ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | ডাকসুর জিএসের অফিস কক্ষে নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ডাকসুর জিএসের অফিস কক্ষে নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রির্পোটার : গত কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণরুমে থাকা প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থীর ছারপোকার কামড়ে পিঠের উপরাংশে ক্ষত সৃষ্টির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তবে গণরুমের কষ্ট ও ভোগান্তি শুধু এই ছবির মধ্যেই স্পষ্ট নয়, ওই ছাত্রের শরীরের ক্ষত অংশের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা কমেন্টে গণরুমের আরও অনেক নৃশংসতার কথা ও চিত্র তুলে ধরেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর ডাকসুর নিজ অফিস কক্ষে নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) লাগানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের রাত কাটে গণরুমে। ঘিঞ্জি পরিবেশে ছারপোকার কামড় তাদের নিত্যসঙ্গী। এই পরিবেশে থেকে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রভাবশালী নেতা ও তাদের সহযোগীরা আবাসিক হলের কক্ষগুলো দখল করে আয়েশী জীবনযাপন করেন। অথচ গণরুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনের পরে তারা অনেক সমস্যার সাথে অভিশপ্ত এই গণরুম প্রথা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখে। কিন্তু নির্বাচনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও আশানুরূপ কোন ফল পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা সেই অভিশপ্ত গণরুম প্রথা থেকে মুক্তি না পেলেও ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানীর ডাকসুর নিজ অফিস কক্ষে নতুন এসি। এতে শিক্ষার্থী ও ছাত্র প্রতিনিধিদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ক্ষুব্ধ এসব শিক্ষার্থী বলছেন, আরাম-আয়েশ করার জন্য শিক্ষার্থীরা তাকে ডাকসুর জিএস নির্বাচিত করেনি। নিজের কক্ষে এসি লাগানোর আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল তার। এবিষয়ে তার জবাবদিহি করা উচিত।

এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, অত্যাধিক গরমের কারণে এক ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ তাকে ‘উপহার’ হিসেবে এসি লাগিয়ে দিয়েছেন। ডাকসুর অন্য পদাধিকারীরা চাইলে তাদের জন্যও এসি দিতে তিনি রাজি।

এ বিষয়ে ডাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ডাকসু ভবনের কক্ষগুলোতে এসি লাগানোর জন্য রাব্বানী প্রস্তাব নিয়ে আসে। তবে আমি তাতে সম্মতি দেইনি। তিনি বলেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা গণরুমে অমানবিক পরিবেশে ২০-২২ জন করে গাদাগাদি করে থাকে, সেখানে আমরা তাদের প্রতিনিধি হয়ে এসি রুমে থাকব- এটা আমার কাছে শোভনীয় মনে হয়নি।

গোলাম রাব্বানীর রুমে এসি লাগানোর বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক শেখ নকিবুল হাসান সুমন বলেন, একজন ছাত্রনেতা কোনোভাবেই রুমে এসি লাগাতে পারেন না। এসির ভেতরে বসে শিক্ষার্থীদের কষ্ট অনুভব করা যায় না। একজন ছাত্রনেতার কখনও বিলাসী জীবনযাপন করা উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিশুর সংখ্যা প্রায় এক লাখ তিন হাজার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখের বেশি শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে বলে ...

এত সময় নেই যে কারও সঙ্গে প্রেম করব:জয়া

বিনোদন ডেস্ক:  দুই বাংলা জুড়েই এখন সৃজিত মুখার্জি ও মিথিলা রশীদের বিয়ের ...