Home | ব্রেকিং নিউজ | টুঙ্গিপাড়ায় চাকরির প্রলোভনে অসামাজিক কার্যকলাপ; ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা

টুঙ্গিপাড়ায় চাকরির প্রলোভনে অসামাজিক কার্যকলাপ; ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়ন স্বাস্থ ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিদর্শক জেসিকা বেগম চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের ১৪ বছরের একটি মেয়েকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলা সুত্রে জানা যায়, বাড়িতে আসা-যাওয়ার ফাঁকে তার কাছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য-কেন্দ্রে মেয়েটিকে আয়ার চাকরীর প্রস্তাব দেন জেসিকা। অভাবের সংসারের কথা বিবেচনা করে মেয়েটির মা তাকে তুলে দেয় জেসিকার হাতে। সেই থেকে মেয়েটি থাকতো জেসিকা’র সরকারি বাসায়, আর আয়ার কাজ করতো ওই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে। কিছুদিন যাওয়ার পর চাকরি পাকা করার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ব্যবহার করে অসামাজিক কার্যকলাপে। এছাড়া অফিসারদের খুশী করার নাম করে একের পর এক পুরুষের সঙ্গে তাকে যৌনকর্ম করতে বাধ্য করতো। এসময় জেসিকা জানালা দিয়ে মোবাইলে ভিডিও করে দিনের পর দিন তাকে ব্লাক-মেইল করে।

এক পর্যায়ে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে জেসিকা ঔষধ খাইয়ে তার গর্ভপাতও করায়। এরপর সে জেসিকার কাছ থেকে বাড়ি চলে এলেও ক’দিন বাদেই জেসিকা আবারও একই প্রলোভন দেখিয়ে তাকে স্বাস্থ্য-কেন্দ্রে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই বিভিন্ন বয়সী পুরুষের সঙ্গেও রাত্রী যাপনে বাধ্য করতো তাকে। কিন্তু দু’বেলা দু’মুঠো ভাত, পুরোনো পোষাক আর চাকরির আশ্বাস ছাড়া কিছুই জোটেনি তার কপালে। তাই এ দুঃসহ জীবন থেকে পরিত্রাণ পেতে সে আদালতের দারস্থ হয়েছে।

এরপর গত ৩ এপ্রিল জেসিকা বেগমকে আসামী করে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতণ দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩ এর) ৬ তৎ সহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে মেয়েটির মা। যার মামলা নং-১৫০/১৯

এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর ফরাজী বলেন, গত ২৫ মার্চ রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত দুই যুবক ও মেয়েটি হাতেনাতে ধরা পড়ে স্থানীয়দের কাছে। পরে পার্শ্ববর্তী বর্ণি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রমজান আলীর বাড়ীতে ১৫-২০ জন লোকের উপস্থিতিতে একধরনের মীমাংশা হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জেসিকা এর আগেও ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একই ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে যা এলাকার সবাই জানে। তিনি নিজের খেয়াল খুশিমতো সেবাকেন্দ্রটি পরিচালনা করেন। রোগীদের সাথে ঝগড়াঝাটি ও দুর্ব্যবহার, ওষুধপত্র ঠিকমতো না দেয়া এসব জেসিকার নিত্য ঘটনা। তার দুর্ব্যবহার ও মিথ্যাচারের কারণে এখন অনেকেই ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যায় না। আর তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। দু’একজন মুখ খুললেও তারা মিথ্যা মামলাসহ নানা হয়রানীর শিকার হয়েছেন।

তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে জেসিকা বেগম বলেন, এসব ঘটনা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি কুচক্রী মহল আমাকে নানা ভাবে হেনস্থা করতে এ মামলাটি দ্বায়ের করেছে।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মাজহারুল হক চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ না পেলেও ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি শুনেছি। যদি অফিসের কোন লোক জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরব আমিরাতকে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশি মেয়েদের

ক্রীড়া ডেস্ক : ঝড়ের বেগে আক্রমণ। ৩১ মিনিটের মধ্যে ২ গোল। ধরেই নেয়া ...

গাইবান্ধায় ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় শারমিন (৮) ...