ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | পরিবেশ | চন্দ্রমহল ইকো পার্কে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড : হয়রানি শিকার দর্শনার্থীরা

চন্দ্রমহল ইকো পার্কে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড : হয়রানি শিকার দর্শনার্থীরা

সুমন কর্মকার, বাগেরহাট // বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে রনজিতপুর গ্রামে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর সাবেক নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা আমানুল হুদা তার স্ত্রী নাসিমা হুদা ‘চন্দ্রার’ নামে ২০০২ সালে নির্মান করেন ‘চন্দ্রমহল ইকো পার্ক’। দর্শনার্থীদের জন্য নির্মান হয়েছে তাজমহলের আদলে নির্মিত চন্দ্রমহল। সেখানে রয়েছে নানান প্রস্তর শিল্প, মৃত্তিকা শিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্পের করুকার্র্য। মাটি দ্বারা নির্মিত হয়েছে পল্লী সংস্কৃতির নানান স্মৃতিকথা, গ্রামীন নারীর জীবনযাত্রার বিমূর্ত ছবি ফুটে উঠেছে এ শিল্পে, জেলে, কৃষক, ধোপা, নানান পেশাজীবী মানুষের মধ্যযুগীয় জীবনযাত্রা কেমন ছিল তার ধারনা দিতেই নির্মিত হয়েছে এ মাটির শিল্প। রয়েছে পানির ওপর কুটির, সিমেন্ট-বালু দ্বারা নীর্মিত ডাইনোসর, কাঁকড়া, ঝিনুক, বাঘ, হরিণ, ঘোড়ার ও বিভিন্ন প্রজাতির মূর্তি। আরো রয়েছে ১৯৭১ সালের রাজাকারের জন্য কৃত্তিম ফাঁসির মঞ্চ। বন্য প্রানীদের সাথে পরিচয়ের জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর, ঈগল, বানর, বিড়াল, হরিন, বেজি, পেঁচা, কবুতর, তিতপাখি, তুর্কী মুরগী, সাদা ময়ূর, বক। পার্কের মূল মহলের মধ্যে রয়েছে প্রাচিন নানান প্রতœতত্ব, রয়েছে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম কোরআন শরীফ। এর মধ্যে অবাধে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। প্রতিনিয়তই অস্বস্তির মধ্যে পড়ছে পরিবার নিয়ে দুর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে বাইরে থেকে আসা মহিলারা স্থানীয় যুবকদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নিগৃত হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এই পার্কটিতে সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। পিকনিকের জন্য বিভিন্ন স্থান হতে আসা গাড়ী ছাড়া অন্যান্য দর্শনার্থীরা স্থানীয় এলাকার যুবক-যুবতী। সারা বছর ব্যাপী চন্দ্র মহল পরিদর্শন অব্যাহত থাকে এসব যুবক-যুবতীদের।
মহলের দক্ষিণপাশে রয়েছে নারকেল গাছের সারি। রয়েছে কিছু ঝোপ-ঝাড়, রেস্টুরেন্ট নামে রয়েছে ছোট ছোট রেষ্ট হাউজ। এসব নির্জন স্থানে চলছে অশ্লীলতাপনা। সন্ধ্যার পরেই চলে মহলে আরেক দফা রমরমা আড্ডা। কখোনো কখোনো চন্দ্রমহলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেশি টাকা দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে অশ্লীলতাপনা। কর্তৃপক্ষের গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও-ছবি দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
খুলনার কয়রা থেকে আসা সরোজিত মন্ডল, সুজয় বিশ্বাস, যশোর থেকে আসা, হাসান, রুবেল, তরিক, তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, গাড়ি নিয়ে রনজিতপুর গ্রামে ঢুকতেই স্থানীয় ভ্যানচালকরা গাড়ি চলাচল আটকে দেয়। মাত্র ৫ মিনিটের পথ জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে তাদের ভ্যানে যাওয়ার জন্য বাধ্য করে।
তারা আরো বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে পার্কে ঘুরতে থাকি। এরমধ্যে কয়েকজন স্থানীয় যুবক এসে ধাক্কা দিয়ে বলে “এই চোখের থেকে সানগ্লাস খুলে হাতে রাখ। সানগ্লাস খুলতে দেরি করায় আমাদের গালি দেয়। তারা কোন মেয়েকে দেখলে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে। কিছু বলতে গেলে তারা বলে, বাইরে বের হ, তারপর দেখি, তোদের কোন বাপ আছে”।
এ ব্যাপারে, চন্দ্রমহল ইকো পার্কে প্রতিষ্ঠাতা আমানুল হুদা সেলিমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এক মামলায় খালেদার জামিন বিষয়ে আদেশ রবিবার

স্টাফ রিপোর্টার : বাসে অগ্নিসংযোগ করে আটজনকে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লার এক মামলায় ...

মাদকবিরোধী অভিযানে যারা নিহত হচ্ছেন সবাই অস্ত্রধারী:ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার : মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে যারা নিহত হচ্ছেন তারা সবাই অস্ত্রধারী ...