ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | জাবিতে শিক্ষককে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

জাবিতে শিক্ষককে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

মাহতাব উদ্দীন রবিন, জাবি প্রতিনিধি, ১৬ জানুয়ারি, বিডিটুডে ২৪ডটকম ॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার সেলিমা রহমান কারিগরী মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক আহসান হাবীব প্রিন্সকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করার দায়ে ৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।  মঙ্গলবার সাভার মডেল থানায় জাহাঙ্গীরনগরের ৬জন ও ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন আহসান হাবীব।

আটককৃতরা হচ্ছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের  শফিক আলম, আনিসুজ্জামান সিদ্দিকী, দর্শন বিভাগের শাহেদ শাহ এবং ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল ইসলাম ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারন সম্পাদক জাবির হোসেন। এছাড়া অপর দুইজন অর্ভিযুক্ত হচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভগের ছাত্র রশিদুল ইসলাম নাহিদ ও ইতিহাস বিভাগের তমাল। তারা সবাই ৩৮তম ব্যাচের ছাত্র। আটককৃত ছাত্রদের কাছ থেকে জানা যায়, আটককৃত ছাত্র শফিক আলম প্রভাষক আহসান হাবীব প্রিন্সের কাছে কিছু টাকা পেত। সেই টাকা উদ্ধারের জন্য তারা এই কৌশল বেছে নেয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ওৎ পেতে থাকা র‌্যাব-৪  গত সোমবার রাতে তাদের আটক করে।

র‌্যাব-৪ এর সূত্র জানায়, প্রভাষক আহসান হাবীব প্রিন্স গত ১১ জানুয়ারী সরকারী কাজে ঢাকা আসেন। এ সময় তার পূর্ব পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র জাবির হোসেনের সঙ্গে দেখা হয়। জাবির কৌশলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলে নিয়ে আসে পরে তাকে আফম কামাল উদ্দীন হলে শফিক আলমের ২১৩ নং কক্ষে আটকে রাখে । পরে জাবিরসহ ৪/৫জন তার পরিবারের সদস্যদের কাছে  ১০লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন এবং করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার বিকেলে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস থেকে টাকা নেয়ার সময় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা র‌্যাবের সদস্যরা তাদের আটক করেন। রাত এগারটার দিকে আটককৃতদের সাভার থানায় সোপর্দ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে  আহসান হাবীব প্রিন্স বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলা দায়ের করেন। দুপুরে তাদের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সাভার থানার এস আই সাজ্জাদ রহমান বলেন, আদালত মামলা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জিন্নাহ্ এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মং সিংহাই মারমা এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, জাবির হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য হলে রাষ্ট্রীয় আইনে তার শাস্তি হবে। এ ব্যাপারে নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।  আটককৃত ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, পূর্ব পরিচিত আহসান হাবিব প্রিন্স পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের ফাঁসিয়ে দিয়েছে। কথিত অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং পাওনা টাকা পরিশোধ না করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তারা আরো বলেন, বাস্তবতার নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে কাউকেই জিম্মী করে দীর্ঘদিন আটকে রাখা সম্ভব নয়। তাছাড়া আহসান হাবীবকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনভাবে ঘুরাফেরা করতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ডিসিপ্লিনারী বোর্ড বসার পরেই আমরা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বেআইনী কাজ করতে পারে তা আমি বিশ্বাস করিনা।

x

Check Also

দিলীপ ঘোষকে মারতে বাংলাদেশি সুপারি কিলার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : হামলার আশঙ্কায় বাড়ি বদল করলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি। দিলীপ ঘোষ নিজেই ...

কাশ্মীরের এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্রিটেনের শয়তানিসুলভ পদক্ষেপ : ইরান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ...