Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | চৌগাছার চেয়ারম্যান মিন্টু হত্যা মামলার অন্যতম কিলার বেনাপোলের আমিরুল অস্ত্র গুলি বোমাসহ আটক

চৌগাছার চেয়ারম্যান মিন্টু হত্যা মামলার অন্যতম কিলার বেনাপোলের আমিরুল অস্ত্র গুলি বোমাসহ আটক

jessoreইয়ানুর রহমান, শার্সা প্রতিনিধি : চেয়ারম্যান মিন্টু হত্যা মামলার অন্যতম কিলার বেনাপোলের শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা ও অস্ত্রসহ ডজন খানেক মামলার আসামী আমিরুল অবশেষে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। সে বেনাপোলের কাগজপুকুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের পুত্র। এর আগে পুলিশ চেয়ারম্যান মিন্টু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩জনকে আটক করেছে।
ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান জানান, দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা অভিযানের চালিয়ে কিলার আমিরুলকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্রথমে নাভারন বাজারের আশপাশে আমিরুলকে ধরার জন্য ওৎ পেতে থাকলেও অভিযান ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে দীর্ঘ ১৪ঘন্টা তার পিচু নিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় তার বাড়ির পাশ থেকে আটক করা হয়। আটকের আগ মুহুর্তে ভোর ৩টায় আমিরুল ৭/৮জন সঙ্গীসহ কাগজপুকুর মাঠে অবস্থান করে। সেখানে সে ৭টি বোমার বিস্ফোরন ঘটায় ও চিৎকার করে গান গাইতে থাকে। চারিদিকে সুর্যের আলোতে পরিস্কার হয়ে এলে আমিরুল ৩জন সঙ্গীসহ তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সুযোগে বাড়িতে অভিযান চালালে সে পিছন দিক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ করে ৪রাউন্ড গুলি করে। পরে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় আমিরুলের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১রাউন্ড গুলি, হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা ১টি লাল পালসার মটর বাইক ও তার সঙ্গীদের ফেলে যাওয়া ৪টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, আমিরুলকে আটকের পর এলাকাবাসী সন্তস প্রকাশ করেছে। একই সাথে আমাদের কাছে তার অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে চাদাবাজির শিকার হয়ে আসছে।
বেনাপোলের কাগজপুকুর গ্রামবাসী জানান, শনিবার সকাল একটি রাজনৈতিক দলের বেনাপোল এলাকার উঠতি নেতার আশ্রয়ে থেকে হত্যা, অস্ত্র ব্যবসা, চাদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে আমিরুল। থানায় তার নামে মামলা থাকলে পুলিশ ঐ ব্যক্তির ইশারায় তাকে আটক করেনি।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানান, ডিবি পুলিশ কতৃক কিলার আমিরুল আটকের পর ঐ নেতা তাকে ছাড়াতে বিশেষ তদবির শুরু করেছে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, এ অঞ্চলের শির্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে অণ্যতম হচ্ছে আমিরুল। সে রঘুনাথপুর গ্রামের খালেক মেম্বরের ছেলে হাকিম সহ অসংখ্য হত্যার সাথে জড়িত। হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা মেরেছিল নারানপুরের মিজানকে। পরে মিজানের একটি পা উড়ে গিয়ে বেধেছিল গাছের মাথায়। সে মারা গেচে ভেবে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসী উদ্ধার করে চিকিৎসা করায়। বাকি একটি পা নিয়ে অসহায়ত্বের জীবন যাপন করছে মিজান। তার নামে পুলিশের খাতায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমিরুল আটক আতঙ্কে ভারতে পালিয়ে যায়। ভারতের ২৪ গরগনা বঁনগায় আলোচিত এক সন্ত্রাসীর আশ্রয়ে থাকে ৫বছর। এরপর ২০০৮ এর নির্বাচনের পর স্থানীয় ঐ নেতার সাথে আতাত করে সে এলাকায় ফিরে আসে। কিছুদিন বাদে র‌্যাব সদস্যরা তাকে অস্ত্রসহ আটক করে। এলাকাবাসী ভেবেছিল তাকে হয়তো ক্রস ফায়ার দেয়া হবে। কিন্তু সবাইকে আবাক করে আমিরুল ঐ নেতার বিশেষ তদবিরের ফলে কয়েক দিনের মাথায় আবার এলাকায় ফিরে আসে এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যায়। ইতিমধ্যে দৈনিক স্পন্দনসহ তার নামে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় আমিরুল সাংবাদিকদের দেখে নেবার হুমকি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাটগ্রামে ভারতগামী যাত্রীকে ৩ দিন ধরে গণধর্ষন, আটক ১

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় যশোদা পরিবহন নামে ...

পানছড়ি ও লক্ষ্মীছড়িতে দুই স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অপহরণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাতে অস্ত্রের মুখে ...