ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | গোবিন্দগঞ্জে থানা হেফাজতে ধর্ষিত কিশোরীর দেওয়া ঠিকানা ও পরিচয় নিয়ে প্রশাসনে ধূম্রজাল!

গোবিন্দগঞ্জে থানা হেফাজতে ধর্ষিত কিশোরীর দেওয়া ঠিকানা ও পরিচয় নিয়ে প্রশাসনে ধূম্রজাল!

gaibandha mapছাদেকুল ইসলাম রুবেল,,গাইবান্ধা : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে থানা পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগে থানার অজ্ঞাত পাঁচজন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী ওই রহস্যময়ী কিশোরীর সঠিক পরিচয় এখনও পুলিশ জানতে পারেনি। ডাক্তারী পরীক্ষায় কিশোরীকে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছে।পুলিশ ও আদালতে সিমা ফরিদপুরের ভাংগা উপজেলার পৌর এলাকার দাড়িয়া মাঠের আব্দুল জোব্বারে কন্যা বলে পরিচয় দেয়। তার সৎভাই সুজন কলেজ পরে বলে জানায়। কিশোরীকে গাইবান্ধা থেকে গত শুক্রবার রাজশাহী সেল হোমে পাঠিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।এ ব্যাপারে থানা পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত হতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও ভাংগা থানায় ম্যাসেজ পাঠায়। তবে ভাংগা থানা পুলিশ সিমার দেওয়া ঠিকানায় যাচাই করে ওই নামে ওই এলাকায় তার পরিবারের কাউকে পায়নি এবং কলেজে খোঁজ করে তার সৎভাই সুজনকে পায়নি। দীর্ঘ দিনেও কিশোরীর পরিচয় না পাওয়ায় বিপাকে পরেছে তদন্তকারী ডিবি পুলিশ অফিসার। পুলিশ জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের অদূরে মাস্তা নামক স্থানে ওই কিশোরীকে কান্নাকাটি করতে দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আকমল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওইদিন রাতেই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) লিপিবদ্ধ করে পুলিশ।৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ কিশোরীকে গোবিন্দগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো.তারিক হোসেন এর আদালতে হাজির করে। আদালত ওইদিন কিশোরিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।এরপর গত ২ অক্টোবর পুনরায় কিশোরীকে গোবিন্দগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আদালত কিশোরীর জবানবন্দি এজাহার হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ৩ অক্টোবর পুলিশকে নির্দেশ দেন। গত ৪ অক্টোবর থানায় মামলা রুজু করা হয় এবং ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেয়। গোবিন্দগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের নির্দেশের পর গত ৪ আক্টোবর শুক্রবার রাতে এই মামলা রুজু করা হয়। ফরিদপুর জেলার ভাংগা উপজেলার সতের বছরের বয়সী কিশোরী বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আহসান হাবিবকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন ওই কিশোরীর দেওয়া নাম ঠিকানা মতে ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে ওই নামে কোন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হানিফ বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গত ৬ অক্টোবর রবিবার কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং ৯ অক্টোবর মেডিকেল বোর্ড প্রতিবেদন দাখিল করেছে। কিশোরীকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজত থেকে ১১ অক্টোবর রাজশাহী সেল হোমে পাঠানো হয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গত ৪ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। কিশোরীর জবানবন্দিতে পাঁচ পুলিশ সদস্যের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই কিশোরি পাঁচ পুলিশ কনস্টেবলের নাম জানাতে পারেনি। তাই আদালতের অনুমতি নিয়ে কিশোরীর মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
জেলা পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন জানান, এই ঘটনা তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেনকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দুইজন এএসপি (হেডকোয়ার্টার) আব্দুল কুদ্দুস ও এএসপি (বি সার্কেল) মাহবুব হোসেন। তারাও তদন্ত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ৪৪তম বিজ্ঞান মেলা- ২০২২ উদযাপিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৪৪তম জাতীয় ...

মদনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ- ২০২২ উদযাপন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ ‘দুর্ঘটনা দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ...