ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ লোডশেডিং – জনজীবনে দূর্ভোগ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ লোডশেডিং – জনজীবনে দূর্ভোগ

মারুফ খান, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ২৪ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : বিদ্যুতের ভেল্কিভাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পল্লীবিদ্যুত গ্রাহকরা। রাতের বেলায় অল্প কিছুক্ষণ থাকলেও দিনের বেলায় ২-৩ ঘন্টার বেশী বিদ্যুৎ থাকেন। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে কৃষি সেচ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক জানে আলম জানান, বিদ্যুাতের অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলে সেচ ব্যবস্থা চালাতে গিয়ে কৃষকেরা ঋনে জর্জরিত হচ্ছে। শিক্ষক আবদুল খালেক জানান, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং’র কারণে শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করতে পারছে না। একদিকে লোডশেডিং অন্যদিকে কেরোসিনের অত্যধিক মূল্য গরীব শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শিক্ষার্থীরা জানায়, এভাবে বিদ্যুৎ থাকার চাইতে না থাকাই ভালো। লোহাগাড়া উপজেলা দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে রয়েছে গার্মেন্টস ফেক্টরী, প্লাইউড ফ্যাক্টরী, তেল কারখানাসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুতের অভাবে শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শিল্প উদ্যেক্তা আবদুল গফুর জানান, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি লোহাগাড়ায় স্বাভাবিক মাত্রায় না আনলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অনেকেই জানান, বিদ্যুাতের মারাত্মক লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্প কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম শহরে স্থানান্তরের চিন্তা-ভাবনা চলছে।

বিদ্যুাতের ভেল্কিভাজিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ইলেকট্রনিক সামগ্রী কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রীজসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। লোহাগাড়া সদরের অধিকাংশ সময় কম্পিউটার, ফ্যাক্স, ফটোষ্ট্যাটসহ ইলেক্ট্রনিক্স দোকানগুলো  বিদ্যুতের অভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিকসহ ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তেমনি ভোক্তারা হচ্ছে হয়রানির শিকার। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুাতের মারাত্মক লোডশেডিং’র কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান বিভিন্ন রোগের টিকা সমূহ। লোহাগাড়া পল্ল¬ী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে প্রকাশ, অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে ফলে সরবরাহ কমে গেছে। লোহাগাড়ায় সাত মেগোয়াটের মত পিকআওয়ারে বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে কিন্তু আমরা পিকআওয়ারে বিদ্যুৎ পায় না বললে চলে। তিনি আরও জানান, গ্রীড কন্ট্রোল করে পিডিবি এবং সম্পূর্ন লোডশেডিং তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে সূত্র মতে জানা যায়, ফ্রিকোয়েন্সি রিলে সিষ্টেম বন্ধ হলে লোহাগাড়ার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে এবং ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি খারাপ কম হবে। স্থানীয় গ্রাহকরা মনে করেন  লোহাগাড়া উপজেলা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়া সত্বেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পাশ্ববর্তী যেকোন উপজেলার চাইতে ভয়াবহ। এলাকাবাসী বিদ্যুাৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করেন। লোহাগাড়া উপজেলার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুতের এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও সেচ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  স্থানীয় জনগণ বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে কানসাটের মতো লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করবে বলে জানান।

x

Check Also

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...