ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | ঘুরে দাড়াচ্ছে রানীশংকৈলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা

ঘুরে দাড়াচ্ছে রানীশংকৈলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা

রানীশংকৈল প্রতিনিধিঃ- বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈলের কৃষকরা ঘুরে দাড়াচ্ছে। তারা দিনরাত গাধা খাটুনে খেটে চেষ্টা করছে ঘুরে দাড়ানোর। বসে নেই উপজেলার কৃষি সম্প্রসারনের কর্মকর্তারা,উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথের তড়িৎ তৎপরতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে যাচ্ছে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোহিতা করতে।
বৃহস্পতিবার সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে ঘুরে দেখা যায়,সম্প্রতিকালের বন্যায় উপজেলা জুড়ে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া জমিতে কৃষি অফিসের পরামর্শে আবারও ধান রোপন করেছে কৃষকরা। তবে কোন কোন কৃষক এখনও চারা ধান রোপন করছে। দিনরাত পরিশ্রম করে ক্ষতি না পুষাতে পারলেও আবাদ ধরে রাখার তাগিদেই এবং বাড়ীর ভাতের চাউলসহ ধার মাহাজন যতদুর সুদ করা যায় এ চেষ্টাই যেন তাদের মুল লক্ষ্য।
কথা হয় নেকমরদ ইউপির গন্ডগ্রাম এলাকার কৃষক তফিজুলের সাথে তার ৪ বিঘা জমির ধান বন্যায় নষ্ট হয়ে যায়। কৃষক তফিজুলের কৃষি কাজেই একমাত্র ভরসা। তিনি বলেন,গতবার নিজের জমানো সামান্য কিছু টাকা এবং সার বিষ বাকীতে নিয়েই ধান আবাদ করেছিলাম সে ধান বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পরে আবার ঋণ মাহাজন করে ঐ জমিতেই ধান লাগিয়েছি এখন ধান কেটে শুধুমাত্র বাড়ীর ভাতের সামান্য ধান রেখে সব ধান বিক্রি করে ঋণ মাহাজন পরিশোধ করতে হবে। একইভাবে কথা হয়,লেহেম্বা ইউপির ব¤œপুর গ্রামের কৃষক সালামের সাথে তার বন্যায় ২বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছিলো। তিনিও মাহাজন করে ধান লাগিয়েছেন। তিনি বলেন,কৃষি অফিসের লোকজন জমি বাড়ীতে আসছে ধান লাগানোর জন্য তারা সহযোগিতা করেছে কিন্তু টেলিভিশনে দেখেছি কৃষকদের সরকার কৃষি পণ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কিন্তু আমরা সে-সহযোগিতা পাই নি। পেলে হয়তবা ঋণ মাহাজন একটু কম হতো।
এছাড়াও নন্দুয়ার,ধর্মগড় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা হলে তারাও একই অভিযোগ করে বলেন কৃষি কাজেই যেহেতু আমাদের জীবিকা নির্বাহের পদ ও কর্ম সেহুতু আবাদ করতেই হবে। তাই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জমিতে ঋণ মাহাজন করে ধান লাগিয়েছি। আবাদ না করলে খাবো কি চলবো কিভাবে কিন্তু সরকার যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করলো সে সহযোগিতা আমরা পেলাম না কেন। আমাদের বড় বড় নেতা নেই,সুপারিশ করার মত লোক নেই এ কারনেই কি পেলাম না প্রশ্ন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সরকারী সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও কৃষকরা কিন্তু বসে নেই ঋণ মাহাজন করে আবারও ধান লাগিয়েছেন,তারা চেষ্টা করছেন ঘুরে দাড়ানোর।
রানীশংকৈল কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা যায়, মোট চৌদ্দ হাজার পাচশঁত জন কৃষকের বিপরীতে বোরো আমন ধানের মোট লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ২১ হাজার ৩৩ হেক্ট্রর এতে বন্যায় ক্ষতিগস্ত হয়েছিলো সাতশত তেতাল্লিশ হেক্টর জমির ধান। এছাড়াও বিশ হেক্টর জমিতে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি থাকায় ধান লাগানো সম্ভব হয় নি। উপজেলার ৮টি ইউপি ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় তালিকা করে ধান লাগানোর জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দুই শত পঞ্চাশজন কৃষককে ব্রি-ধান ৩৪ ভিত্তি বীজ এবং সরকারের তরফ থেকে ১.৬৫ শতক বীজ তলা চারা একশ জন কৃষককে প্রদান করা হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী যোগান না থাকায় সব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহযোগিতা পান নি বলে জানা যায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ(চঃদাঃ) বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় উপজেলা জুড়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠকসহ কৃষকদের সচেতনতায় মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কাজ করছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাজারহাটে ১ঘন্টায় ৭ লাখ বৃক্ষরোপন সম্পন্ন

আলতাফ হোসেন সরকার, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা ঃ সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাজারহাট প্রকল্প ...

বাগাতিপাড়ায় ন্যায্য দাম না থাকায় ক্ষেতেই পাট কেটে নষ্ট করছেন কৃষক

মোঃ মিজানুর রহমান, বাগাতিপাড়া : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় খরচের তুলনায় দাম না থাকায় ...