Home | বিবিধ | পরিবেশ | চকরিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে দর্শণার্থী নেই : বণ্যপ্রাণীগুলো অভুক্ত

চকরিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে দর্শণার্থী নেই : বণ্যপ্রাণীগুলো অভুক্ত

এম. শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, ১৬ জানুয়ারী, কক্সবাজার : রাজনৈতিক অস্বস্থিকর পরিস্থিতি ও টানা অবরোধের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের প্রথম কক্সবাজারের চকরিয়া ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক। ভরা মৌসুমে পর্যটন ও দর্শণার্থীদের উপস্থিতি শূন্য কোটায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সাফারী পার্কের দায়িত্বে নিয়োজিতরা। পার্কের বন্যপ্রাণী গুলোর খাবার নিয়েও শংকায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক প্রতিষ্টার পর থেকে জ্ঞান অর্জন, গবেষনা আর বিনোদনের অন্যতম স্পট হিসেবে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল দর্শণার্থীদের কাছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ৯০০ হেক্টর এলাকার বনভূমিজুড়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি সকলের কাছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এমনকি বিশালায়তনের গগনচুম্বী শতবর্ষী মাদার ট্রির (গর্জন) ছায়া সন্নিবেশিত এই পার্ক।
প্রতিবছর রমজান ও কোরবানির ঈদসহ বিভিন্ন ছুটি ছাড়াও পর্যটন মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ চকরিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী-পুরুষ ভিড় করেন এই সাফারি পার্কে। আশপাশে আর তেমন কোনো বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় পার্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিনোদনপিপাসু মানুষের ভিড় ছিল বেশি। শীত মৌসুমের তিন মাস পর্যটন মৌসুম। অথচ টানা অবরোধ ও হরতালে আতঙ্কে পর্যটকরা আসছেন না। রাজনৈতিক অস্বস্থিকর পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত সাফারী পার্ক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে আর্থিক ক্ষতির কারণে পার্কটির ইজারাও নেয়নি কোন মহল। ফলে বনবিভাগই এটি পরিচালনা করছে। তাই দর্শণার্থীদের আয় দিয়েই পার্কের বণ্যপ্রাণী গুলোর খাবার  ও পরিচর্যা করে আসছে বনবিভাগ।
তবে এর পরেও কিছু কিছু পর্যটক পার্কে এসে নতুন কোনো বন্যপ্রাণীর দেখা পাচ্ছেন না। এমনকি পার্ক প্রতিষ্ঠার পর নির্মিত বোর্ডওয়াক ব্রিজসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাও ভেঙে-চুরে নষ্ট এবং একেবারে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পার্কে এসে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে আগতদের। এখন পর্যটক ও দর্শণার্থী নেই। তাই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বণ্যপ্রাণী গুলো অভুক্ত থাকার আশংকা দেখা দিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরুল হুদা জানান, গত ৯ দিনে কোনো পর্যটক আসেনি। বিক্রি হয়নি ১টি টিকিটও। থার্টি ফার্স্ট নাইট এর পর থেকে এখানে পর্যটক আসার আশায় বুক বাঁধলেও তা এখন কেবল হতাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আগৈলঝাড়ায় জলাবদ্ধতার শিকার শত শত ঘরবাড়ি : খাল ভরাট করে প্রভাবশালীরা বাড়িসহ নির্মাণ করছে তেলের পাম্প

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারী খাল ভরাট করে ...

দৌলতপুরে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ৮ শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন

মোঃ লিটন মিয়া, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ গত কয়েক দিনে থেমে থেমে ...