Home | জাতীয় | চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রকল্প

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রকল্প

স্টাফ রিপোর্টার :  চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। এছাড়া বক্সবাজারের মহেশখালী বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এ সংক্রান্ত মোট ১১ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটন শহর। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সিংহভাগই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা, বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, শহরের যানজট হ্রাস করা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য চট্টগ্রাম শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশসহ অধিকাংশ রাস্তাঘাট হাঁটু হতে কোমড় পানিতে তলিয়ে যায়।

এছাড়া, জোয়ারের সময় শহরের নিম্নাঞ্চল নিয়মিত জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে শহরকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে শহর সম্প্রসারণের বিষয় বিবেচনা করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পটির প্রকল্প ব্যয় পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। যা অনুমোদন করা হয়েছে।

তিনি জানান, এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের খালসমূহ পরিকল্পিত পুনঃখনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ; গুরুত্বপূর্ণ খালসমূহের পাড়ে রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খালসমূহ পরিষ্কার করার স্থায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এছাড়া খালের সঙ্গে সংযোগকারী পাকা ড্রেন সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করা হবে।

কক্সবাজারের মহেশখালী পাওয়ার হাব-এর ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প
দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎ অন্যতম চালিকা শক্তি। তাই সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মাধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কামাল বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটের ওপর, যা বছরে ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুতের উত্তরোত্তর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় ১৩ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি পাওয়ার হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই পাওয়ার হাবের জন্য পাঁচ হাজার ৫৮০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে যৌক্তিক মূল্য পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের এ প্রকল্পে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের গৃহীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে এক্সপোর্ট লিড গ্রোথের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস করা। এ লক্ষ অর্জনে রফতানি বহুমুখীকরণকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রফতানি নীতিতে রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে পণ্য ও মার্কেট বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকে।

আন্তর্জাতিক বাজারে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা দেশের রফতানি বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই রফতানি পণ্যের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে তা দূরীকরণের লক্ষ্যে “এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস” শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে।

একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে আগারগাঁওস্থ শেরেবাংলা নগরে পর্যটন ভবন নির্মাণ প্রকল্প একটি। এছাড়া সৌরশক্তি ও পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি (পাইলট প্রকল্প) প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

কামাল জানান, দেশের কৃষিকাজে এখনও প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার হওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ ভূ-গর্ভস্থ পানি অপচয় হচ্ছে। সেচের পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তিসমূহ কৃষকের দোঁড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া এখন সময়ের দাবি। সেচকাজে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কলাকৌশল সম্পর্কে কৃষকদের অবগত এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করা আবশ্যক।

এ প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষিকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সেচ খরচ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া সেচকাজে সৌরশক্তি ব্যবহার করে জ্বালানি তেল/বিদ্যুৎ সাশ্রয়; আধুনিক পানি ব্যবস্থাপন প্রযুক্তির (ড্রিপ, বারিড পাইপ ইত্যাদি) মাধ্যমে সেচ দক্ষতা উন্নয়ন করে কম খরচে অধিক ফসল উৎপাদন করা যাবে।

একনেকের অন্যান্য প্রকল্পগুলো
ফেরি ও পন্টুন নির্মাণ/পুনর্বাসন (২য় পর্যায়) প্রকল্প। রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া-বামনা-পাথরঘাটা মহাসড়ক (জেড-৮৭০৮) উন্নয়ন প্রকল্প (ঝালকাঠি অংশ) প্রকল্প। কেরানীহাট-সাতকানিয়া-গুনাগরী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (জেড-১০১৯) প্রকল্প। পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প-২য় পর্যায় (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলাধীন বেলগাছা ইউনিয়নের কুলকান্দি ও গুঠাইল হার্ডপয়েন্টের মধ্যবর্তী যমুনা নদীর বাম তীর রক্ষা প্রকল্প এবং জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলাধীন যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূয়াপুর-তারাকান্দি সড়ক রক্ষা প্রকল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আজ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

স্টাফ রিপোর্টার :  ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় ...

ভারতীয় গরু আসার সম্ভাবনা নেই

স্টাফ রিপোর্টার :  ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ভারত থেকে কোরবানির পশু আসার ...