Home | সারা দেশ | ঠাকুরগাঁওয়ের শতবর্ষী প্রাচীন গাছটির নাম জানে না কেউ

ঠাকুরগাঁওয়ের শতবর্ষী প্রাচীন গাছটির নাম জানে না কেউ

ডালপালা ছড়িয়ে বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। ঘন পত্রপল্লবে দিনের বেলা এমন ছায়া হয়, যা দেখলে ক্লান্ত পথিকের শত তাড়ায়ও দাঁড়িয়ে যেতে হয়। শরীরটা একটু জিরিয়ে নিতে মন চায়। কিন্তু শতবর্ষী এই গাছের নাম স্থানীয়রা কেউ জানেন না। তাঁরা একে ডাকেন নাকিজাগাছ নামে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলার হাট ইউনিয়নের বড়দেশ্বরী বাজার এলাকায় সব গাছ ছাপিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এটি। উচ্চতা প্রায় ৩৫ ফুট। শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত করে প্রায় ১৪০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে এর ছায়া। ফল আর পাতা ডুমুরগাছের মতো। কখনো ফুল ফোটেনি।

বড়দেশ্বরী বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আঠারো শতকের শেষের দিকে তৎকালীন জমিদার শ্যামাশান্ত রায়বাহাদুর এই গাছের নিচে একটি হাট বসিয়েছিলেন।

ঢোলার হাট গ্রামের ৭০ বছর বয়সী লোকমান হোসেন বলেন, ‘এই গাছের ফুল কখনো দেখা যায়নি। ডুমুরগাছের সঙ্গে এই গাছের পাতা ও ফলের অনেক মিল। কিন্তু ফলের আকৃতি ছোট। গ্রামের লোকজন একে নাকিজা নামে ডাকেন। তবে গাছটির প্রকৃত নাম কী, তা কেউ বলতে পারেন না। এমনকি আমাদের পূর্বপুরুষেরাও বলতে পারেননি, কারা কখন লাগিয়েছিলেন গাছটি।’

লোকমান হোসেন আরও বলেন, গাছটির ফল পাখিদের প্রিয় খাবার। যখন ফল হয়, তখন এই গাছে পাখির মেলা বসে।

বড়দেশ্বরী বাজারের মুদিদোকানি ইউসুফ আলী বলেন, ‘এ গাছের পাতা উট ও মহিষ খায়। একসময় শীত মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসত এই গাছে। তাদের কিচিরমিচিরে ভরে উঠত পুরো এলাকা। তবে শিকারিদের উৎপাতে এখন পাখির সংখ্যা কমে গেছে।

গ্রামের ৮০ বছর বয়সী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় এই গাছ যেমন দেখেছি, এখনো তেমনই আছে। বাবা-দাদাদের কাছে শুনেছি, তাঁরাও ছোটবেলায় গাছটিকে এমনই দেখেছেন। কত ঝড়-বৃষ্টি এই গাছের ওপর দিয়ে গেছে, হিসাব নেই। কিন্তু গাছটির কোনো ক্ষতি হয়নি।’

বিরল এই গাছের বংশবৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হোসেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন গাছটির নাম দিয়েছে নাকিজা। কিন্তু এর প্রকৃত নাম এখনো জানা যায়নি। এটা আসলে কোন জাতের গাছ, তা গবেষণার মাধ্যমে জানা যেতে পারে। এলাকার বয়োবৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, গাছটির বয়স প্রায় ৩০০ বছরের বেশি। প্রাচীন এ গাছ আমাদের ঐতিহ্যের ধারক হতে পারে। তাই কৃষি বিভাগ একে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করে।’

 

আনোয়ার হোসেন আকাশ,
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সদরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

ইকবাল মাহমুদ হিরু, সদরপুর ফরিদপুর থেকেঃ ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় ...

রাণীশংকৈল ইউএনও’র ১’শ টি হুইল চেয়ার প্রদান 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ এর ...