ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | জামায়াতের সন্ত্রাস পুলিশ ফাঁড়িতে বাড়তি অস্ত্র গোলাবারুদ

জামায়াতের সন্ত্রাস পুলিশ ফাঁড়িতে বাড়তি অস্ত্র গোলাবারুদ

স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : জামায়াত-শিবিরের হামলার আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ, বাড়তি অস্ত্র ও গোলাবারুদ, বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের পাশাপাশি নিরাপত্তা দেয়ালও তৈরি করা হচ্ছে কোনো কোনো এলাকায়।

২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে জামায়াত-শিবিরের আক্রমণ চালায়। এর মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ চালিয়ে চারজন পুলিশকে হত্যা করা হয়। সেদিন রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায় রংপুরের মিঠাপুকুর, ঠাকুরগাঁও সদর, সিরাজগঞ্জ সদরেও। পরের কয়েকদিন আক্রমণ হয়েছে বগুড়া সদর, শাহজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়ায় পুলিশ ফাঁড়ি, জয়পুাহাটের পাঁচবিবি থানায়। আক্রমণ হয়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালীতেও।
২০১২ সালের শেষ দিকে এসে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা হঠাৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর চোরাগুপ্তা হামলা শুরু করে। পরে এই প্রবণতা বাড়তে থাকে। সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর থেকে হামলা শুরু হয় বেপরোয়া।  সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর তিন দিনে আটজন পুলিশকে হত্যা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সব জায়গায় লোকবল ও পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র না থাকায় পুলিশ ঠেকাতে পারেনি আক্রমণকারীদের। কোথাও কোথাও বিজিবি এসে উদ্ধার করেছে পুলিশকে।
বেড়েছে লোকবল, অস্ত্র গোলাবারুদ: ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণের সময় দেখানে ছিল ১৬ জন পুলিশ। এদের সবার হাতে ছিল না অস্ত্র। গুলিও ছিল কেবল ৪০টি। নিরস্ত্র চারজন পুলিশকে ধরে কুপিয়ে হত্যা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সেই ঘটনার পর থেকে ফাঁড়িতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সবার হাতে দেয়া হয়েছে অস্ত্র।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদ্স্যদের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, এসএমজিসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও পর্যাপ্ত গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের জন্য ৩০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে যশোরের ২৫টি স্থায়ী এবং তিনটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়িতেও। ফাঁড়িগুলোতে নিরাপত্তা দেয়ার তৈরির উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের নাশকতার কথা মাথায় রেখে ফাঁড়িগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদেরকে এসএমজিসহ অত্যাধুনিক সব অস্ত্র দেওয়া হয়েছে। ফাঁড়ির দেয়াল নির্মাণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।’
নিরাপত্তার আশঙ্কার কারণে নাটোরের সিংড়া উপজেলার একটি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সিংড়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নাটোরের পুলিশ সুপার নাহিদ হোসেন বলেন, ‘দু’টি ফাঁড়ি ওয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে । এসব কাজ শেষ হলেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ আবার ফাঁড়িতে পাঠানো হবে।’
নিহতদের জন্য অনুদান: পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের হামলায় মারা গেছে আটজন পুলিশ সদস্য। আহত হয়েছে চারশরও বেশি। আহতদের  মধ্যে ৩৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাজধানীর স্কয়ারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এদের চিকিৎসা চলছে।
নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে পুলিশের পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। পুলিশ কল্যাণ তহবিল থেকে এই টাকা দেয়া হবে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ও জনতা ব্যংকের একটি তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে নগদ আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (মিডিয়া) জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সব সময় সচেতন আছি’।
x

Check Also

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...