ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | জামালগঞ্জে বীজ ও সার শংকট বিপাকে কৃষকরা সময় মত বরাদ্ধ না পেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা

জামালগঞ্জে বীজ ও সার শংকট বিপাকে কৃষকরা সময় মত বরাদ্ধ না পেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা

sunamgonj mapআকবর হোসেন,জামালগঞ্জ(সুনামগঞ্জ): অসংখ্য হাত্তর বাওর আর শস্য ভান্ডার খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলা। এ জেলার উৎপন্ন ধান এখানকার মানুষের চাহিদা পূরন করে অতিরিক্ত বাংলাদেশের খাদ্য শস্যে যোগান দাতা হিসেবে ভুমিকা রেখে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। জেলার মধ্যে জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার,হালির হাওর সহ অন্যান্য হাওরের উপন্ন ধান জেলার খাদ্য ভান্ডারকে পরিপূর্ন করতে অগ্রনী ভুমিকা রেখে আসছে।
এক ফসলী বোরো জমিতে এমনিতেই অকাল বন্যা,খড়া,শিলা বৃষ্টিতে অনেক সময় ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়।  বর্তমানে বীজ ও সারের জন্য কৃষকদেরকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং সময় মত বীজও সার না পাওয়ার কারনে কৃষকদের বোরো ও মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
জামালগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ডিসেম্বর,জানুয়ারী ও  ফেব্রæয়ারী মাসেই বীজ ও সারের চাহিদা থাকে বলে জানান একাধিক কৃষক।
গত মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা থেকে জানাযায়,উপজেলার বিসিআইসির সার ডিলার ৬ জন থাকলেও মামলার জটিলতার কারনে ৫ জন ডিলার এই সার সরবরাহ করে আসছে। উপজেলার ৪৫ টি ওয়ার্ডের খুচরা সার ডিলারের মধ্যে জামালগঞ্জে আছে ১২ জন ও নতুন ভাবে প্রক্রিয়াধীন আছে আরো ৫ জন। বীজের  ডিলারদের নিয়ে আবার প্রশাসনও বিপাকে ২০ জন ডিলার থাকলেও ঠিক মত বীজ সরবরাহ করতে পারছেননা ডিলাররা। বরাদ্ধ পাওয়ার পর আবার বেশী দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ডিলারের বিরুদ্ধে। জামালগঞ্জে নিয়মিত অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে ডিলারদের কার্যক্রমে। সভায় উল্লেখ করা হয়,গত ১৫ ই নভেম্বর বীজ পাচারের সময় হাতে নাতে ফেনারবাকের বীজ ডিলার গোলাম মোস্তফাকে আটক করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা এসএম মোকসেদুল হক।  আইনি জটিলতার কারনে মারপ্যাচে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নাম মাত্র ৩ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে খালাস পেয়ে বীরদর্পে আবার অনিয়মে নামেন গোলাম মোস্তফা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়,জামালগঞ্জ উপজেলার মোট কৃষি জমির পরিমান ৩১৩৩১ হেক্টর এর মধ্যে আবাদী জমির পরিমান ২৭০৫০ হেক্টর। শীত কালীন সবজি ৬৪০ হেক্টর সহ টমেটু,আলু,সরিষা,মরিচ,মিষ্টি আলু,গম,চিনাবাদাম সহ মোট ১০৭০ হেক্টর। আবাদ কৃত বোরো ফসলী জমি ২৪০০০ হেক্টর।
উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সূত্রে জানাযায়,গত বছরের জামালগঞ্জে মোট চাহিদার পরিমান ৪৩২০ মেট্রিক টন এর মধে বাস্তব ব্যবহারের পরিমান ৩২৪০ মে: টন হলেও  বরাদ্ধ পাওয়া গিয়েছিল ১৫৪০ মেট্রিক টন ঘাটতি ছিল ১৭০০ মেট্রিক টন। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হেক্টর প্রতি সারের প্রায়োজন ২২৫ কেজি,ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত হেক্টর প্রতি প্রায়োজন ১৭০ কেজি। বাকী সার গুলো কৃষকদের কে নিজ দায়িত্বে বাহির থেকে সরবরাহ করতে হয়েছিল। এবছরের চলতি মৌসুমে সারের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ২৭০০ মে: টন,বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে ২০০৯ মে:টন বাকী ৭০০ মে: টন সার ঘাটতি আছে। সভা থেকে আরো জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে ৫০০ মে: টনের চাহিদা দেওয়ার কথা।
গত বছরের মত এবারও ব্যাতিক্রম হবেনা বলে ধারনা করা হচ্ছে।  অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও জামালগঞ্জ উপজেলায় জানুয়ারী ও ফেব্রæয়ারী মাসেই এর প্রায়োজনীয়তা বেশী লক্ষ করা যায়।
উপজেলা ক্ষেত মজুর সমিতির নেতা কমরেড অজিত লাল রায় জানান,বর্তমানে বোরো ও শীতকালীন সবজির মৌসুম চলছে,আমাদের একটাই ফসল,আর এফসল যদি সারের জন্য ক্ষতি হয় তাহলে কৃষকদের আর বাচার পথ থাকবেনা।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: এমদাদ হোসেন শেখ জানান,আমি প্রথম থেকেই বীজ ও সারের বরাদ্ধ বাড়ানোর জন্য চেষ্ঠা করে যাচ্ছি। তিনি আরো জানান,ইতিমধ্যে সার ও বীজের শংকট নিয়ে উর্ধ¦তন কর্তৃপক্ষের সাথে পত্র যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শফি কামাল জানান সার ও বীজের ব্যাপারে উপজেলার মনিটরিং কমিটি নিয়মিত মনিটর করছে। বীজ ও সারের বরাদ্ধ বাড়ানোর বিষয়ে উর্ধ¦তন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দিনাজপুরে প্রতিমন ধান বিক্রি করে মিলছে একজন শ্রমিক !

দিনাজপুর প্রতিনিধি :  উত্তরের শষ্যভান্ডার দিনাজপুরে ধানের ভালো ফলন পেয়েও ভালো নেই ...

দিনাজপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫’শ একর জমির ফসল বিনষ্ট

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে খানসামা ও বীরগঞ্জে চারটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ...