Home | অর্থনীতি | ব্যাংক ও বীমা | গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর বরিুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকরে র্কমর্কতা-র্কমচারী এবং নর্বিাচতি র্বোড সদস্যদরে প্রতবিাদ সভা

গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর বরিুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকরে র্কমর্কতা-র্কমচারী এবং নর্বিাচতি র্বোড সদস্যদরে প্রতবিাদ সভা

সোলায়grameen bank pic 1মান শাওন,  ঢাকাঃ গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর পরিবর্তে গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ জারী করার নামে বর্তমান সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক ৮৪ লক্ষ দরিদ্র নারীকে ক্ষমতাহীন করার ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করনে গ্রামীণ ব্যাঙ্করে র্কমর্কতা র্কমচারীরা। এর বরিুদ্ধে প্রতবিাদ জানাতে রাজধানী মরিপুররে গ্রামীন ব্যাংকরে প্রধান র্কাযালয় প্রাঙ্গনে এক প্রতবিাদ সভার আয়োজন করে ব্যাংকটরি র্কমর্কতা র্কমচারীরা। এসময় তাদরে পক্ষ থকেে গণমাধ্যমরে কাছে একটি প্রসেনোট দয়ো হয় যখোনে তাদরে বভিন্নি দাবি দাওয়ার উল্লখে থাক।ে প্রসেনোটটি হুবহু নচিে দয়ো হল।

গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ এর নামে দরিদ্র মহিলাদের ক্ষমতাহীন করার বিরুদ্ধে

গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালকদের প্রতিক্রিয়া

তারিখঃ ৩১ অক্টোবর ২০১৩ ইং

গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর পরিবর্তে গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ জারী করার নামে বর্তমান সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক ৮৪ লক্ষ দরিদ্র নারীকে ক্ষমতাহীন করার যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

কিছুদিন পূর্বে সরকার কর্তৃক গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ১৪ নং অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে পরিচালনা পরিষদের ক্ষমতা খর্ব করে চেয়ারম্যানের (যিনি সরকার নিযুক্ত) ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। আমরা এর প্রতিবাদ করলেও সরকার তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। এর পর পরই একটি গোপন ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় সরকার গ্রামীণ ব্যাংকে তার নিজস্ব লোক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বসানোর উদ্যোগ নেয়। আমরা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে হাইকোর্টের নির্দেশে এই চক্রান্ত বন্ধ হয়।

কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক এর ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতা নারীর ক্ষমতা কেড়ে নেবার সরকারী চেষ্টা থেমে থাকেনি। গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ এর মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশে পরিবর্তন এনে সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকৃত ক্ষমতা, যা গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ মোতাবেক এর ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ন্যস্ত ছিল, এখন কৌশলে সরকারের হাতে নিয়ে যাবার উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে শুধুমাত্র গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডারদের বঞ্চিত করাই নয়, গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করারও পায়তারা করছে।

গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ১১ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন নির্বাচিত পরিচালকের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং তাঁর উত্তরসূরী যোগদান না করা পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন। নতুন আইনে উত্তরসূরী যোগদান না করা পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকার বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ তিন বছর পর একজন নির্বাচিত পরিচালকের পদ শুণ্য হয়ে যাবে, তাঁর উত্তরসূরী যোগদান করুন বা না করুন (সরকার নিযুক্ত পরিচালকরা অবশ্য সরকারের সন্তুষ্টি অনুযায়ী যে-কোন সময়ে নিয়োগ পেতে পারেন)। গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের  ১৭ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালনা পরিষদের চার জন সদস্যর উপস্থিতিতে সভার কোরাম হবে। নতুন আইনের ১৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত পরিচালকের পদ শুণ্য হলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালক নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান এবং সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অপর দুই জন পরিচালকের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হবে। অধ্যাদেশের ১৭ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সভার সময় ও স্থান পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত হবে। নতুন আইনের ১৭ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চেয়ারম্যান যে কোন সময় ও স্থানে সভা আহ্বান করতে পারবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সরকার পরিচালক নির্বাচন বিধি পরিবর্তন করে এতদিন যে পদ্ধতিতে গ্রামীণ ব্যাংকে পরিচালক (ঋণগ্রহীতাদের প্রতিনিধিত্বকারী) নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তাতে আমুল পরিবর্তন এনে একটি রাজনীতিমূখী ও গ্রামীণ ব্যাংক-বিধ্বংসী নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান নির্বাচিত পরিচালকদের, যারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডারের ভোটে নির্বাচিত, পদচ্যূত করে সরকার-নিযুক্ত চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের মাধ্যমে (১২ জনের পরিচালনা পরিষদে যাদের সংখ্যা মাত্র ৩ জন) মিটিং ডেকে সরকারের বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নই (বিশেষ করে বর্তমান জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে) যে এই কৌশলের উদ্দেশ্য তা না-বোঝার মত নির্বোধ আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের মহিলারা নই!

গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৩০ নং অনুচ্ছেদ (অনুচ্ছেদের নাম “ইনডেমনিটি”) অনুযায়ী ব্যক্তিগত অবহেলা বা ক্রুটিজনিত কারনে ছাড়া ব্যাংকের একজন পরিচালক তাঁর দায়িত্ব পালনকালে তাঁর দ্বারা সংঘঠিত ব্যাংকের কোন লোকসান ও ব্যয়জনিত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন। গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ -এ পরিচালকদের এই “ইনডেমনিটি” তুলে দেয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৩৫ নং অনুচ্ছেদে কেবলমাত্র পরিচালক নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারকে দেয়া হয়েছিল। গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ এর ৩৪ ও ৩৬ নং অনুচ্ছেদে গ্রামীণ ব্যাংক সংক্রান্ত যে-কোন বিধি প্রণয়নের এবং এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করার ক্ষমতা সরকারকে দেয়া হয়েছে। আমরা ঋণগ্রহীতারা গ্রামীণ ব্যাংকের সংখ্যগরিষ্ঠ শেয়ারের মালিক এবং পরিচালনা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পরিচালনা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে ব্যাংকের সকল নীতি-নির্ধারণী বিষয় সরকারের মালিকানায় নিয়ে যাওয়া ব্যাংকের ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডারকে ক্ষমতাহীন করার নামান্তর নয় কি?

আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকৃত মালিক এর ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডারকে ক্ষমতাহীন করার এবং ব্যাংকটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরোপুরি সরকারী নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সরকারী উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছি এবং গত তিন দশক ধরে গ্রামীণ ভুমিহীন মহিলাদের সৎ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকটি যেভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে, দেশে ও বিদেশে দারিদ্র বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নের একটি মডেল হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং নোবেল পুরষ্কারসহ বিপুল সম্মানে ভূষিত হয়েছে, তাকে সেভাবেই চলতে দেবার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ বাতিল করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লক্ষ সদস্যর পক্ষে ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালকবৃন্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কালীগঞ্জে রুপালী ব্যাংকের নতুন শাখা উদ্বোধন

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চামটাহাট বাজারে সম্পূর্ণ অনলাইন সুবিধা নিয়ে ...

টুঙ্গিপাড়ায় কৃষকদের মাঝে কৃষিঋণ বিতরন

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বেসিক ব্যাংক লিমিটেড প্রকাশ্যে কৃষি ও পল্লী ...