ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই ফেনীর প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু

জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই ফেনীর প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই ফেনীর প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। চা-দোকান থেকে শুরু প্রায় সব ক্ষেত্রে চলছে নানা আলোচনা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় পরিম-লে প্রার্থিতা পাওয়ার লড়াই তুঙ্গে। একাধিক নেতা মাঠে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নৌকা-ধানের শীষের টিকিট কারা পাচ্ছেন এ নিয়ে চলছে কর্মী-সমথক ও ভোটারদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসমীন দল তরুণদের প্রাধান্য দেবে বলে একটা দলীয় সিদ্ধান্ত হয়ে আছে আগেই। ফলে দেশের অন্যান্য আসনের মতো ফেনী-৩ আসনেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফোরামের তরুণ নেতারা মনোনয়নের প্রত্যাশায় নির্বাচনী মাঠে তৎপর।

ওদিকে বিএনপির এত দিনকার প্রার্থী, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে টানা চারবার এখানে নির্বাচিত হয়েছেন, মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ায় নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাদের। তবে এর চেয়ে তাদের বড় ভাবনা জামায়াতকে নিয়ে।

সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-৩ আসনে বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র রহিম উল্লাহ। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদে সহজ জয় পান তিনি। কিন্তু প্রেক্ষাপট ক্রমেই উল্টে যায়। যারা মহাজোট প্রার্থীকে ঠেকিয়ে রহিম উল্লাহকে জয়ী করেছিলেন, একপর্যায়ে তাদের বিরাগভাজন হয়ে তিনি এখন কোণঠাসা।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী। বিএনপি জোটের ভেতরেও চলছে নানা হিসাব। বিএনপি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমিরের নিজ এলাকা হওয়ায় ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন শিবির।

সোনাগাজী উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটারসংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্লাহ। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা তিনবার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন মাহবুবুল আলম তারা। পরেরবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি ক্ষোভ-অভিমানে আওয়ামী লীগে যোগ দেনা। ওই নির্বাচনে মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরে যান তিনি।  ২০০১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরে যান যথাক্রমে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জয়নাল হাজারী ও মাহবুবুল আলম তারা।

মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ার পর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম আলোচনার শীর্ষে। জন্মস্থান দাগনভূঞা হলেও রাজধানীতেও তার শক্ত অবস্থান থাকায় তার নির্বাচনী এলাকা কোনটা হবে এ নিয়ে ভাবনায় নেতাকর্মীরা। তবে জোটগত হিসাব না হলে এখানে মিন্টুর পছন্দ প্রাধান্য পাবে এটাই অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করছেন জেলা ও উপজেলার বিএনপি নেতারা। তিনি প্রার্থী না হলে তার ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন অথবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে বিএনপির নেতা ব্রিগেডিয়ার নাছির উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, প্রবাসী মো. সোলায়মান ভূঞা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও বাদ পড়ে যান এ এলাকার সংসদ সদস্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা রহিম উল্লাহ। গতবারের নির্বাচনে নৌকার টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। এবারের নির্বাচনেও আলোচনায় রয়েছেন গতবারের প্রার্থী যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে আলোচনায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী এবং ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন।

এবার দলের পক্ষ থেকে তরুণদের প্রাধান্য দেয়া হতে পারে এমন খবরে আগে থেকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী, জেলা যুবলীগ সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন এবং সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম। সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের দলীয় টিকিট পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।

বিএনপি জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহম্মাদ ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দীন মানিকের বাড়ি দাগনভূঞায়। মকবুল আহম্মাদ এর আগেও ফেনী-২ আসন থেকে একাধিকবার দলীয় প্রার্থী হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী না হলে বিকল্প হিসেবে দলের পক্ষ থেকে ডা. মানিককে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ঘরোয়া পরিবেশে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইরানের মানবিক ত্রাণবাহী দ্বিতীয় কার্গো বিমান বাংলাদেশে পৌঁছেছে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা ...

অস্ট্রেলেসিয়ান বিউটি প্যাজেন্ট প্রতিযোগিতায় রানার আপ হলেন বাংলাদেশের অনন্যা

বিনোদন ডেস্ক :  অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি সাউথ এশিয়া অস্ট্রেলেসিয়ান বিউটি প্যাজেন্ট এমআইকিউ প্রতিযোগিতায় ...