Home | আন্তর্জাতিক | চট্টগ্রামে ককটেল বিস্ফোরণ গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের বাধার মুখে হরতাল চলছে

চট্টগ্রামে ককটেল বিস্ফোরণ গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের বাধার মুখে হরতাল চলছে

মিজান উল্লা সমরকান্দী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, ২৭ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, সারা দেশে গণহত্যার প্রতিবাদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালেরর দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকে বুধবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে।

বুধবার সকালে হরতালের শুরুতেই চট্টগ্রামে মারমুখী অবস্থায় নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে হরতালের সমর্থনে রাস্তায় মিছিল বের ও পিকেটিং করতে তত্পর রয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীরা। হরতাল সমর্থকরা বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর অলঙ্কার মোড়ে হরতালের সমর্থনে বিএনপি একটি মিছিল বের করে। এরপর মিছিল থেকে পরপর চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ সেখান থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি।

এদিকে, নগরীর কোতয়ালী থানার লালখান বাজার এবং বন্দর এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ করছেন। এসব মিছিলে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, নগর সহ-সভাপতি সামশুল আলম, আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেন।

এছাড়াও ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ‍সাইফুদ্দিন সালাম মিঠুর নেতৃত্বে নগরীর কাজির দেউরী মোড় থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

তবে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকায় এ পর্যন্ত বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

হরতালে দূরপাল্লার সব যানবাহন বন্ধ রয়েছে। তবে রিকসা, অটোরিকসাসহ হালকা যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া ট্রেন ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক আছে। বন্দরের বিভিন্ন জেটি এবং বহির্নোঙ্গরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামাও স্বাভাবিক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

হরতাল শুরুর পর ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডের বাড়বকুন্ড এলাকায় পিকেটাররা একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনা ছাড়া এ পর্যন্ত নগরী এবং জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ভোর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা টেম্পু, হিউম্যান হলার, মিনিবাসও বিচ্ছিন্নভাবে চলাচল করছে। রিক্সা চলাচলও স্বাভাবিক দেখা গেছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। কিন্তু ট্রেন এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

হরতালকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নগরীর অর্ধশতাধিক স্পটে এক হাজার ৬৭৩ জন পুলিশ এবং দেড় প্লাটুন  বিজিবি সদস্য মোতোয়েন আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে জামায়াত অধ্যুষিত সাতকানিয়া, লোহাগাড়া এবং বাঁশখালীতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমেদ  বলেন, ‘হরতাল এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আছে। মিছিল-সমাবেশ চললেও কোথাও পিকেটিংয়ের কোন খবর আমরা পাইনি।’

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিরোধী দলে ডেকে নগরবাসীর মধ্যে আতংক সৃষ্টর জন্য নাশকতা সৃষ্টর চেষ্টা করে। তা মোকাবেলায় আগে ভাগে বিকেল থেকেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে ৬০ সদস্যের দেড় প্লাটুন বিজিবি সদস্য নগরীর জুড়ে টহল দিচ্ছে।

সিএসপি কমিশনার আবুল কাসেম জানান বুধবার হরতাল শুরুর আগে ভোর ৫টা থেকে নগরীর ৬০ পয়েন্টে দেড় হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

x

Check Also

অবশেষে বৈঠকে বসছে ভারত ও পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দুই বছর পর সিন্ধুর জল বণ্টন নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ভারতের সঙ্গে ...

এক শটে বাংলার বাইরে ফেলব ওদের : মমতা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভাঙা পা নিয়েই শেষ মুহুর্তের নির্বাচনি প্রচারে মাঠ গরম করছেন ...