Home | বিবিধ | কৃষি | টুঙ্গিপাড়ায় কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি

টুঙ্গিপাড়ায় কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : ধারদিনা কইরে ও সুদি টাহা আইনে এক বিঘে জমিতে উস্তে (উচ্ছে) চাষ করছিলাম। ফলনও ভালো হইছেলো। ভাবলাম ধার দিনা শোধ কইরে এটটু শান্তিতে থাকপো। কিন্তু তা আর হলোনা। এর মধ্যিই বৃষ্টি নামলো। কয়দিনে ও থামলো না। এই বৃষ্টির জন্য এত টাহার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেল। এমনই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মিত্রডাঙ্গা গ্রামের কৃষক পিযূষ রায়।

শুধু এই কৃষকই না, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উপজেলার ২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘেরের পাড়ে ও উঁচু জমিতে চাষাবাদ করা গ্রীষ্মকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির সবজি পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, শাকসবজি চাষ করা জমিতে পানি জমে আছে। উচ্চমূল্যের সবজি যেমন শসা, লাউ, করোলা, পেপে, ঢেড়শ, ঝিঙ্গা, টমেটোর চারা, বেগুন, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, পানি কচু, গিমা কলমি, পুঁইশাক ও অন্যান্য সবজির ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা পড়েছে বিপাকে।

বন্যাবাড়ি গ্রামের কৃষক বরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়স শসা পুঁইশাক ও লাল শাকের চাষ করেছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে পুরো সবজি নষ্ট হয়ে যায়। এতে তার ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মিত্রডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শক্তি কীর্ত্তনীয়া জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে শশা চাষ করেছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে তার প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাটগাতি গ্রামের সোহেল শেখ, ছাকা শেখ, ডুমুরিয়া ইউনিয়নের রঞ্জন মন্ডল, সুবল বিশ্বাস, বর্নি ইউনিয়নের রবিন মন্ডল, ওবায়দুর শরীফসহ একাধিক কৃষক জানান, এই অতিবৃষ্টির কারণে তারা কোন শাক বা সবজে ফসল ঘরে উঠাতে পারেনি। এতে তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই প্রণোদনার মাধ্যমে তারা সার বীজ ও নগদ টাকা প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। পরে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। তবে টুঙ্গিপাড়ায় শাকসবজির ফলন ভাল হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে সবজির দাম দ্রুত অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনার মাধ্যমে সার বীজ ও কিছু নগদ টাকা দিলে তারা ক্ষয় ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টুঙ্গিপাড়ায় শেখ রাসেল স্মৃতি সংস্থার উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ রাসেল স্মৃতি সংস্থার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করা ...

কুমিল্লায় আরো ১৩জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা জেলায় নতুন করে আরও ১৩ জনের করোনা পজিটিভ ...