Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ৭ জেএমবি সদস্যর ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ৭ জেএমবি সদস্যর ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল পরিমান বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ৭ জেএমবি সদস্যর ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন অদালত। মঙ্গলবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুস সালাম সন্ত্রাস দমন আইনে নাচোল থানায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদনের শুনানী শেষে আসামীদের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত ও নাচোল থানাল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফাছির উদ্দিন মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সাত জেএমবি’র রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বুধবার রাত (১০ মে)  থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টানা দু’দিনের জঙ্গিবিরোধী পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ কেজি গানপাওডার, ৪২০ টি ১২৫ মিলি লিটার টিউবে সাড়ে ৫২ কেজি ভারতে তৈরী এক্সপ্লোসিভ পাওয়ার জেল (বিস্ফোরক) ও ২২টি জিহাদী বই উদ্ধার সহ এই সাত জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এঁরা হলেন, নাচোল উপজেলার গুঠইল গ্রামের মৃত.তাইফুর রহমানের ছেলে হারুন অর রশিদ (২৫) ও মোস্তফার ছেলে কামাল উদ্দিন ওরফে সরকার (৩২),একই উপজেলার বেড়াচকি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে নাসিম রেজা ওরফে শাহিন (২০) ও শ্রীরামপুরের কেতাবুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ (২২), শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর কাইঠাপাড়া গ্রামের এসলামের ছেলে বাবু (২২) ও রাঘবপুর গ্রামের মৃত.নেশ মোহাম্মদের ছেলে আজিজুল হক (৩৮) এবং সদর উপজেলার দেবীনগর ফাটাপাড়া গ্রামের গুটু’র ছেলে আব্দুল হাকিম (২০)। নিজ নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে শুক্রবার (১২ মে) নাচোল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ তাঁদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য্য করেন আদালত। ওই মামলায় এজাহারনামীয় আসামী ১১ জন। এর মধ্যে ৪ জন পলাতক। এছাড়াও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতানামা আসামী করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি,এম. মোজাহিদুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলণে অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যর ভিত্তিতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর জেলাব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্ধান পায় পুলিশ। বুধবার রাতে প্রথমে নাচোল থেকে অভিযান শুরু হয়। সেখান থেকে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একের পর এক চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঘিরে ফেলা হয় শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের চারটি বাড়ী। সেখার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দু’জনকে। পরে সদর উপজেলার চরাঞ্চল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাকিমকে। তবে তার ভাই জঙ্গিদের অন্যতম গ্রেনেড সরবরাহকারী খাইরুলকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। গ্রেপ্তার সাতজনই জেএমবি সদস্য বলে নিশ্চিত করেন তিনি। উদ্ধার বিস্ফোরকের মধ্যে পাওয়ার জেল কানসাট শিবনগরে বাবুর বাড়ীতে মাটিতে পোঁতা ড্রাম থেকে উদ্ধার হয়। নাচোল থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে ৪ কেজি গানপাওডার ও জিহাদী বই। পুলিশ সুপার বলেন, নাচোল অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যে পাশের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরে জঙ্গি আস্তানার প্রথম সন্ধান পায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ। তাঁরা আস্তানাটি ঘিরে ফেলে ও এ ব্যাপারে রাজশাহী পুলিশকে অবহিত করে। পরে গোদাগাড়ীতে অভিযান শুরু করে রাজশাহী পুলিশ। সেখানে অভিযানকালে জঙ্গিদের আক্রমনে নিহত হয় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী ও আত্মঘাতী হয় ৫ জঙ্গী। সেখানে আত্মঘাতী জঙ্গি নেতা আশরাফুলের বাড়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগরে। পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সংগঠনের মধ্যম স্তরের নেতা-কর্মী। জঙ্গিদের ভারতে যাতায়াতের ব্যাপারেও তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আ. লীগ নেতা হত্যা মামলায় ৬ জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার :  রাজধানীর শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ...

সাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার :  বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার পলাতক তিন আসামির মধ্যে ...