Home | বিবিধ | স্বাস্থ্য | চিকিৎসার অভাবে যক্ষা-ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে মৌলভীবাজারে চা শিল্প শ্রমিকরা

চিকিৎসার অভাবে যক্ষা-ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে মৌলভীবাজারে চা শিল্প শ্রমিকরা

tea garden workerজালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে যক্ষা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ রোগের বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে মৌলভীবাজার সহ গোটা দেশের সকল চা শিল্প শ্রমিকরা। চা শিল্প শ্রমিকদের নিয়ে কর্মরত সংস্থা হীড বাংলাদেশ ও ব্র্যাক স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, চা বাগানে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই অসচেতন। সরকারী চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত শ্রমিকরা চা বাগানের নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর থেকে এখনও বাইরে বের হতে পারছে না। ঘনবসতি ও নোংরা পরিবেশ বসবাস, খাবার অনুপযোগী আহার এবং অসচেতনতার কারণে তুলনামূলক অধিক পরিমাণে চা শ্রমিকদের মধ্যে যক্ষা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ এসব রোগে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। কমলগঞ্জে হীড বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক রেজাউল বলেন, বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অসচেতনতা, স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের অভাব, নোংরা পরিবেশ ও কলোনী সমূহে ঘনবসতি বেশী থাকায় চা বাগানগুলোতে যক্ষা, কুষ্ঠ ও ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী। চা বাগানের নির্দিষ্ট গন্ডি ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে শ্রমিকরা চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারছে না। যার ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধী অধিকতর বেশী। সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মাঝে এসব রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ২০১২ সনের এপ্রিল মাস থেকে হীড বাংলাদেশ টিবি কেয়ার টু প্রকল্প, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৭টি চা বাগানের ৬লক্ষ ৫০ হাজার জনগোষ্ঠীর মাঝে যক্ষা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। হীড বাংলাদেশ এর আওতায় সিলেট বিভাগে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সনের মার্চ মাস পর্যন্ত ৯ বছরে মোট ৯১হাজার ৩৮জন যক্ষা রোগী আরোগ্য লাভ করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন আরো ৪৫৭১ জন। জুলাই ২০১২ থেকে জুন ২০১৩ সনে কুষ্ঠ রোগী সনাক্ত হয়েছে ৯৭ জন এবং সুস্থ্য হয়েছে ৫৩ জন। এর মধ্যে চা বাগানেই যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা অধিক। সূত্র আরও জানায়, গত ২৭, ২৮ ও ২৯ আগষ্ট মধুপুর, লংলা ও চাম্পারায় চা বাগানে সচেতনতা মুলক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর দু’এক বার এভাবে বিভিন্ন চা বাগানে ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়। যক্ষা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে হীড বাংলাদেশ টিবি কেয়ার টু ও ব্র্যাক স্বাস্থ্য কেন্দ্র্র উঠান বৈঠকসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতা সৃষ্টি, চা শ্রমিকদের নিয়ে সভা, চা বাগানের স্বাস্থ্যকর্মীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ, রোগ থেকে আরোগ্য লাভকারীদের নিয়ে দেওয়াল লিখন, লোকসঙ্গীত, নাটক ও পাঠ সহায়িকার মাধ্যমে এসব রোগ সম্পর্কে ধারনা থাকার বিভিন্ন তথ্য, পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করছে। যক্ষা প্রতিরোধে কর্মরত দু’টি এনজিও সংস্থার গবেষনা মতে চা বাগান এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব চা বাগান বহির্ভূত এলাকার চেয়ে অধিকতর বেশি। স্থানীয় চিকিৎসক ও সচেতন মহল মনে করেন শুধু এনজিও’ দিয়েই হবে না। সরকারী উদ্যোগেও দেশের নাগরিক হিসাবে চা শ্রমিকরা স্বাস্থ্যগত সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারলে এবং শিক্ষা দীক্ষায় সচেতন হয়ে উঠলে রোগব্যাধী থেকে আরও মুক্ত হওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিশু সুরক্ষায় বিভাগীয় পরামর্শক সভা অনুষ্ঠিত

খুলনা প্রতিনিধি : সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে মঙ্গলবার সকালে খুলনায় সিএসএস ...

রৌমারীতে আশংকাজনক হারে বাড়ছে শিশু ডায়রিয়া, এক সপ্তাহে ভর্তি ২৩০ জন

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শিশু ডায়রিয়া আশংকাজনক হারে বাড়ছে ।গত ...