Home | জাতীয় | চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর বহুমুখী ব্যবহারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর বহুমুখী ব্যবহারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার : চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর বহুমুখী ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে দেশে গ্রিন টি, তুলসি চা, আদা চা উৎপাদন হচ্ছে জানিয়ে আরও অভিনব ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিদেশে এখন চায়ের সাবান, শ্যাম্পু, লোশন তৈরি হচ্ছে জানিয়ে বাংলাদেশেও এগুলো উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছেন সরকার প্রধান।

চা গবেষণা কেন্দ্র চায়ের আচার তৈরি করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা জানান, কিছুদিন রেখে দিলে এই আচার খেতে বেশ মজা।

রবিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চা প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে এসময় উচ্চফলনশীল বিটি-টোয়েন্টি ওয়ান ক্লোন চা বীজ অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মতিঝিলে ৩০ তলা বঙ্গবন্ধু চা ভবনের ভিত্তিফলকও উন্মোচন করেন তিনি। চা শিল্পে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সন্মাননাও তুলে দেয়া হয় অনুষ্ঠানে। আর বক্তব্য শেষে পরে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন শেখ হাসিনা।

এ সময় বাংলাদেশে চা চাষ বৃদ্ধি, বিশেষ করে পঞ্চগড়ে চা চাষ শুরুর পেছনে তার ভূমিকা, চা শ্রমিকদের কল্যাণে তার সরকারের নানা পদক্ষেপ বর্ণনার পাশাপাশি চায়ের বহুমুখী ব্যবহারের তাগাদা দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই তো শ্যাম্পু, সাবান, লোসন ব্যবহার করি। এখন কিন্তু টি শ্যাম্পু, টি সোপ, টি টুথপেস্ট, টি লোসন বিশ্বে যথেষ্ট জনপিয়তা পাচ্ছে। আমরাও কিন্তু করতে পারি।’

‘চায়ের পাতা মানে দুটি পাতা, একটি কুঁড়ি, এর পরেও যেটা পড়ে থাকে, সেটার বহুমুখী ব্যবহার করার সুযোগ আছে।’

বাংলাদেশের ভিন্নধর্মী চা উৎপাদন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লেমন টি, মসলা চা, জিনজার (আদা) চা, তুলসী চাসহ বিভিন্ন ধরনের চা কিন্তু করা হচ্ছে।’

‘এখন টি কোলাও কীভাবে উৎপাদন করা যায়, সে গবেষণাও চলছে।’

চা দিয়ে যে আচারও বানানো সম্ভব, সেটাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘চায়ের আচারও হচ্ছে কিন্তু। চেয়ারম্যান সাহেব (টি বোর্ডের চেয়ারম্যান) চায়ের আচার বানিয়েও আমাকে দিয়ে গেছেন। বানানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে খুব একটা ভালো লাগেনি খেতে, কিন্তু বেশ কিছুদিন রাখার পর দুই তিনদিন আগে আমি একটু টেস্ট করে দেখলাম, খেতে তো মজাই লাগে, ভালোই।’

আমাদের দেশে সিলেটের চা খুব কড়া চা, দুধ, চিনি দিয়ে খেতে খুব মজা লাগে। সেখানে গ্রিন টি টাও হয়। আমি আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে বলেছি যে… চা বহুমুখীকরণের। তিনি সে ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কা একটা মসলা চা করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্দি কাশি হলে খুব ভালো ওটা শরীরের জন্য। আমরাও এই ধরনের চা করতে পারি।’

চায়ের বিপণনেও উদ্ভাবনী চিন্তার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘কেবল চা বানানো বা উৎপাদন না। বাল্ক পরিমাণে বিক্রি করে দেই। সেটার পাশাপাশি ছোট ছোট সুন্দর মোড়কে যদি বানানো হয়, তাহলে সেটা দেখতে বেশ আকর্ষণীয় হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রীর তালিকায় চাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। জানান, বিদেশিদের সিরামিকের সামগ্রী, একটি টি পট এবং এর ভেতরে চা দেয়া হয়।

পঞ্চগড়ে যেভাবে হলো চা বাগান

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে যে চাষ করা সম্ভব, সে চিন্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাথা থেকেই এসেছিল। সেই কাহিনিও তুলে ধরলেন তিনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখলাম ভারতের দিকে প্রচুর চায়ের বাগান। কিন্তু বাংলাদেশের এদিকে কোনো চা বাগান নাই। আমি বললাম একই মাটি, … তখন পঞ্চগড়ের ডিসি ছিলেন যিনি, তাকে বললাম ওখান থেকে একটা চারা এনে আমাদের এখানে লাগিয়ে আপনারা পরীক্ষা করে দেখেন আমাদের মাটিতে হয় কি না।’

‘আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই, আমি পরামর্শ দেয়ার পর সে উদ্যোগটা নিল। তারা (ভারতীয় কর্তৃপক্ষ) চাওয়ার পর একটা চারা দিল এবং সে নিজের ভিটার মাটিতে চারাটা তৈরি করল। তারপর সে টবে করে আমার কাছে নিয়ে এসে দেখাল আমাদের মাটিতে চা উৎপানদন করা সম্ভব। তারপরই আমরা উদ্যোগ নিলাম।’

সরকারিভাবে বাগান গেতে গেলে জটিলতা থাকায় বেসরকারি উদ্যেক্তাদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে রাজি করানো হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সরকারিভাবে করতে গেলে কথনও এটা হবে না। ওটা করতে গেলে অনেক প্রজেক্ট করো, এটা করো, ওটা করো.. বললাম, বেসরকারি খাতে কারা আছে, তাদেরকে সুযোগটা করে দেয়া হোক। সেই সুযোগ করে দিয়েই পঞ্চগড়ের চা বাগান শুরু।’

‘কাজী শাহেদ সাহেব তখন সেখানে ব্যবসা করতেন, খাম্বা বানাতেন। আমি তখন তাকে বললাম যে, ইট, সিমেন্টের খাম্বা না বানিয়ে চা বাগান করেন। তিনি বললেন, আপনি বললে করতে পারি। বললাম, আপনি করেন, আমরা সব সুযোগ করে দিচ্ছি। এখন তো সে চা সব জায়গায় চলে এসেছে।

‘আজ তো পঞ্চগড়ের চা আমরা দেখতে পাচ্ছি ইংল্যান্ডের হ্যারল্ডসেও পাওয়া যাচ্ছে।’

এখন চট্টগ্রামে চা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চগড়ের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমণিরহাটেও চা উৎপাদন করার একটা ভালো সুযোগ আছে।

বন্যা ও খরা সহিষ্ণু ধান উৎপাদনে সাফল্য পাওয়া গেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চাও অল্প বৃষ্টিতে, খরা সহিষ্ণু চা যেন হতে পারে, সে গবেষণা করতে পারি।’

চা বাগানগুলোতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে অর্গানিক পদ্ধতিতেও উৎপাদন হচ্ছে জানিয়ে এ বিষয়েও ভালো গবেষণার তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী।’

আধুনিক পদ্ধতিতে চা আহরণ, উৎপাদনের জন্য সরকার গবেষণার দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

১৯৭০ সালে বাংলাদেশে চায়ের উৎপাদন তিন কোটি কেজি ছিল। এখন তা আট কোটি ৫০ লাখ কেজি জানিয়ে ২০২৫ সাল নাগাদ ২৫ কোটি কেজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

শ্রমিকদের কল্যাণে নজর রাখুন

শ্রমিকদের কল্যাণে নজর রাখতেও বাগান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জানান, অন্যান্য অবহেলিত জনগোষ্ঠীর চা শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

‘তারাই তো খাটে, তারাই তো কাজ করে, তাদের দিকেই তো আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের আন্তরিকতাটাও আছে। আন্তরিকতার সাথেই তারা কাজ করে। সে দিকে দৃষ্টি রেখেও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।’

শ্রমিক এবং তাদের পরিবার যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, তাদের ছেলেমেয়েরা যাতে লেখাপড়া শিখতে পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল আমরা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শ্রমিকদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে চাইলে মালিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ণ তহবিল থেকে দুই শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

টি বোর্ডের মাধ্যমে ঘরবাড়ি তৈরি করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ...

স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচ ড্র : রোনালদোর হ্যাটট্রিক

রাশিয়া বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচ ড্র করেছে স্পেন ও পর্তুগাল।উত্তেজনায় ঠাসা এই ...