ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | পরিবেশ | ঘাটাইলের রসুলপুরে বংশাই নদীতে সেতু নেই, ভোগান্তি চরমে

ঘাটাইলের রসুলপুরে বংশাই নদীতে সেতু নেই, ভোগান্তি চরমে

রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের পাহাড়ি জনপদের মানুষ। রসুলপুর ইউনিয়ন কার্যালয় ও পেঁচারআটা হাটসংলগ্ন স্থানে বংশাই নদীতে সেতু নেই। আর এই সেতুর অভাবে সাঁকো দিয়ে এক বস্তা সার বা ধান পারাপার করতে কৃষককে গুনতে হয় ২০ টাকা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ১৫ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো। সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। সাঁকোই ভরসা এলাকাবাসীর।

জানা যায়, নদীর পাড়সংলগ্ন সাঁকোর পূর্ব পাশে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর পাশেই পেঁচারআটা বাজার ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া নদীর পূর্বপাড়ে ধলাপাড়া কলেজ, এসইউপি গণ উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দন বালিকা গণ উচ্চ বিদ্যালয় ও মাটিআটা দাখিল মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের নদীর পশ্চিমপাড়ের শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। এছাড়া ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত এই সাঁকো দিয়ে। উপজেলার পাহাড়ি জনপদের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। অঞ্চলটি সবজির এলাকা হিসেবে খ্যাত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। সেতু না থাকার কারণে এলাকায় এক মণ ধান বা এক বস্তা সার সাঁকো দিয়ে পার করতে কৃষককে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ২০ টাকা। বাঁশের সাঁকোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ ফুট।

পেঁচারআটা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অনেক সময় ক্ষেতের সবজি ক্ষেতেই পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এ পর্যন্ত সাঁকো থেকে পড়ে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মুদি দোকানি ফারুক হোসেন বলেন, একবার এক ছাত্র সাঁকো থেকে পড়ে স্কুলব্যাগ ধরে পানিতে ভাসছিল। পরে তাকে উদ্ধার করি। কি বর্ষা কি শুকনো মৌসুম, সাঁকোই একমাত্র ভরসা। সাবেক ইউপি সদস্য সাজেদা বেগম বলেন, আমি বুড়া মানুষ, মেলা কষ্টে সাঁকো পার হই। মরার আগে যদি সেতু দেইখা যাবার পাইতাম!’ রামপুর গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই আসে এবং প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু সেতু হয় না।

রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক সরকার বলেন, মানুষের ভোগান্তি আর সহ্য হয় না। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে সেতু নির্মাণ এলাকার মানুষের অনেক দিনের দাবি।

ঘাটাইল উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হলে বাঁচবে এলাকার কৃষক এবং রাতারাতি উন্নয়ন হবে।

ঘাটাইল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ওয়ালিউর রহমান বলেন, বংশাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্নিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তৃতীয়বারের মত শৈলকুপা পৌর মেয়র নির্বাচিত হলেন আ.লীগের কাজী আশরাফুল আজম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : তৃতীয়বারের মত ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগের ...

শৈলকুপা পৌর নির্বাচন : উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া মধ্য দিয়ে শেষ হল ভোট

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর নির্বাচনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা, ধাওয়া ...