ব্রেকিং নিউজ
Home | শিল্প সাহিত্য | জোবায়ের মিলন এর হেমন্তের কবিতা

জোবায়ের মিলন এর হেমন্তের কবিতা

আজ ভোরে পিচের রাস্তায় হেঁটে যেতে যেতে
পিচের শরীর ভেজা দেখে মনে হলো,
রাতে কিছু শিশির পড়েছে।
পথের পাশে অলক্ষ্যে গজে উঠা দু’একটা ঘাসের পিঠ দেখে বুঝা গেল
তার গায়েও রূপার মতো কুয়াশার বিন্দু।
মনে পড়ে গেল ইটের হৃদয়ে- হেমন্ত ছবি।
মনে পড়ে গেল আমারও একটা বেলা ছিল, শৈশব-কৈশর; মেঠো গাঁয়ে।
সে সময়ে আচমকা ভেবে নিতে হতো না কার্তিক অঘ্রাণ,
বাতাসই বলতো, আমরা এসেছি. . .।
আর, এখানে খুঁজে নিতে হয়- পঞ্জিকার পাতা দেখে দেখে অথবা
শেষ রাতে গায়ে কাঁথা জড়াতে হলে
ভাবতে হয়- শীতের পূর্বাবাস- হেমন্ত উপস্থিতি!

খড় নয়, মাটি নয়, ব্যাত বাঁশ মরে গেছে।
ইটের হৃদয়ে মনে হলো, কতদিন-
শিশির ভেজা ঘাসের রাস্তা ধরে বহুদূর হাঁটি না
বহুদিন হেমন্ত কুয়াশায় ভিজি না!

 

যদিও হেমন্ত আসে

যান্ত্রিক শহরে ইট দেখি, পাথর দেখি, কংক্রিট দিয়ে বানানো দালান দেখি
ফসফরাসের মতো মানুষ দেখি, কর্পুরের মতো মানুষের মন দেখি
ভারী ভারী গøাসে আটা চোখ দেখি- বিনীত চতুর;
কখনও বকুল তলায়, কখনও রমনায়, কখনও এদিক ওদিক-
দু’এক বানানো কার্তিক অঘ্রাণ দেখি,
সাজানো নবান্ন আনন্দ দেয় নিরানন্দ মনে।
লক্ষীপেঁচা কী করে ডাকে, আমনের গন্ধ কেমন, ধান ভানা কী
এখানে অবাস্তব তা;
সারাদিন ভাইবার, সারাদিন ইমো, সারাদিন অপেরামিনি ব্যস্ত রাখে
সবক’টি হাত, সবক’টি মন;
জটিল অংক কষতে কষতে এখানে বেলাখান হয়ে যায় গোধূলীগগ্ন
প্রবীণের মুখ থেকে জেনে নিতে হয় হেমন্ত তারিখ, প্রয়োজন হলে!

যদিও হেমন্ত আশে এখানে ধানের গন্ধ ভাসে না, আউষ আমন খেলে না
ঢেঁকিতে পরে না পা, ধান ভানা গুঁড়ি কোটা সিনেমার মত।
এখানে খেঁজুরের রস সদাই করে খাই- ফেরিওয়ালা নিয়ে এলে,
চিতই পিঠা মেলে দু’এক মোড়ে
হরেক পিঠা কেউ বেচে সুপার মলে।
সন্ধ্যা গগ্নে ঊননের পাড়ে ফুঁ দিতে দিতে ভাঁপা পিঠা খাওয়া,
জালাপিঠা-জাউ হয় না দেখা ভুলে-ভালে।

কুয়াশার ঝাঁজ বেড়ে গেলে
শীতের আঁচ যদি লাগে গায়ে,
যদি নতুন তরকারি ওঠে নিত্য বাজারে
ধরে নিই শীত আসিতেছে- তবে এটা হেমন্ত।
যান্ত্রিক শহরে আমি ও আমরা এমনই তো!

যদিও হেমন্ত আশে কে তারে বরণ করে নেয়!
এখানে বরণ করে অন্য কিছু।

 
হেমন্ত সন্ধ্যায়
আইজ কিছুই করমু না
ঘুরতে যামু না, বেড়াইতে যামু না
যাত্রা দেখতে কিবা পালা গান শুনতে যামু না।
শরিয়ত বয়ান বসেছে উজান গাঁয়
মারফত আছে এক ভাটির ডাঙ্গায়
কোনটাই শুনতে যামু না।
আমার বউ ঘরে প্যাতেছে জালাপিঠা
খেঁজুরের গুঁড় দিয়া খেতে দিবো সন্ধ্যায়- চুলার পাড়ে;
নতুন শাড়িও পড়েছে সে একখান
ধান বেচা অর্থে;
আহ! দেখমু ‘সোনা বউ’ তারে
খেঁজুরের গুঁড় খেতে খেতে।

পিসি এসে বলে গেল, আজ আমার ঘরে আসিস
চিতই দিয়েছি চুলায়, তেলে ভাঁজা সেও আছে
খাবি কিন্তু. . .
শিশির খসা রাইতে চাদর জড়িয়ে গায়
চিতই এর স্বাদ মরিচ বাটায়, আহ! ফ্যালা কি যায়?

আইজ যামু না কোনখানে, কোন পাড়ায়
আমার বউ ঘরে প্যাতেছে জালাপিঠা
খেঁজুরের গুঁড় দিয়া খেতে দিবে া সন্ধ্যায়।

(জালাটিঠা বা জালাপিঠার জাউ= কুমিল্লা অঞ্চলে অগ্রহায়ণ পৌষে লাল মোটা চাউল দিয়ে তৈরি ভারী খিঁচুরীর মতো এক ধরনের পিঠা, যা খেঁজুরের রস, গুঁড়, মরিচ-বাটা দিয়ে খাওয়া হয়। এর প্রাপ্যতা যদিও এখন অনেক কম।)

 

জোবায়ের মিলন
পূর্ব বকস নগর, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা। সেল: ০১৯১৪০২৩১৭৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বই মেলায় ৩ হাজার ৬৪৬ বই প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার :  শেষ হলো বই প্রেমীদের প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা ...

১০ লেখক পেলেন সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার

স্টাফ রিপোর্টার :  এবার ১০ লেখককে সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কারের জন্য ...