Home | ব্রেকিং নিউজ | খুড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় রোগীদের দূর্ভোগ

খুড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় রোগীদের দূর্ভোগ

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা সময়মত ডিউটি না করায় দূর্ভোগে পরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা। জোড়াতালি দিয়ে খুড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এর মধ্যেই বেশি দুভোর্গে পড়েছেন ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুরা। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, জরুরী বিভাগে ডাক্তাদের টিউটি থাকলেও উপস্থিত নেই। রোগীর স্বজনরা জরুরী বিভাগে রোগী নিয়ে উপস্থিত হয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার না থাকায় চেচামেচি ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও অনেকক্ষণ পার হওয়ার পরে ডাক্তার উপস্থিত হওয়ার মত ঘটনা নিত্যদিনই ঘটছে। উপজেলার চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি চালু করলেও ডাক্তারের অবহেলায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাটির জনগন। সরকারী ভাবে ২টি এম্বুলেস থাকলেও ১টি দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে থাকায় অপর একটি দিয়ে রোগীদের জরুরী রোগীদে যাতায়তের জন্য ব্যবস্থা থাকলেও তার সুফল পাচ্ছে না রোগীরা।

জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলা কমপ্লেক্সটিতে ১৬ জন ডাক্তার পদের মধ্যে কর্মরত ডাক্তার রয়েছেন ৪ জন ২৪টি নার্স পদের মধ্যে কর্মরত নার্স রয়েছেন ২২জন কিন্তু তাদের অবহেলার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ।

উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের নুর আলম মিয়া জানান, গত ১৩ তারিখ রাত ১০টায় ডায়রিয়া রোগে আক্রাšত আমার পুত্র রিফাত (১) কে হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগে প্রায় ৩৫মিনিট অপেক্ষা করার পরও কর্তব্যরত ডাক্তার না থাকায় রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ি। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার না আসায় ডাক্তার সাদ্দাম হোসেন এসে আমার ছেলে কে চিকিৎসা প্রদান করেন।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্যা মোমেনা বেগম জানান, আমার মেয়ে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আমি হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং সময়মত ডাক্তার পাইনি যদিও দেরিতে ডাক্তার পাই কিন্তু রোগীর ওষধপত্র দোকান থেকে কিনে আনতে হচ্ছে । এমনকি স্যালাইন দেয়ার কেনুলাটিও হাসপাতালে না থাকায় বাহিরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

দাশিয়ার ছড়া কামালপুর গ্রামের শরিফা বেগম (২৮) জানান, গত ১৩ এপ্রিল আমার ৯ মাসের শিশু ডায়রিয়া রোগে আক্রাšত হলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার খাবার সেলাইন ও পুশ করা স্যালাইন দেয়। পরের দিন ক্যানুলাতে সমস্যার কারনে বাচ্চাটি কাঁদতে থাকলে আমি বার বার নার্সদের ডিউটি রুমে যাই কিন্তু নার্সদের রাগারাগি কথা শুনে আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ীতে ফিরে আসি ।

উপজেলা রামপ্রসাদ গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রেফার্ট রোগী মমিনুল ইসলাম (৩৩) এর স্বজন সিরাজুল ইসলাম জানান, ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে রোগী নিয়ে রংপুর যাওয়ার জন্য ফুলবাড়ী হাসপাতালের এম্বুলেস ড্রাইভার একাব্বরকে জানালে তিনি বলেন বিশেষ কাজে বাহিওের আছি।পরে তিনি তার ব্যক্তিগত মাইক্রোটি রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৭ শ টাকা ভাড়া ঠিক করে দেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ গোলাম কিবরিয়া জরুরী বিভাগে দেরিতে কর্মরত ডাক্তার আসার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মিস আন্ডাটেনিংয়ের কারণে ১৫ মিনিট পর ডাক্তার এসেছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফেনে কথা হলে তিনি জানান, অবহেলাকারী ডাক্তার ও নার্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জাপানে সংসদের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে আবের জয়

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : জাপানের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের দল এলডিপি ও তার জোট ...

ফের ব্যালট পেপার চালুর ডাক মমতার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : নির্বাচনে ইভিএমের বদলে আবারও ব্যালট পেপার চালুর ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ...