ব্রেকিং নিউজ
Home | জাতীয় | ঘরমুখো মুসল্লিদের পথে পথে দুর্ভোগ

ঘরমুখো মুসল্লিদের পথে পথে দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার :  শেষ হলো ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত। এবার বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু মুসল্লিদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে। বাড়িফেরা মুসল্লিরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। টঙ্গী ইজতেমা প্রাঙ্গণ থেকে চারদিকের বিভিন্ন সড়কে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

দেখা যায়, ট্রেনের ভেতর, ছাদে সব জায়গায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। একজন অপরজনকে টেনে তুলছেন ট্রেনের ছাদে। তবে ফিরতি পথে রাস্তায় দুর্ভোগ এড়াতে পারলে ভালো হতো বলে মনে করছেন মুসল্লিরা।

মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য সিলেট থেকে আসা সোলাইমান বলেন, আমি ট্রেনে এসেছি। তবে এখন ট্রেনে উঠতে পারছি না। দেখি বাসের টিকিট পাওয়া যায় কিনা। ইজতেমার পরিবেশ খুব সুন্দর। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও ভালো করা দরকার।

কুমিল্লা থেকে ইজতেমায় আসা মুসল্লি আজিজুল হক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একজনের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, নিচে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা ধরে জানালা দিয়ে বলছি ভিতরে চাপুন। কিন্তু তারা দরজা থেকে ভিতরের দিকে ঢোকে না। আমাদের ট্রেনে উঠতে দেয় না। আমরা কুমিল্লার মানুষ এতো খারাপ না। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পর টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এ দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে মোনাজাত শেষে মুসল্লিদের ঘরে ফেরার তাগিদ লক্ষ্য করা যায়। শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো।

ইজতেমা ফেরত মানুষ ভ্যান, রিকশা, অটোরিকশা, পিকআপ, ট্রাক ও বাসযোগে ঘরে ফিরছেন। তবে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় ঢাকার আশপাশের অনেক মানুষকে হেঁটে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে। দুর্ভোগ সঙ্গী করে টঙ্গী ছাড়ছে মানুষ। ট্রেনে ও বাসে ঠাঁই নেই। সড়কে তীব্র যানজট আর গলাকাটা ভাড়া। পথে পথে দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনাকে সঙ্গী করে টঙ্গী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ।

ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ছাদে বসে আর দরজা জানালায় ঝুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছে তারা। বাসেও ঠাঁই নেই। দূরপাল্লার বাসের টিকিট এখন সোনার হরিণ। দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দিয়েও যথাসময়ে গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে না। সড়ক -মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে ভেঙে পড়েছে বাসের সিডিউল। ট্রেনেও সিডিউল বিপর্যয় দেখা না দিলেও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনের ভিতর থেকে দরজা আটকে দেয়া হয়। সবকটি ট্রেন ছিল যাত্রীতে ঠাঁসা। প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে ছাদে এমনকি দরজা-জানালায়ও যাত্রীদের ঝুলে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের ভিড়ে ট্রেনের ভেতর যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ছাদে দেখা যায় অসংখ্য যাত্রী।

ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে উঠতে না পেরে অনেককেই হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আর যারা ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে পেরেছে তাদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস। অনেকেই ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করে সুযোগ না পেয়ে উঠেছেন ছাদে।

টঙ্গী স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, আন্তঃনগর, বিশেষ, লোকালসহ সব ধরনের ট্রেন বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে টঙ্গীতে (স্টপিজ) থামানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীগামী সব ট্রেনে ভিড় ছিল অস্বাভাবিক।

রেল কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রী পরিবহনে এবারও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবার ইজতেমায় স্পেশাল ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-খুলনা, দিনাজপুরসহ সব রুটে অনেকগুলো ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা সহজে বাড়ি ফিরতে পারবেন। তবে দেখা গেছে, ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশ সফররত ...

মে দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশ করার প্রস্তুতি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার : মহান মে দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশ ...