ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | জনগণকে নিয়ে মোকাবেলা করব-কামরুল : প্রয়োজনে কোরবানি হয়ে যাব- খোকা

জনগণকে নিয়ে মোকাবেলা করব-কামরুল : প্রয়োজনে কোরবানি হয়ে যাব- খোকা

khoka kamrulস্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (রবিবার) রাতে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বলেছেন, “২৪ অক্টোবরের পর দেশে কিছুই হবে না। বিরোধী দল অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কারণ তারা চায় একটা অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করতে।”

 

শেখ হাসিনা ব্যাখ্যা করে বলেন,  ”২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। ৬ জানুয়ারি তিনি  শপথ পড়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। ২৫ জানুয়ারি সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। এর ৯০ দিন পূর্বের সময় ২৫ অক্টোবর। সুতরাং ২৪ অক্টোবরের পর ক্ষমতায় থাকা অসাংবিধানিক নয়।”

 

এদিকে, সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, বিরোধী দল যদি ২৫ অক্টোবর কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আর আওয়ামী লীগ রাজপথে থেকে জনগণকে নিয়ে বিরোধীদলকে মোকাবেলা করবে।

 

সোমবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে রামসীতা মন্দির কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন প্রতিমন্ত্রী

বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক দল তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করলে তাতে বাধা দেয়া হবে না।

 

অন্যদিকে,  ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন,  আগামী ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে কোন রকম আক্রমণ করা হলে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে ।

 

বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ ভাসানী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপির যৌথ সভায় তিনি বলেন, “২৫ তারিখের জনসভায় আমরা কোন প্রকার আক্রমণের শিকার হলে কিংবা বিগত সময়ের মতো লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টা হলে প্রয়োজনে দলের নেতাকর্মীরা দা, কুড়াল, বল্লম, সরকি, টেটা নিয়ে সারা দেশে পাল্টা আক্রমণ করবে।”

 

তিনি বলেন, “আমরা আগে হাতে অস্ত্র তুলে নেব না। আক্রমণ হলে যে কোনভাবে মোকাবিলা করা হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। দরকার হলে কোরবানি হয়ে যাব, তবুও আন্দোলন সফল করব।”

 

রাজধানীতে ভিন্ন এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আজ বলেছেন, নির্বাচন পর্যন্ত সংসদ বহাল রাথার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এ দেশে  তত্ত্বাবধায়কের জন্য যদি রক্তপাত হয়, এর দায় দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।

 

সরকার ও বিরোধী দলের এরকম পাল্টাপাল্টি হুমকি প্রসঙ্গে  টাঙ্গাইলের  একজন এনজিও কর্মী মাজহারুল ইসলাম রেডিও তেহরানকে জানান,  বর্তমান রাজনীতিক উত্তেজনা  নিয়ে পত্র-পত্রিকার খবর পড়ে বা টিভি দেখে একটু শিক্ষিত লোকেরা যতটা উদ্বিগ্ন সাধারণ গ্রামবাসী ততটা নয়।

 

তিনি মনে করেন সংকট মোকাবেলায় সরকারি দলকে যেমন সহনশীল আচরণ করতে হবে তেমনি বিরোধীদেরও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

 

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খানও  মনে করেন- সরকারী দলের  ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার ইচ্ছার কারণে এ সংঘাতময় পরিস্থিতর সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করা।

 

এ অবস্থায়,   বর্তমান সংঘাতময়  রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের জনগণ আতঙ্কিত না হয়েই পারছে না। জীবন ও সম্পদহানির ‌আশঙ্কায় সচেতন দেশবাসী তাই আজ উভয় পক্ষের কাছথেকে সহনশীল আচরণ কামনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...

মদনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন এই প্রতিপাদ্যটি সামনে রেখে ...