Home | আন্তর্জাতিক | জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ‘ভণ্ডামি ও নিজেদের সেবায়’ নিয়োজিত রয়েছে বলে দাবি করে সংস্থাটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ পরিষদকে ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের নর্দমা’ অ্যাখ্যায়িত করে সংস্থাটি ‘মানবাধিকারের সঙ্গে উপহাস করে আসছিল’বলেও মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।

মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হ্যালি পরিষদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসার কথা জানান। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

মাইক পম্পেও সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক ৪৭টি সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত এ পরিষদকে ‘মানবাধিকার সুরক্ষায় খুবই দুর্বল সংস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জাগতসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অবস্থান পছন্দের নয় যুক্তরাষ্ট্রের। তারা বলে আসছিল, এই কমিশন ইসরায়েলবিদ্বেষী। মূলত ইসরায়েল প্রশ্নে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল অনমনীয় থাকায় পরিষদটি ছাড়লো যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে ২০১৭ সালেও এই কাউন্সিলকে ‘ইসরায়েল-বিরোধী’ বলে দাবি করেছিলেন হ্যালি। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, সংস্থাটি ধারাবাহিক ইসরায়েলবিদ্বেষী ভূমিকা থেকে সরে না এলে যুক্তরাষ্ট্র কমিশন ছেড়ে যাবে। শেষমেষ দেশটি সেখান থেকে সরে আসার ঘোষণাই দিলো।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী অনৈতিক দখলদারিত্ব ও নিপীড়নকে এর আলোচ্যসূচির স্থায়ী বিষয়বস্তু হিসেবে রেখেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল, কাউন্সিল তাদের অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে তাদের স্থায়ী আলোচ্যসূচি থেকে বাদ দেবে।

এর আগে বুশ প্রশাসনের সময় ৩ বছরের জন্য কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেনি যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা শাসনামলে ফের ২০০৯ সালে ওয়াশিংটন কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত হয় দেশটি।

১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনের ভূমি অবৈধভাবে দখল করে ইসরায়েল নামের জায়নবাদী রাষ্ট্রটির প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে দেশটি। এরপর প্রতিবছর ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে ফিলিস্তিনিরা।

চলতি বছরের ১৪ মে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ জোরালো হয়ে উঠলে একদিনেই ৬৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

আর এ হত্যাযজ্ঞে ইসরায়েলি বাহিনীর তদন্তের পক্ষে অবস্থান নেয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ইসরায়েলের প্রধান রক্ষাকর্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন এমন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে ২১ আগস্ট মামলার রায়

ইন্টারন্যশনাল ডেস্ক : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ...

কেনিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৫০

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া ...