ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | জগন্নাথপুরে সরকারি ধানের বীজ নিয়ে কেলেঙ্কারী

জগন্নাথপুরে সরকারি ধানের বীজ নিয়ে কেলেঙ্কারী

sunamgonj mapমোঃ শাহজাহান মিয়া, জগন্নাথপুর : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি ধানের বীজ নিয়ে নানা কেলেঙ্কারীর সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ডিলাররা সরকারি বীজ নিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারী করে চলেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ এমন ভুমিকা পালন করছেন। যার খেশারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের।
জগন্নাথপুরে চলতি বোরো মৌসুমে জমি আবাদের জন্য বীজতলা তৈরী করতে বীজ ধান সংগ্রহ করতে কৃষকদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। তারা বিরামহীন ভাবে ছুটে চলেছেন সরকারি ডিলারগুলোতে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জগন্নাথপুরে বীজ বিক্রির ধুম পড়েছে। এ সুযোগকে ডিলাররা বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুল্য আদায় করছেন। সেই সাথে সরকারি আইন অমান্য করে অতিরিক্ত লাভের আশায় জগন্নাথপুর উপজেলার বাহিরে অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় সরকারি বীজ পাচার করছেন এবং অবৈধভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি বীজ আমদানী করছেন।
জানাগেছে, কয়েক দিন আগে জগন্নাথপুর বাজারের ডিলার শরীফ মিয়া ৩শ বস্তা বীজ ছাতক উপজেলার দোলার বাজারে পাচারকালে আটক করে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন। পরে আটককৃত বীজগুলো ছেড়ে দেয়া হয়। ১০ কেজি ওজনের সরকারি ব্রি ২৮ জাতের ধানের বীজ প্রতি বস্তা ৩৪০ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার জগন্নাথপুর কৃষি অফিসের লোকজন জগন্নাথপুর বাজারের ডিলারগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানকালে বাজারের ডিলার শরীফ মিয়া অতিরিক্ত মুল্যে বিক্রি করার প্রমান পেয়ে তাকে শতর্ক করা হয়। গতকাল শনিবার ভোর ৬ টার দিকে ডিলার শরীফ মিয়ার কুষ্টিয়া থেকে  ট্রাকভর্তি ১ হাজার ৬শ বস্তা সরকারি বীজ আসে। খবর পেয়ে কৃষি অফিসের লোকজন ছুটে আসেন এবং আমদানী করা বীজগুলো অবৈধ ঘোষনা করে ট্রাক থেকে  নামাতে নিষেধ করে চলে যান। তারা চলে যাওয়ার পর বীজগুলো নামানো হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহাব উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সকল দোষ বিএডিসির। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা শুধু কোন ডিলার কি পরিমাণ বীজ পাবে তা সুপারিশ করে ছাড়পত্র দিয়ে থাকি এবং বাজার তদারকি করি। ডিলাররা আমাদের ছাড়পত্র দেখিয়ে বিএডিসির কাছ থেকে সরকারি মুল্য পরিশোধ করে বীজ এনে বিক্রি করার কথা থাকলেও ডিলার শরীফ মিয়া আমাদের ছাড়পত্র ছাড়াই কুষ্টিয়া থেকে অবৈধভাবে বীজ আমদানী করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের ছাড়পত্র ছাড়া কিভাবে কুষ্টিয়ার বিএডিসি তাকে সরকারি বীজ দিলো তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরো বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জগন্নাথপুর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বীজ অন্য উপজেলায় বিক্রি করা হলে কিংবা দেশের অন্য স্থান থেকে আমাদের অনুমতি ছাড়া আমদানী করা হলে তা অবৈধ হবে।
ডিলার শরীফ মিয়া জানান, বীজের চাহিদা বেশি থাকায় কুষ্ঠিয়া থেকে বীজগুলো এনেছিলাম। তবে আইনগত ভাবে অবৈধ তা আমি বুঝতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দিনাজপুরে প্রতিমন ধান বিক্রি করে মিলছে একজন শ্রমিক !

দিনাজপুর প্রতিনিধি :  উত্তরের শষ্যভান্ডার দিনাজপুরে ধানের ভালো ফলন পেয়েও ভালো নেই ...

দিনাজপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫’শ একর জমির ফসল বিনষ্ট

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে খানসামা ও বীরগঞ্জে চারটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ...