Home | সারা দেশ | জিরানী-আমতলা সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ লাখো মানুষের গলার কাটা আধা কিলো সড়ক

জিরানী-আমতলা সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ লাখো মানুষের গলার কাটা আধা কিলো সড়ক

আমিনুল ইসলাম, আশুলিয়া : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরানী-আমতলা সড়কের বেহাল অবস্থা দীর্ঘ দিনের। হাজার হাজার শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাটির একমাত্র সড়ক দিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। তবে দীর্ঘদিন পরে জিরানী-আমতলা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে এরই মধ্যে সড়কের প্রবেশ পথ জিরানী থেকে টেঙ্গুরী পুকুরপাড় পর্যন্ত রয়েছে আগের অবস্তাতেই। ফলে এ অংশটুকু মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়ে লক্ষাধিক মানুষের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর জিরানী-আমতলা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে। তবে অজ্ঞাত কারণে সড়কের শুরু থেকে কাজ না ধরে কোনাপাড়া কলাবাগান থেকে শুরু করে জিরানীর দিকে আসতে থাকে। এরই মধ্যে সড়কটির কলাবাগান থেকে টেঙ্গুরী এলাকার পূবালী সেন্ট্রাল ডিপো পর্যন্ত দুইকিলো কনক্রিটের ঢালাই শেষ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও পূবালী সেন্ট্রাল ডিপো থেকে জিরানী বাজার পর্যন্ত সড়কের বাকী অংশের কাজ শুরু করেনি। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি রয়েই গেছে।
সম্প্রতি সড়কটি ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির প্রবেশ ধারে রয়েছে বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতাল। এ হাসপাতালে প্রতিদিনই শত শত রোগী আসে সেবা নিতে। এরই পরেও রয়েছে রাস্তাটির উভয়পাশে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। সেই সাথে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। রয়েছে কয়েকটি পোশাক কারখানাও। কিন্তু জিরানী থেকে টেঙ্গীরর আগ পর্যন্ত সড়কটির এমনই অবস্থা যে যানবাহনতো দূরের কথা খালি পায়ে মানুষ জনও চলাচল করতে পারছেনা। রাস্তাটি বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সেখানে প্রতিনিয়ত পানি জমে থাকছে। আর প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।

প্রতিদিনই আধাকিলোর রাস্তায় যানবাহন বিকল সহ উল্টে যাচ্ছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন। আবার একটি বড় ট্রাক কিংবা লড়ি গর্তে আটকে গিয়ে উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকতে হয় রাস্তায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে লোকজনদের।

কথা হয় রিকশা চালক আলতাফ হোসেন এর সাথে। সে জানায় রাস্তাতো নয় যেন পুকুর। রিকশায় যাত্রী নিয়ে আসতে গেলে প্রায়ই দূর্ঘটনায় পপতে হচ্ছে। কিন্তু কি করবো বলেন সংসার চালাতে হবেতো।

তিনি আরো জানান, দুই কিলোর মত রাস্তা কনক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়েছে এবং কলেজ কলাবাগন থেকে শিমুলিয়া মোড় পর্যন্ত পিচ ঢালাই না করলেও সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু জানিনা কেন অল্প পরিমাণ এ সড়কটুকু সংস্কার করা হচ্ছে না। কবে এ দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবো তিনি যোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক জানায়, দু:খে মনে চায় রিকশা চালানো বাদ দিয়া নৌকা কিনি। পরে এ রাস্তায় নৌকা চালাই। বাংলাদেশের অন্য কোথাও মনে হয় এরকম রাস্তা আর একটি নেই।

প্রতিদিন ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অসুস্থদের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় রোগীদের। ঘর থেকে বাসিন্দারা সহজে বের হতে পারে না। দীর্ঘ দিন ধরে এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

একাধিক কলেজছাত্রী জানান, সড়কটির বেহালদশায় তাদের কলেজে যেতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে লেখাপড়ায় মারত্মক ব্যাঘাত হচ্ছে। মাঝে মধ্যে রিকশা বা অটোরিকশা উল্টে গিয়ে দূর্ঘটনায় পড়তে হয়। আবার রাস্তার প্রত্যেকটি স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়ে তাতে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়েছ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ডাক্তারকে মারধর করলেন সিলেটের মেয়র?

স্টাফ রিপোর্টার :  সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর চড় থাপ্পড়ে ...

শেরপুরের শ্রীবরদীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী খুন

জাহিদুল হক মনির, শেরপুর || শেরপুরের শ্রীবরদীতে যৌতুকের দাবিতে পাষন্ড স্বামীর হাতে ...