ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | জাল জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে সরাইলে বাল্য বিয়ে, মুচলেকা রাখলেন ইউএনও

জাল জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে সরাইলে বাল্য বিয়ে, মুচলেকা রাখলেন ইউএনও

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জাল জন্মনিবন্ধনে হলফ নামার মাধ্যমে অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে হয়েছে। এই বিয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ছাত্রের মা পারুল বেগম। তিনি এই বিয়েকে অবৈধ বলে ভেঙ্গে দেওয়ারও আবেদন করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ছেলে মেয়ে ও তাদের অভিভাবকরা। অভিযোগপত্র, স্থানীয় লোকজন ও ছাত্রের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সরাইল সদর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামের মোঃ আকবর আলীর ছেলে মোঃ আপন আলী-(১৬)। আর দেওয়ান হাবলী গ্রামের মোঃ আরিছ মিয়ার শিশু কন্যা স্বপ্না বেগম-(১৪)। চলতি বছরের ১০ জুলাই সোহরাব মিয়া নামের এক লোকের সহায়তায় হলফ নামার মাধ্যমে তারা একে অপরকে বিয়ে করে সংসার করে আসছে। গত ৮দিন ধরে চলছে তাদের দাম্পত্য জীবন।
আপনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আপন ২০১৭ সালে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। বিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রারে তার জন্ম তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০০২ ইংরেজী। ঘষামাজা করে জাল নিবন্ধনে দেখানো হয়েছে ৫ জুলাই ১৯৯৭ ইংরেজী। আর কালিকচ্ছ পাঠশালার সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ছাত্রী স্বপ্না। তার বয়স ১৪ বছর।
স্বপ্নার মা এ বিয়ে মেনে নিলেও এই বিয়ে মেনে নেয়নি আপনের পরিবার। তারা এই বাল্য বিয়ের বিরোধীতা করে আসছেন। আপনের মা পারুল বেগম অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ের বিয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গতকাল মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষকে ডেকে এনে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার নির্দেশ দেন। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনের অনুরোধে শেষে ৩শ টাকা ষ্ট্যাম্পে উভয় পক্ষের মুচলেকা রাখেন। আপন ও স্বপ্না প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর আইনি পক্রিয়ায় ইসলামি বিধান মতে তাদের বিয়ে হবে। এর আগে একে অপরের সাথে সংসার করতে পারবে না।
এ ব্যাপারে আপনের বাবা আকবর আলী এবং মা পারুল বেগম বলেন, সোহরাব নামের এক লোক স্বপ্নার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জন্ম নিবন্ধনে ঘষামাজা ও জালিয়াতি করে শেষ পর্যন্ত কাউকে না জানিয়ে হলফনামার মাধ্যমে এ বিয়ে করিয়েছেন। আমরা এ বাল্য বিয়ে মানি না। আইনি সহায়তা চাই।
স্বপ্নার মা হালেমা বেগম বলেন, সোহরাব সব করেছে। আমি কানে কম শুনি। কিছুই জানি না। সোহরাব এ বিয়ের জন্য জন্মনিবন্ধন ও লোকজনকে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছে।এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোঃ শাহ আলম মিয়া বলেন, এটা শতভাগ বাল্য বিয়ে। ঘটনার মূল সহযোগী সোহরাব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইসরাত বলেন, এটা শতভাগ বাল্য বিয়ে। অবৈধ সংসার। কোন ভাবেই এ বিয়ে মেনে নেওয়া যায় না। তাই তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। উভয়ই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারবে মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মায়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া ১০১ হিন্দু পরিবারের মাঝে শারদীয় দুর্গোৎসবের বস্ত্র বিতরণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি : বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া মায়ানমারের ১০১ ...

নড়াইলে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার অপরাধে ৭ জন মৎস্যজীবীকে কারাদন্ড

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন পিপিএম’র গোপন সংবাদের ...