Home | খেলাধূলা | জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এখন অনেক বেশি সাহসী

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এখন অনেক বেশি সাহসী

স্পোর্টস ডেস্ক:  আচ্ছা ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের মান কি নিচে নেমে গেছে? সে জন্যই কি জাতীয় দলের তকমাধারী ক্রিকেটারদের আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল মনে হচ্ছে? তাদের পারফরমেন্সের দ্যুতিতে মাঠ আরও বেশি আলোকিত হচ্ছে? নাকি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন ও পারফরমেন্স অনেক বেশি উন্নত হয়েছে?

তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে খেলে হাত পাকিয়ে ফেলেছেন। তাই তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন অনেক বেশি সাহসী। গত কয়েকদিন বিকেএসপির তিন ও চার নম্বর মাঠ এবং ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এ নিয়ে বিস্তর কথা-বার্তা হচ্ছে।

এ দুই ধারনার মধ্যে কোনটা ঠিক? তা নিয়ে একটা ছোটখাট বিতর্ক হতেই পারে। তবে যারা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করছেন এবং মাঠে বসে ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স পাখির চোখে পরখ করছেন, সেই দ্রোনাচার্য খালেদ মাহমুদ সুজন এবং সোহেল ইসলাম পরের মতামত অনুসারি।

এই দুই কোচের ধারণা, আসলে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নানা কারণেই এখন অনেক বেশি সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে খেলে তারা অনেক বেশি সাহসী ও সাবলীল এবং পরিণত। এ কারণেই এখন জাতীয় দলের পারফরমাররা অনেক বেশি উজ্জ্বল। তারাই ম্যাচের নিয়ন্তা। তাদের অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন ও পারফরমেন্স অনেক বেশি নজরকাড়া ও কার্যকর।

একটা ছোট পরিসংখ্যান দেই। লক্ষ্য করুন, এবারের লিগে এখন পর্যন্ত সেঞ্চুুরি হয়েছে ছয়টি। যার পাঁচটিই করেছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, নাসির হোসেন, নাঈম ইসলাম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত।

একইভাবে বল হাতে ৫ ও তার বেশি উইকেট শিকারী বোলারও জাতীয় দলের পারফরমার রুবেল হোসেন ও আরাফাত সানি। এখন পর্যন্ত যে ১২টি খেলা হয়েছে, তার বেশিরভাগ ম্যাচের সেরা পারফরমারও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

তিনটি ম্যাচের কথা বলি। প্রথম দিন খেলাঘর সমাজ কল্যান সমিতির বিরুদ্ধে আবাহনী ২৯৩ রান টপকে গেছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে। লিজেন্ডস অপ রূপগঞ্জ যে দুটি ম্যাচ জিতেছে, তার রূপকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম।

নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় ঝুলে প্রথম ম্যাচ খেলতে না পারা তামিম ইকবাল মাঠে নেমেই ১৫৭ রানের বিশাল ইনিংস খেলে জিতিয়েছেন মোহামেডানকে। আবাহনী দ্বিতীয় ম্যাচেও জিতেছে তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইলোর দৃঢ়তায়।

গাজী ট্যাংকের সেরা পারফরমার নাসির হোসেন। প্রথম দিন মোহামেডানের বিরুদ্ধে অসাধারণ ম্যাচ জেতানো শতক উপহার দেয়া নাসির গাজী ট্যাংকের পরের ম্যাচেরও সর্বোচ্চ স্কোরার।

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কেন ও কী কারণে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে, অনেক বেশি উজ্জ্বল এবং ম্যাচ জেতানো ভূমিকা রাখছেন?

আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন আর মোহামেডান কোচ সোহেল ইসলাম সঙ্গে আলাপে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। খালেদ মাহমুদ সুজনের কথা, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাকিদের অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন ও পারফরমেন্সের পার্থক্য সব সময়ই ছিল।

পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। তবে এখন তা বেড়েছে বহু অংশে। কারণ এখন যারা জাতীয় দলে খেলছে বা বিভিন্ন সময় জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করছে, তারা একটা সাজানো-গোছানো ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এবং তৈরি থাকছে।

ফিটনেস লেভেলও অনেক ভালো হয়েছে। শারীরিক সামর্থ্য বাড়ার পাশাপাশি ক্ষিপ্রতা ও চপলতা বেড়েছে অনেক। যে কারণে ফিল্ডিংয়ের মানও হয়েছে উন্নত। আর জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা ধরনের কন্ডিশনে বড় বড় পারফরমারদের সঙ্গে খেলে খেলে নিজেদের পরিণত করেছে।

তাদের সাহস অনেক বেড়ে গেছে। আত্মবিশ্বাস এবং সামর্থ্যরে প্রতি আস্থাও বেড়েছে বহুগুণে। তারা ভাবছে, আরে আমরা বড় বড় পারফরমারের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় খেলে খেলে হাত পাকাচ্ছি। পারফরমও করছি। দলও জেতাচ্ছি।

এটাই ঘরের ক্রিকেটে ভাল খেলার সবচেয়ে বড় রসদ ও অনুপ্রেরণা। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স বেড়েছে বহগুণে। এখন ২৯০ প্লাস রান টপকে যাচ্ছে নির্ভয়ে। এই তো সেদিন আবাহনী ২৯৩ রান তাড়া করে জিতলো। আমি কোচ হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সাহসী, স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল ব্যাটিং দেখে এক কথায় মুগ্ধ। পরের ম্যাচে দেখলাম আরেক উদ্যমী তরুণ নাজমুল হোসেন শান্তর চমৎকার শতক।

এই তরুণ জাতীয় দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফরে ছিল। মূলতঃ ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডের মেম্বার হিসেবে থেকে শেষ টেস্ট খেলেছে। দেখেন একটি সফরেই তার ম্যাচিউরিটি বেড়েছে অনেক।’

মোহামেডানের কোচ সোহেল ইসলামও প্রায় একই কথা বলেছেন। তার অনুভব, ‘এমন ভাবার কোন কারণ নেই যে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিশেষ করে ঢাকা লিগের মান কমেছে। আমি সেই খেলোয়াড়ি জীবন থেকে দেখছি। তাতে আমার মনে হয় ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সামগ্রিক মান আগের মতই আছে। কমেনি। তবে আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন ও পারফরমেন্স অনেক উন্নত হয়েছে। আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অনেক বেশি সাহসী ও সাবলীল। যে কারণে তাদের পারফরমেন্সটাও হচ্ছে ভালো। চোখেও পড়ছে বেশি। তারাই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন।’

সোহেল অবশ্য আরও একটা বিষয় যোগ করেছেন। তার ধারণা, বয়সভিত্তিক দলগুলোর নিয়মতি প্রশিক্ষণ এবং পরিচর্যাও বর্তমান প্রজন্মের পারফরমেন্সে বড় ভূমিকা রাখছে। এ প্রসঙ্গে সোহেল বলেন, সন্দেহ নেই আমাদের জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা অনেক হাই প্রোফাইল। তারা সিস্টেম মেনে একটা সাজানো গোছানো ট্রেনিং প্রোগ্রামের মধ্যে রেখেছেন আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। তাতে ফিটনেস এবং অ্যাপোচ-অ্যাপ্লিকেশন অবশ্যই ভাল হচ্ছে।

এর পাশাপাশি আরও বিষয় খেয়াল করে দেখেন, যে সব ক্রিকেটার বয়স ভিত্তিক দলে খেলে জাতীয় দলে ঢুকছে তারা অনেক বেশি সাহসী, পরিণত ও পরিপক্ক। কারণ অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিভিন্ন দেশের বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে খেলে খেলে তাদের সাহস বাড়ছে। তারা বিভিন্ন কন্ডিশনে অন্য দেশের সঙ্গে ভালো পারফরম করা শিখছেন। যা তারা জাতীয় দলে ভালো খেলার সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করছে। তার প্রমাণ দেখেন মোসাদ্দেক, মিরাজ ও শান্তরা অতি দ্রুত নিজেকে মেলে ধরতে পারছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ম্যালেরিয়ার টিকা পাচ্ছে প্রথম ৩ দেশ

স্টাফ রিপোর্টার :  প্রথমবারের মতো ঘানা, কেনিয়া ও মালাউইয়ে ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়ার ...

পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে আজহার-উমর

স্পোর্টস ডেস্ক: অধিনায়কের দায়িত্ব ছাড়ার পর ওয়ানডে দলে জায়গা হারিয়েছিলেন আজহার আলী। ...