ২৫ অক্টোবরের আগে সমাধান সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় চারিদিকে এখন চরম উদ্বেগ ও ভয়াল আতঙ্ক বিরাজ করছে। চলতি মাসের মাঝামাঝিতে দুর্গাপুজা, কোরবানীর ঈদ এবং হজ্ব। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আসছে ২৪ অক্টোবর। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবর বর্তমানের সরকারের শেষ কর্মদিবস।

এদিকে নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদ অধিবেশ না বসার বিষয়ে যে নির্দেশনা আছে তার অপব্যাখ্যা করে সরকারীদল অধিবেশ ২৪ অক্টোবরের পরও করার দাবী করায় সংকটে নতুন উপদান তৈরী করছে। সরকারি দলের দুই নেতা যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দৃঢ়তার সঙ্গে নির্বাচনের ঘোষনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো জটিল করেছে।

অপরদিকে অবাধ নির্বাচনে নিশ্চয়তায় প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বে জোট নির্বাচন প্রত্যাখান করে প্রতিরোধের ঘোষনায় দেশে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, সংলাপের মাধ্যমেই গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংকটের সমাধান হওয়া উচিত। আর তা না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।

বর্তমান সরকারের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে জেনারেল (অব.) মাহবুব বলেন, ২৪ অক্টোবরে পর সময়টুকু নির্বাচনকালীন সরকারের। এ সময়ের মধ্যেই দেশের ১৬ কোটি মানুষের দাবি তত্ত্বাবধায়ক বিল সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করুন। আর এর বিপরীতে কোনো কিছু ঘটলে তার দায়ভার আপনাদেরই বহন করতে হবে। তিনি বলেন সরকার অবাধ নির্বাচন নিয়ে একগুয়েমীর কারণেই দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। সংঘাতের প্রতিশব্দই সংলাপ। একটি গনতান্ত্রীক দেশে সংঘাত হতে পারেনা।

কি হবে ২৪ অক্টোবরের পরে, একদলীয় নির্বাচন কি অনুষ্ঠিত হবেই- এমন সব প্রশ্ন সবার মাঝেই। দেশের সর্বত্রই মানুষ আতঙ্কিত। ইচ্ছাকৃতভাবেই সরকারের এদিকে কোনো নজর নেই। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় অর্থেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের একদলীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে। তারা এমন হুমকিও দিচ্ছেন যে, নির্বাচন বানচাল করা হলে কঠিন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অর্থাৎ একদলীয় নির্বাচনের পথেই পুরোপুরি হাঁটছে সরকার।

ঠিক এমন সময় খবর এলো, অক্টোবরেই ঢাকার রাজপথ সহিংসতার পথে হাঁটছে। ঈদের পরই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ অক্টোবর ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এদিকে একই দিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় কিমিটির অর্থ সম্পাদক আবদুস সালাম মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় ২৫ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম জানান, সমাবেশের অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেয়া হবে। ২৪ অক্টোবরের পর আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজপথ সহিংস হয়ে উঠার আশঙ্কার মধ্যেই এ কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সমাবেশ সম্পর্কে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ২৫ অক্টোবর যে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে, তাতে বিএনপি-জামায়াত ভয় পেয়ে গর্তে ঢুকে যাবে।

এছাড়া ঈদের পর আগামী ২২ অক্টোবর বরিশালে ১৮দলীয় জোটের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বরিশালের বেলস পার্ক ময়দানে মহাসমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের প্রতি আল্টিমেটাম ঘোষণা করবেন। ২৪ ঘন্টা সময় দিয়ে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হবে। এ সময়ের মধ্যে বিরোধীদলের দাবি সরকার না মানলে ২৫ অক্টোবর থেকে লাগাতার অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে দেশের ৫টি বিভাগে মহাসমাবেশ করেছেন। এখন শুধু চট্টগ্রামও বরিশাল বিভাগের মহাসমাবেশ রয়েছে। এসব মহাসমাবেশে তিনি সরকারকে দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ২৫ অক্টোবরের মহাসমাবেশটি নানা কারনেই গুরুত্বপূর্ণ। এই মহাসমাবেশে সারাদেশ থেকে বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতাকর্মীরা যোগদান করবেন। স্মরণকালের এই সমাবেশ থেকেই বিএনপি সরকারকে তত্বাবধায়ক ইস্যু মেনে নেয়ার জন্য কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২৫ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশে নিজেদের সর্বোচ্চ শোডাউন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের আশঙ্কা দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান অনিবার্য সংঘাত ডেকে আনবে। একতরফা নির্বাচন, তা সম্ভব না হলে সংবিধানের ধারা প্রয়োগ করে জরুরি অবস্থা জারির পথ খোলা থাকবে সরকারের হাতে। ১৪ দলের কয়েকটি বাদে অন্য সব নামসর্বস্ব দল দিয়ে নির্বাচন করা হলেও জাতীয়ভাবেই তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

অপরদিকে সরকারের গৃহপালিত মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আওয়ামী লীগ আগামীতে কোন অবস্থাতেই ক্ষমতায় আসবে না। জীবনের শেষ প্রান্তে এরশাদ কলঙ্কিত হতে চান না। বিভিন্ন জনসভায় এরশাদ এধরনের ঘোষনাও দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...

মদনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন এই প্রতিপাদ্যটি সামনে রেখে ...